বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ঘণ্টা দুয়েকের সাধারণ সভার আনুষ্ঠানিকতা শেষে বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন সপারিষদ আসেন সংবাদমাধ্যমের কাছে মূল বিষয়গুলো জানাতে। তবে তিনি কথা বলেছেন খুবই কম। মাত্র কয়েক মিনিটেই ব্রিফিং শেষ।

কাজী সালাউদ্দিনের কথার সারমর্ম হলো, সাধারণ সভা শান্তিপূর্ণ হয়েছে। সবাই সবকিছুই অনুমোদন করে দিয়েছেন। কোনো সমস্যা হয়নি।

default-image

অবশ্য দুই–একবার বিচ্ছিন্ন বিতর্ক ছাড়া বাফুফের সাধারণ সভা মানেই বিনা প্রশ্নে সবকিছুতে সিলমোহর মারা। কাউন্সিলররা এই অনুষ্ঠানে নিশ্চুপই থাকেন। কেউ কেউ নেতৃত্বকে প্রশংসায় ভাসান। ব্যতিক্রম হয়নি আজও।

জেলা ও বিভাগীয় সংগঠক পরিষদের নেতা নড়াইলের আশিকুর রহমান (মিকু) বাফুফের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে বক্তব্য দেন।

তবে দেশের ফুটবল উন্নয়ন নিয়ে বাফুফের এই ব্যয়বহুল এবং জাঁকজমকপূর্ণ সাধারণ সভায় কোনো অলোচনা হয়নি। সবাই আসেন যেন আনুষ্ঠানিকতা সারার জন্য।

ফুটবলের উন্নয়ন নিয়ে কথা হয়েছে কি না, প্রশ্ন করা হলে বাফুফে সভাপতি বলেন, ফুটবলের উন্নয়নবিষয়ক আলোচনার জন্য সাধারণ সভা উপযুক্ত স্থান নয়। সাধারণ সভা মানে হিসাবপত্র অনুমোদন। অনেকে অবশ্য বলছেন, ফুটবলের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হতে বাধা নেই সাধারণ সভায়। কেননা, এই অনুষ্ঠানে সারা দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকেন। কিন্তু ফুটবলের উন্নয়নবিষয়ক আসল আলোচনাই এখানে উপেক্ষিত।

default-image

মূল বিষয় আয়–ব্যয়। কিন্তু সেই আয়–ব্যয়ের হিসাবের কোনো লিখিত কাগজপত্র দেওয়া হয়নি সংবাদিকদের। সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন সংবাদিকদের বলেন, ‘আয়–ব্যয়সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া হবে বাফুফের ওয়েবসাইটে। সেখানে আপনারা সব পেয়ে যাবেন।’ তবে অতীতে এমন বলা হলেও আয়–ব্যয়সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সব তথ্য পাওয়া যায়নি বাফুফের ওয়েবসাইটে। এ ব্যাপারে বাফুফের এক সদস্যের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সব তথ্য তো সাংবাদিকদের লিখিতভাবে দেওয়া হয়েছে।’

কিন্তু কিছুই দেওয়া হয়নি। তিনিও হয়তো বিষয়টা এড়িয়ে গেছেন।

আজ সাধারণ সভা শেষে বাফুফের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী শুধু জানান, এ বছর বাফুফের আয় ১৫ কোটি টাকা। ব্যয় ২৪ কোটি। অর্থাৎ ৯ কোটি টাকা ঘাটতি। ২০২২ সালে বাফুফের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১ কোটি টাকার বেশি।

আয় ২৫ কোটি। অর্থাৎ এখানে প্রায় ১৭ কোটি টাকা ঘাটতি। এই ঘাটতি কোথা থেকে পূরণ হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সালাম মুর্শেদীর উত্তর, ‘বিভিন্ন স্পনসর থেকে টাকা এনে এই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করব।’

default-image

বাফুফের কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, দেশের ফুটবল এখন ঘাটতি বাজেটের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। যেখানে আয়ের চেয়ে ব্যয়ের কথা বলা হচ্ছে বেশি। কিন্তু কোন খাতে কী খরচ হলো, বা আগামীতে কোন খাতে কী খরচ ধরা হয়েছে, তার কিছুই জানা গেল না আজকের সভা শেষে।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন