default-image

গত বছরের নভেম্বরে নিজ ঘরে অপরাধটা করেছিলেন রায়ান গিগস। ইংলিশ দৈনিক ডেইলি মিরর সে সময় জানিয়েছিল, ধারণা করা হচ্ছে, বান্ধবী ও আরেক নারীর গায়ে হাত তুলেছেন। শারীরিক নিপীড়নের দায়ে সে সময় পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তারও করেছিল। জামিনে তখন মুক্তি পেয়েছিলেন ওয়েলস জাতীয় দলে গ্যারেথ বেলদের কোচ।

কিন্তু আইনি জটিলতা এখনো শেষ হয়নি। ২৮ এপ্রিল আদালত ডেকেছেন গিগসকে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কিংবদন্তি ওয়েলশ ফরোয়ার্ড অবশ্য নিজেকে নির্দোষ দাবি করছেন।

তাঁর ভাগ্যে আদালত থেকে শেষ পর্যন্ত কী রায় আসবে, সময় বলবে। তবে ফুটবল থেকে একটা শাস্তি পেয়েই গেলেন গিগস। ২০২০ ইউরোতে তাঁকে ওয়েলস জাতীয় দলের ডাগআউটে না রাখার ঘোষণা দিয়েছে ওয়েলসের ফুটবল ফেডারেশন। তাঁর বদলে এরই মধ্যে বেলদের দায়িত্ব দিয়ে দেওয়া হয়েছে সহকারী কোচ রবার্ট পেইজকে।

বিজ্ঞাপন

৪৭ বছর বয়সী গিগসের বিরুদ্ধে অভিযোগ সব মিলিয়ে তিনটি। গত বছরের নভেম্বরে ইংল্যান্ডের গ্রেটার ম্যানচেস্টারের স্যালফর্ডে পুলিশে অভিযোগ করেছিলেন দুই নারী, পুলিশকে বাড়িতে ডাকা হয়েছিল। ওই দুই নারীর মধ্যে একজনকে আঘাতের জন্য চিকিৎসাও নিতে হয়েছে।

দুই নারীর একজনের বয়স ৩০-এর বেশি, আরেকজন ২০-এর ঘরে। এই দুই অভিযোগের বাইরে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে গিগসের বিরুদ্ধে অন্যের ওপর জোর প্রয়োগের অভিযোগও আছে।

default-image

গত নভেম্বরের অভিযোগের বিপরীতে পুলিশ এখন গিগসের বিরুদ্ধে চার্জও এনেছে, যুক্তরাজ্যের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস (সিপিএস) তা নিশ্চিত করেছে। এরপরই কাল ওয়েলশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএডব্লু) বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে গিগসকে ২০২০ ইউরো থেকে সরিয়ে দেওয়ার খবর, ‘ছেলেদের জাতীয় দলের কোচ রায়ান গিগসের বিরুদ্ধে চার্জ আনার ব্যাপারে সিপিএসের সিদ্ধান্তের বিষয় জেনেছে ওয়েলসের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। সেই সিদ্ধান্তের আলোকে এফএডব্লু নিশ্চিত করছে, এই গ্রীষ্মের ২০২০ ইউরো টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে রবার্ট পেইজ ছেলেদের জাতীয় দলের দায়িত্ব নেবেন। তাঁর সহকারী হিসেবে থাকবেন আলবার্ট স্টুইভেনবার্গ।’

২০২০ সালের নভেম্বরে গিগসকে পুলিশ গ্রেপ্তার করার পরই ওয়েলসের অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছিলেন পেইজ। তাঁর অধীনে উয়েফা নেশনস লিগের শীর্ষ স্তরে উঠেছে ওয়েলশ, বেলদের ২০২২ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের শুরুও হয়েছে তাঁর হাতেই।

এ মুহূর্তে জামিনে থাকা গিগস অবশ্য বিবৃতিতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে লিখেছেন, ‘আইনের প্রক্রিয়ার ব্যাপারে আমার পূর্ণ সম্মান আছে, অভিযোগ কতটা গুরুতর তা-ও আমি বুঝি। আদালতে আমি নিজেকে নির্দোষ দাবি করব। অভিযোগ থেকে নিজের নাম সরিয়ে নিতে পারব বলে আশা করছি।’ পাশাপাশি ওয়েলস জাতীয় দলের দায়িত্ব রবার্ট পেইজকে শুভকামনাও জানিয়েছেন গিগস।

default-image

১৯৯০ সালে অভিষেকের পর ২৪ বছর ম্যান ইউনাইটেডেই খেলে অবসর নেওয়া গিগস ক্লাবটার হয়ে ৬৭২ ম্যাচ খেলেছেন। ১৩টি প্রিমিয়ার লিগের পাশাপাশি জিতেছেন দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগও। অবসরের পর প্রথমে ডেভিড ময়েস ও পরে লুই ফন গালের অধীনে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে সহকারী কোচ ছিলেন। ওয়েলসের হয়ে ৬৪ ম্যাচ খেলা গিগস ইংল্যান্ডের চতুর্থ স্তরের ক্লাব স্যালফোর্ড সিটিরও মালিকদের একজন। মালিকানায় তাঁর সঙ্গীদের মধ্যে আছেন ডেভিড বেকহাম, গ্যারি নেভিলরা।

ক্রিস কোলম্যান ওয়েলসের দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার পর ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে সে দায়িত্ব নেন গিগস। তাঁর অধীনেই ২০২০ ইউরোতে জায়গা করে নেন বেলরা।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন