মেসি-গ্রিজমানদের পাশে  ঠাঁই করে নিতে না পারা তোদিবো (ছবিতে নেই) হতাশ।
মেসি-গ্রিজমানদের পাশে ঠাঁই করে নিতে না পারা তোদিবো (ছবিতে নেই) হতাশ। ছবি: রয়টার্স

সেডান নামের ক্লাবটা চেনেন?

চিনতে না পারলেও ক্ষতি নেই। বরং চিনতে পারলে আপনাকে ফুটবলের দো-পেয়ে এনসাইক্লোপিডিয়া বলে দেওয়া যেতে পারে চোখ বন্ধ করে। ক্লাবটা ঠিক পেশাদার ক্লাবের সংজ্ঞাতেই পড়ে না। ফ্রান্সের চতুর্থ বিভাগ ‘শাম্পিওনাত নাসিওনাল দো’-তে খেলে। এই ক্লাবটা কি বার্সেলোনার চেয়ে বেশি আকর্ষণ–জাগানিয়া হতে পারে কারও কাছে?

অবান্তর প্রশ্ন বটে! কোথায় বার্সেলোনা ইউরোপের কুলীন  ক্লাবগুলোর একটি, আর কোথায় কোথাকার কোন সেডান। কিন্তু এই দুই ক্লাবকে একই বাক্যে এনে, তুলনায় টেনে, বার্সাকেই বরং তুলনায় পিছিয়ে রাখছেন বার্সারই এক খেলোয়াড়! তাঁর নাম? জঁ-ক্লেখ-তোদিবো।

কথার কথা হিসেবেই সেডান ক্লাবের নামটা চলে এসেছে জঁ-ক্লেখ-তোদিবোর মুখে। বার্সেলোনায় দুই বছরে তেমন বিশেষ কিছু করতে না পারা ফরাসি ডিফেন্ডারের কাতালান ক্লাবটাতে দিন কেটেছে বেঞ্চে বসে, মেসি-গ্রিজমানদের খেলা দেখে। সেই হতাশা থেকেই তোদিবোর কথা, বার্সেলোনায় গিয়ে বসে থাকার চেয়ে সেডানের মতো ফ্রান্সের চতুর্থ বিভাগের ক্লাবে নিয়মিত খেলার সুযোগই বেশি টানবে তাঁকে।

বিজ্ঞাপন

এই মুহূর্তে তোদিবো বার্সেলোনায় আছেন, আবার নেইও। মেসিদের ক্লাবের সঙ্গে তাঁর চুক্তি আছে, তবে এই মুহূর্তে ধারে ২১ বছর বয়সী ফরাসি ডিফেন্ডার খেলছেন স্বদেশি ক্লাব নিসে। ২০১৯ সালে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার পর থেকে এ নিয়ে দুই বছরে তোদিবো ধারে গিয়ে খেলেছেন, এমন তৃতীয় ক্লাব নিস। এদেশ-ওদেশ, এক্লাব-ওক্লাব করার ফাঁকে বার্সার জার্সি গায়ে চাপিয়ে মাঠে নামার সৌভাগ্য হয়েছে তাঁর মাত্র পাঁচবার! হতাশা তাঁকে পাওয়ারই কথা।

সেই হতাশাই তোদিবো একেবারে ঢেলে দিলেন ফ্রান্সের আরএমসি স্পোর্ত চ্যানেলে কথা বলার সময়, ‘বার্সেলোনায় গিয়ে খেলতে না পারার মতো বাজে ব্যাপার আর হয় না। বার্সেলোনায় গিয়ে না খেলার চেয়ে আমি বরং সেডানের জার্সি গায়ে দিয়ে নিয়মিত খেলার সুযোগই আগে লুফে নেব।’

বার্সা ছেড়ে যাওয়ার পর বার্সার সমালোচনা করেছেন, এমন খেলোয়াড় একেবারে কম নয়। বার্সায় সর্বজয়ী ব্রাজিলিয়ান রাইটব্যাক দানি আলভেজ তা করেছেন, ইব্রাহিমোভিচও কখনো ছেড়ে কথা বলেননি। নেইমার তো বার্সার বিরুদ্ধে মামলাই ঠুকে দিয়েছেন।

তাই বলে বার্সার সঙ্গে ফ্রান্সের চতুর্থ বিভাগের ক্লাবের তুলনা! কেন বার্সা নিয়ে তাঁর এত বিরক্তি? তোদিবো দিয়েছেন সে ব্যাখ্যাও, ‘সেডানে আপনি যা-ই করেন, আপনার সমালোচনা কম হবে। আর বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার পর আপনাকে যখন (ক্লাবের জার্সিতে) পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়...পুরো পাগলপারা হয়ে যাওয়ার দশা! কিন্তু বাস্তব জীবনে ব্যাপারটা পুরোটাই ফাঁকা। সেখানে আমি খেলতে পেরেছি মাত্র পাঁচটা ম্যাচ।’

default-image

ফ্রান্সের ক্লাব তুলুজে বেড়ে ওঠা, তুলেজের জার্সিতেই পেশাদার ফুটবলে অভিষেক। এক মৌসুম সেখানে আলো ছড়াতেই তাঁর দিকে নজর পড়ল বার্সেলোনার। ২০১৯ সালে যখন বার্সায় আসেন তোদিবো, ধরে নেওয়া হচ্ছিল, বার্সার রক্ষণের ভবিষ্যৎ কান্ডারিদের একজন হবেন তিনি। হলো লবডঙ্কা!

বার্সার জার্সিতে তোদিবোর ম্যাচের সংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে বার্সা থেকে এ পর্যন্ত ধারে যাওয়া ক্লাবের সংখ্যা। গত বছরের জানুয়ারিতে তোদিবো ধারে গিয়েছিলেন জার্মানির শালকাতে, এই মৌসুমের শুরুতে পর্তুগালের বেনফিকাতে। কিন্তু কোথাও কারও মন জয় করে যে নিয়মিত খেলার সুযোগ করে নেবেন, তা আর হয়নি!

বিজ্ঞাপন

বেনফিকা তাঁকে আবার বার্সার কাছে ফেরত পাঠিয়েছে ডিসেম্বরে, গত জানুয়ারিতে বার্সা আবার ফরাসি ডিফেন্ডারকে ধারে পাঠায় নিসে। তাঁর খেলা ভালো লাগলে তাঁকে পাকাপাকিভাবে কিনে নেওয়ার সুযোগ চুক্তিতে রেখেছে নিস।

কিন্তু নিস না কিনলে? বার্সায় তাঁর চুক্তিতে এখনো দুই বছর বাকি। তাঁকে নিয়ে যেভাবে অন্য ক্লাবের সঙ্গে ‘টিকি-টাকা’ খেলে যাচ্ছে বার্সেলোনা, তাতে নিস না কিনলে আগামী মৌসুমে হয়তো আবার অন্য কোনো ক্লাবে ধারে যেতে হবে তোদিবোকে। নিসে কোচ আদ্রিয়ান উরেসার অধীনে অবশ্য এখন নিয়মিতই খেলতে পারছেন তোদিবো। এরই মধ্যে লিগ আঁ–তে ৭ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন।

তবে বার্সায় এভাবে খেলতে না পারার হতাশাটা তাঁর যায়নি। ২০১৯ সালের এপ্রিলে উয়েস্কার বিপক্ষে লিগে বার্সার জার্সিতে অভিষেক, এরপর আর চারটি ম্যাচই খেলতে পেরেছেন মেসিদের পাশে। সব মিলিয়ে ৩২৫ মিনিট। সর্বশেষ খেলেছেন দেড় বছর আগে চ্যাম্পিয়নস লিগে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে।

তোদিবোর তাই আক্ষেপ, ‘আমি (২০১৯ সালে) লা লিগা জিতেছি, কিন্তু আমি দলকে সেভাবে সাহায্য করতে পারিনি। লিগ জেতা নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পরই আমি কয়েকটা ম্যাচে খেলতে পেরেছি। আমি এর চেয়ে ভালো খেলতে পারি।’

কিন্তু সেটা হয়তো বার্সার জার্সিতে দেখানো হবে না আর তোদিবোর।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন