এ জার্সিটা আবার পরা হলো না বাবার জন্য।
এ জার্সিটা আবার পরা হলো না বাবার জন্য।ফাইল ছবি: এএফপি

নেইমার ফিরবেন। নেইমার ফিরবেন না।

বছরখানেক আগে বার্সেলোনার সমর্থকদের গ্রীষ্মকালীন দলবদল কেটেছিল এই দোলাচলে। একমুহূর্তে শোনা যেত ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের পিএসজি ছেড়ে বার্সেলোনায় ফেরার সব ঠিকঠাক, তো পরমুহূর্তে আসত কোনো না কোনো ঝামেলার খবর। নেইমার নিজেও ফিরতে চাওয়ার ইচ্ছার কথা প্রকাশ্যেই জানিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বার্সায় আর ফেরা হয়নি নেইমারের। পিএসজিতেই থেকে গেছেন, গত মৌসুমে পিএসজিকে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালেও উঠিয়েছেন।

কিন্তু এত দিন পর আবার শোনা যাচ্ছে, শুধু নেইমারের বাবার অর্থলোভেই বার্সায় ফেরা হয়নি নেইমারের। সে সময়ে জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউর অধীনে বার্সেলোনার বোর্ডে পরিচালক হিসেবে কাজ করা হাভিয়ের বোর্দাস জানিয়েছেন এমন তথ্য।

বিজ্ঞাপন

শুধু বাবা-ছেলেই নয়, নেইমার সিনিয়র আর নেইমার জুনিয়রের আরেকটা সম্পর্কও আছে। নেইমার সিনিয়র, মানে নেইমারের বাবা আবার কাজ করেন নেইমারের প্রতিনিধি হিসেবে। গত বছরের আগস্টে পিএসজির সঙ্গে নেইমারের দলবদলের আলোচনা যখন আলোর মুখ দেখবে দেখবে করছে, তখনই নাকি বাড়তি আরও কিছু অর্থ দাবি করে বসেন নেইমার সিনিয়র। এমনই দাবি বোর্দাসের।

‘আমরা সম্ভাব্য সব উপায়ে চেষ্টা করেছি (নেইমারকে ফেরানোর)। চুক্তি সই করার খুব কাছেও চলে গিয়েছিলাম। পিএসজিকে রাজিও করিয়ে ফেলেছিলাম। যেখানে এর আগে ভেরাত্তি, মারকিনিওস বা থিয়াগো সিলভার ক্ষেত্রে ওরা কোনো কিছুতেই রাজি হয়নি। ওরা খেলোয়াড় বিক্রি করার মতো ক্লাব নয়। কিন্তু আমরা এত কাছে চলে গিয়েছিলাম যে নেইমারেরও বিশ্বাস হয়ে গিয়েছিল ও আসবে, আমাদেরও তেমনি বিশ্বাস ছিল’—বার্সেলোনাভিত্তিক স্প্যানিশ ক্রীড়াদৈনিক মুন্দো দেপোর্তিভোতে বলেছেন বোর্দাস।

কিন্তু এত কাছে গিয়েও নেইমারের দলবদলটা হয়নি কেন? সে ব্যাখ্যায় বোর্দাস বললেন, ‘চুক্তি গুছিয়ে আনার আগমুহূর্তে নেইমারের বাবা অর্থের দিক থেকে একটা পার্থক্য তৈরি করেন, কিন্তু দুই ক্লাব সেটিতে রাজি হয়নি।’

default-image

এই বোর্দাসের সঙ্গে নেইমারের সম্পর্ক ভালো বলে জানাচ্ছে ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম ইউওএল এস্পোর্তে। গত বছরে নেইমারকে ফেরানোর জন্য পিএসজির সঙ্গে কথা বলতে বার্সেলোনার সে সময়ের প্রধান নির্বাহী অস্কার গ্রাউ ও ক্রীড়া পরিচালক এরিক আবিদালের সঙ্গে প্যারিসে গিয়েছিলেন বোর্দাসও।

বার্সেলোনার গত মৌসুমে নেইমারকে ফেরাতে চাওয়ার পেছনে লিওনেল মেসির অনেক বড় ভূমিকা ছিল বলে শোনা যায়। এর আগের মৌসুমে, অর্থাৎ ২০১৮–১৯ মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে লিভারপুলের কাছে সেমিফাইনালে লজ্জা নিয়ে বিদায়ের পর মেসি নাকি নেইমারকে ফোন করে বলেছিলেন, বার্সেলোনার চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে তাঁর পাশে নেইমারকেও লাগবে। ২০১৭ সালের আগস্টে দলবদলের বিশ্ব রেকর্ড গড়ে ২২ কোটি ২০ লাখ ইউরোতে পিএসজিতে যাওয়া ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডেরও নাকি প্যারিসে আর মন টিকছিল না, নিজের ‘ঘর’ বার্সেলোনায় ফিরতে উন্মুখ ছিলেন।

বিজ্ঞাপন
যে দুবার নেইমারের ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছিল, ও নিজেও অনেক বেতন ছাড় দিতে রাজি ছিল।
হাভিয়ের বোর্দাস, বার্সেলোনার সাবেক বোর্ড পরিচালক

শেষ পর্যন্ত নেইমারকে বার্সেলোনা আনতে যখন পারেনি, তখন আবার স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমে গুঞ্জন ওঠে, মেসি নাখোশ। বার্সেলোনার বোর্ড ও বার্তোমেউ আসলেই নেইমারকে ফেরাতে সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছিল কি না, সেটি জানেন না বলে এক সাক্ষাৎকারে জানান মেসি। এখন বোর্দাসের কথায়ও ইঙ্গিত, মেসি আসলেই রুষ্ট হয়েছিলেন, ‘আমার মনে হয় মেসির এখনো এ নিয়ে খারাপ লাগে, কারণ, ও ভেবেছিল ওকে (নেইমার) নিয়ে আসা যাবে, কিন্তু সেটা হয়নি।’

শুধু মেসিই নন, বার্সেলোনার অন্য খেলোয়াড়েরাও নেইমারকে ফেরাতে নিজেদের মতো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত ছিলেন। নেইমার নিজেও বেতন কমাতে রাজি ছিলেন বলে জানালেন বোর্দাস, ‘কয়েকজন খেলোয়াড় তাদের বেতনের কিছু অংশ ছাড় দিতে প্রস্তুত ছিল, যাতে নেইমারকে ফেরানো যায়। যদিও আর্থিক সংগতির নীতি বা লা লিগার নিয়মের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে সবাইকেই সে ক্ষেত্রে বেতনের একটা নির্দিষ্ট অংশ ছাড় দিতে হতো। যে দুবার নেইমারের ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছিল, ও নিজেও অনেক বেতন ছাড় দিতে রাজি ছিল।’

মন্তব্য পড়ুন 0