default-image

কয়েক বছর ধরেই এমনটা দেখা যাচ্ছে। আকাশচুম্বী দাম দিয়ে খেলোয়াড় কিনছে বার্সেলোনা, কিন্তু খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে সেই দামের কোনো প্রতিফলন নেই। এসব ‘দামি’ ফুটবলার প্রমাণ করতে পারেননি তাঁদের দাম বেশি হওয়ার যৌক্তিকতা।

কিন্তু এই খেলোয়াড়দের সবাই যে বার্সেলোনার কাছ থেকে টাকা পেয়েছেন, এমনটা বলা যাচ্ছে না। সদ্য প্রকাশিত বার্সেলোনার এক আর্থিক প্রতিবেদন তো সে কথাই বলছে। দলবদলে বিভিন্ন পরিমাণ ট্রান্সফার ফি দিয়ে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে দলে টানলেও তাঁদের সব অর্থ এখনো পুরোপুরি পরিশোধ করে উঠতে পারেনি বার্সা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাব থেকে বার্সেলোনায় আসা ১৯ ফুটবলারের এখনো ১২ কোটি ৬০ লাখ ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ হাজার ২৯৭ কোটি টাকা) বকেয়া।

ফিলিপ কুতিনিওর কথাই ধরুন। ব্রাজিলিয়ান এই মিডফিল্ডারকে বার্সেলোনা লিভারপুল থেকে এনেছিল ১১ কোটি ৮০ লাখ ইউরোর বিনিময়ে। ব্রাজিলীয় তারকার দলবদলের অঙ্কটা চুক্তি অনুযায়ী বিভিন্ন শর্ত নিয়ে ঠেকত ১৬ কোটি ইউরোতে। জানা গেছে কুতিনিওর সাবেক ক্লাব লিভারপুল এখনো বার্সেলোনার কাছে ২ কোটি ৯০ লাখ ইউরো পায়। দীর্ঘ মেয়াদে সেটি ৪ কোটি ইউরো।

default-image
বিজ্ঞাপন

ওদিকে, ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং ইয়ের জন্য আয়াক্সের কাছে এখনো ১ কোটি ৬০ লাখ ইউরো বকেয়া। তাও তো কুতিনিও কিংবা ডি ইয়ংরা বার্সার মূল একাদশে খেলেন। কিন্তু মালকম? ব্রাজিলের এই তরুণ উইঙ্গার বার্সা অধ্যায় শেষ করে রাশিয়ান ক্লাব জেনিতে পাড়ি জমিয়েছেন বহু আগে। কিন্তু তাতে কী? ফরাসি ক্লাব বোর্দো যে এখনো মালকম বাবদ বার্সার কাছ থেকে টাকা পায়! যার পরিমাণ এক কোটি ইউরোর মতো। একই অবস্থা লেফটব্যাক জুনিয়র ফিরপোর ক্ষেত্রেও। বার্সার একাদশে সুযোগই পান না, কিন্তু এখনো বেতিস ফিরপো বাবদ বার্সার কাছ থেকে ৯০ লাখ ইউরো পায়।

এই মৌসুমের শুরুর দিকে বার্সা ছেড়ে ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার আর্থুর মেলো জুভেন্টাসে যোগ দিলেও তাঁর জন্য এখনো ব্রাজিলিয়ান ক্লাব গ্রেমিওকে টাকা দিয়ে যাচ্ছে বার্সা। গ্রেমিওর পাওনা এখনো ৮০ লাখ ইউরো। ডেনিস সুয়ারেজের জন্য ভিয়ারিয়াল পায় আড়াই লাখ ইউরোর মতো। তবে বার্সাও বিভিন্ন ক্লাবের কাছ থেকে টাকা পায়। সে অঙ্কটা এখন সাড়ে চার কোটি ইউরোর মতো।

কিন্তু পাওয়ার অঙ্ক দেওয়ার অঙ্ককে ছাপিয়ে যাওয়াটাই বার্সাকে চিন্তিত করে তোলার জন্য যথেষ্ট।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন