আসছে জুনে কে হবেন মেসিদের সতীর্থ?
আসছে জুনে কে হবেন মেসিদের সতীর্থ?ছবি : রয়টার্স

সম্প্রতি বার্সেলোনার আর্থিক দুর্দশার কথা প্রকাশ্যে চলে এসেছে। কাতালান ক্লাবটির এখন দেনা ১১৭ কোটি ৩০ লাখ ইউরো। অনেকেই বার্সার দেউলিয়া হওয়ার ভয়ও পাচ্ছেন। এর মধ্যে ক্লাবের স্থায়ী সভাপতিও নেই এখন। আগামী মার্চে নির্বাচন, এরপরই বোঝা যাবে বার্সেলোনার সভাপতি কে হতে চলেছেন।

এই দায়িত্বে যিনি নিযুক্ত হবেন, তাঁর সামনে পাহাড়সম বাধা। এমনিতেই ক্লাবের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয়, এর মধ্যে দলে খেলোয়াড়ও লাগবে বেশ। স্বাভাবিকভাবেই, খেলোয়াড় কেনার জন্য খুব বেশি টাকা হাতে নেই ক্লাবটায়।

বিজ্ঞাপন

ফলে সভাপতি পদপ্রার্থীরা ভোটযুদ্ধে নামার আগে সেভাবে আকাশকুসুম দলবদলের স্বপ্নও দেখাতে পারছেন না ক্লাবকে। নেইমার, এমবাপ্পে কিংবা হরলান্ডের মতো খেলোয়াড়দের বার্সায় আসার সম্ভাবনাটা তাই শূন্যের কাছাকাছি। আর এটা তিন প্রার্থীর মধ্যে ভিক্তর ফন্ত যেন একটু বেশিই বোঝেন।

মার্চের শুরুর দিকে হোয়ান লাপোর্তা ও টনি ফ্রেইসার সঙ্গে সভাপতির লড়াইয়ে নামতে যাওয়ার আগে এই স্প্যানিশ ব্যবসায়ী তাই নিজের একটা পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন ক্লাব সমর্থক ও কর্মকর্তাদের সামনে। বাস্তবমুখী সেই পরিকল্পনায় তিনি উল্লেখ করেছেন, ক্লাবের সভাপতি হলে তিনি কাকে কাকে দলে আনতে চান।

default-image

ফন্ত জানিয়েছেন, তিনি এমন আটজন খেলোয়াড়কে দলে আনার ব্যাপারে চেষ্টা করবেন, যাদের আনলে বার্সেলোনা আর্থিকভাবে সমস্যায় পড়বে না। এখানে আটজন খেলোয়াড়ের মধ্যে একটা মিল আছে, প্রত্যেকের সঙ্গেই তাঁদের বর্তমান ক্লাবের চুক্তি শেষ হচ্ছে আগামী জুনে। অর্থাৎ বার্সেলোনা চাইলে তাঁদের ফ্রিতেই দলে আনতে পারবে। দলবদল ফি বাবদ কোনো টাকা খরচ করতে হবে না। কোন সেই আটজন, যাঁরা ফন্তের তালিকায় আছেন? আসুন, দেখে নেওয়া যাক।

১. এরিক গার্সিয়া (ম্যানচেস্টার সিটি)

রক্ষণভাগে সামুয়েল উমতিতি চোটপ্রবণ, ক্লেমঁ লংলে ও জেরার্ড পিকের ফর্ম অনিয়মিত, রোনাল্ড আরাউহো অনভিজ্ঞ, আস্থা রাখা যায় না জাঁ-ক্লেয়ার তোদিবোর ওপর। সব মিলিয়ে একজন বা দুজন নতুন সেন্টারব্যাক আনা বার্সার জন্য আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে এক বছর ধরে।

ঐতিহ্যগতভাবে বার্সেলোনা এমন সেন্টারব্যাক খেলিয়ে থাকে, যাঁরা শুধু ট্যাকল বা বল কেড়ে নেওয়া নয়, বরং নিচ থেকে ছোট-বড় পাসের মাধ্যমে আক্রমণ গড়ে তুলতে সাহায্য করেন। এ জন্য বহুদিন ধরেই ম্যানচেস্টার সিটির স্প্যানিশ সেন্টারব্যাক এরিক গার্সিয়াকে মনে ধরেছে বার্সার।

গার্সিয়া সিটিতে যোগ দেওয়ার আগে বার্সার বয়সভিত্তিক দলের খেলোয়াড় ছিলেন। বার্সেলোনায় এলে মানিয়ে নেওয়ার জন্য খুব বেশি সময় নেবেন না হয়তো। পিকের সঙ্গে গার্সিয়ার খেলার ধরনের মিলও আছে বেশ। দুজনই বল পায়ে অনেক স্বচ্ছন্দ। রক্ষণভাগ থেকে অনায়াসে বল বের করে মিডফিল্ডের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারেন। করোনাকালে টাকাপয়সা নিয়ে টানাটানি না থাকলে সিটি ছেড়ে এই স্প্যানিশ ডিফেন্ডার হয়তো এর মধ্যেই বার্সায় ফিরতেন। সেটা হয়নি। আগামী জুনে সিটির সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়া গার্সিয়াকে এরপরই বিনা মূল্যে দলে আনতে চাইছেন ফন্ত, যদি তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন।

বিজ্ঞাপন

২. ডেভিড আলাবা (বায়ার্ন মিউনিখ)

বায়ার্ন মিউনিখের অস্ট্রিয়ান ডিফেন্ডার ডেভিড আলাবার চুক্তি শেষ হয়ে যাচ্ছে আসছে জুনে। কৌশলী এই ডিফেন্ডারকে পাওয়ার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে বিশ্বের নামীদামি বিভিন্ন ক্লাব। দৌড়ে আছে বার্সেলোনাও। কিছুদিন আগে যদিও খবর বেরিয়েছে, আলাবাকে দলে নেওয়ার ব্যাপারে রিয়াল মাদ্রিদ প্রায় সব কাজই শেষ করে ফেলেছে।

বায়ার্নের সঙ্গে ৩০ জুন চুক্তি শেষ হওয়ার সঙ্গেই সঙ্গেই এই অস্ট্রিয়ান ডিফেন্ডার রিয়ালে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছে মাদ্রিদভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মার্কা। কিন্তু ভিক্তর ফন্ত এখনই আশা ছাড়তে রাজি নন। নিজের তালিকায় রেখেছেন এই ডিফেন্ডারকেও। জানিয়েছেন, সভাপতি হলে আলাবাকে কিনতে চান তিনি।

৩. সের্হিও আগুয়েরো (ম্যানচেস্টার সিটি)

শুধু গার্সিয়াই নন, সিটির সঙ্গে চুক্তি শেষ হতে যাওয়া আরেকজনকেও নিজের তালিকায় রেখেছেন ফন্ত। তিনি আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার সের্হিও আগুয়েরো। আগের মতো আগুনে ফর্ম না থাকলেও মরা হাতির দামও যে লাখ টাকা, সেটাই হয়তো মনে করছেন ফন্ত। না হয় তাঁকে সম্ভাব্য নতুন খেলোয়াড়ের তালিকায় রাখবেন কেন?

default-image

৪. জর্জিনিও ভাইনালডম (লিভারপুল)

লিভারপুলের ডাচ মিডফিল্ডার জর্জিনিও ভাইনালডমের চুক্তিরও বেশি দিন নেই আর। শেষ হচ্ছে আগামী জুনে। মিডফিল্ডে সের্হিও বুসকেতস থেকে শুরু করে মিরালেম পিয়ানিচ, ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং প্রত্যেকেই দুই সেন্টারব্যাকের মাঝে থেকে খেলার গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করতে পছন্দ করেন। সেটা আস্তে আস্তে ড্রিবল করে সামনের দিকে গিয়ে হোক, কিংবা নিখুঁত ছোট-বড় পাসের মাধ্যমে হোক।

এমন কেউ নেই যে মিডফিল্ডে প্রতিপক্ষকে নিরন্তর প্রেস করে সতীর্থ বুসকেতস-পিয়ানিচ-ডি ইয়ংদের নিশ্চিন্তে খেলার সুযোগ করে দিতে পারেন। ওপরে মেসিও তেমন রক্ষণকাজে সাহায্য করেন না, তাই এমন একজন মিডফিল্ডার দরকার, যিনি অত বেশি সৃষ্টিশীল না হলেও আধুনিক প্রেসিং ফুটবলের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়মিত নব্বই মিনিট একই গতিতে ওপর-নিচ করতে পারেন। নিজেদের পায়ে যেন বল থাকে, সেটা নিশ্চিত করতে পারেন।

এ কাজের জন্য কোম্যানের মনে ধরেছে লিভারপুলের ভাইনালডমকে। গত গ্রীষ্মে ভাইনালডমকে অর্থসংকটে না নিয়ে আসতে পারা বার্সা বোর্ড এবার আর এই ডাচ মিডফিল্ডারকে হারাতে চায় না। ফন্তের তালিকায় আছেন তিনিও।

বিজ্ঞাপন

৫. মেম্ফিস ডিপাই (অলিম্পিক লিওঁ)

গত মৌসুম থেকে ভালো একজন স্ট্রাইকারের অভাবে ধুঁকছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। এই মৌসুমে দলে নেওয়ার জন্য দুজন স্ট্রাইকারের ওপরে ছিল তাদের চোখ। একজন ইন্টার মিলানের আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার লওতারো মার্তিনেজ ও অন্যজন অলিম্পিক লিওঁর ফরোয়ার্ড মেম্ফিস ডিপাই।

default-image

কোচ রোনাল্ড কোম্যান আসার পর আলোচনা শুরু হয়েছিল ডিপাইকে নিয়ে। কিন্তু শেষমেশ কেউই আসেননি। ওই যে, অর্থসংকট! আগামী জুনে লিওঁর সঙ্গে ডিপাইয়ের চুক্তি শেষ হবে, তাই ফন্ত তাঁকেও রেখেছেন তালিকায়।

এই পাঁচজন ছাড়াও ফন্তের তালিকায় আছেন পিএসজির স্প্যানিশ লেফটব্যাক হুয়ান বের্নাত, এসি মিলানের তুর্কি মিডফিল্ডার হাকান চালহানলু ও গ্রানাদার গোলরক্ষক রুই সিলভা। এই তিনজনেরও একই অবস্থা, বর্তমান ক্লাবের সঙ্গে চুক্তি শেষ হতে যাচ্ছে আগামী জুনে।

অর্থাৎ ফন্ত যদি আটজনের প্রত্যেককেই দলে আনতে পারেন সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর, দলবদল ফি বাবদ একটা কানাকড়িও খরচ করতে হবে না বার্সাকে।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন