মেসির গোলের আনন্দ ভাগাভাগি করতে আগে এভাবেই ছুটে আসতেন দানি আলভেস!
মেসির গোলের আনন্দ ভাগাভাগি করতে আগে এভাবেই ছুটে আসতেন দানি আলভেস!ফাইল ছবি

মৌসুম আস্তে আস্তে শেষের দিকে এগোচ্ছে, আর বার্সেলোনা ভক্তদের মনে দুরুদুরু কাঁপন বাড়ছে একটু একটু করে। ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি যে এখনো নতুন চুক্তিতে সই করেননি! আর সই না করলে যে আসছে জুনে ক্লাব ছেড়ে অন্য কোথাও পাড়ি জমাবেন এই আর্জেন্টাইন তারকা। কীভাবে শান্তিতে থাকতে পারে বার্সেলোনা!

এ অবস্থায় নিজের প্রিয় এক বন্ধুর কাছ থেকে বড় একটা পরামর্শ পেয়েছেন মেসি। সেই বন্ধুটি দানি আলভেস। আন্তর্জাতিক ফুটবলের হিসাবে দুজন দুই চিরবৈরী দেশের ফুটবলার হলেও বার্সেলোনার বাঁধনে বাধা পড়ে দুজন হয়েছেন প্রাণের বন্ধু। বার্সায় থাকতে হরিহর আত্মা বলতে যা বোঝায়, তা–ই ছিলেন দুজন। আলভেসের পাসে মেসির বা মেসির পাসে আলভেসের যে কত গোল আছে, ইয়ত্তা নেই। আলভেস-মেসির ওই ডান দিকটা সামলাতে কত প্রতিপক্ষের যে নির্ঘুম রাত কেটেছে, সেটারও কোনো হিসাব নেই। আলভেস এখন বার্সায় নেই, কিন্তু মেসি আছেন।

বিজ্ঞাপন
default-image

আলভেস যখন ক্লাব ছেড়েছিলেন, তখন তাঁর কাছে আর অন্য কোনো উপায় না থাকলেও ব্রাজিলিয়ান এই রাইটব্যাক মেসিকে পরামর্শ দিয়েছেন, যেকোনো মূল্যে বার্সায় থাকতে, ‘আমি মেসিকে হাজারবার বলেছি, ও বার্সেলোনার খেলোয়াড় হওয়ার জন্যেই জন্মেছে, আর বার্সেলোনার জন্মই হয়েছে ওর ক্লাব হওয়ার জন্য।’

আলভেস যখন ক্লাব ছাড়তে চেয়েছিলেন, তখন এই মেসির পরামর্শেই ক্লাবে থেকে গিয়েছিলেন। তাই এখন এই রাইটব্যাকের মনে হয়েছে, প্রিয় বন্ধুকে পরামর্শ দেওয়ার এটাই সময়, ‘ও আগে আমাকে পরামর্শ দিয়েছিল, তাই এখন আমি ওকে পরামর্শ দিচ্ছি। ও আমাকে একবার বলেছিল যে করেই বার্সেলোনায় থাকতে, কারণ এর চেয়ে ভালো জায়গা আর কোথাও নেই আমার জন্য। ও আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিল, “তুমি আর কোথায় সুখী থাকবে?” পরে ওর কথা শুনে আমি বার্সায় থেকে গিয়েছিলাম। আমি তাই এখন ওকে এই পরামর্শই দিয়েছি, বলেছি, এককালে আমার একটা ভালো বন্ধু বলেছিল বার্সেলোনা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম জায়গা। ও আমাকে এখনো কিছু বলেনি। তবে আপনি যখন বার্সা ছাড়বেন, তখন বুঝবেন, জায়গাটা আসলে কত ভালো।’

default-image

আলভেসের কথায় স্পষ্ট, তিনি বার্সেলোনাকে ঠিক কতটা মিস করেন। কিন্তু ক্লাবের কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে ক্লাব ছাড়তে হয়েছিল তাঁকে, ‘যারা বার্সেলোনা ছেড়েছে, সবাই আফসোস করেছে। সবাই। যে কারণেই ছাড়ুক না কেন, সবাই ঠিকই আফসোস করেছে। আমি যখন বার্সেলোনা ছেড়েছিলাম, আমি বোঝাতে চেয়েছিলাম, আমি চাইলেও আরও অনেক বছর খেলতে পারি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমি ক্লাবে থাকা অবস্থায় যারা আমাকে ক্লাবে চায়নি, তারাই থেকে গেল ক্লাবে। আমি ক্লাব ছেড়ে ওদের দেখিয়েছি, আমি চাইলেই আরও ১০ বছর অনায়াসে খেলতে পারি।’

মেসির সঙ্গে বার্সার সমস্যাটাও ওই একই। কিন্তু কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে আলভেসকেই ক্লাব ছাড়তে হয়েছিল, সেসব বোর্ডের কর্তারা ক্লাব ছাড়েননি। মেসির ক্ষেত্রে ব্যাপারটা এখন এমন নয়। কিছুদিন আগে সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউ। দলে এখন নতুন সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা। বার্তোমেউর বোর্ডে যেসব কর্মকর্তারা ছিলেন, তাঁদের আস্তে আস্তে সরিয়ে দিচ্ছেন এই নতুন সভাপতি। তাই আলভেসের মতে, মেসির বার্সাতেই থাকা উচিত।

default-image
বিজ্ঞাপন

আলভেস নিজেই পরে বার্সায় ফিরতে চেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন। কিন্তু ওই যে যাদের জন্য ক্লাব ছেড়েছিলেন, তারাই যদি ক্লাবে থাকে, তাহলে ফেরা যায়? আলভেসও ফিরতে পারেননি, ‘আমি বার্সায় ফেরার চেষ্টা করেছি। আমি ফেরত যেতে চেয়েছি। কিন্তু তাঁরা আমাকে চায়নি।’

বার্সা ছেড়ে প্রথমে জুভেন্টাস, ও পরে পিএসজিতে যোগ দিয়েছিলেন এই তারকা। এখন খেলছেন নিজ দেশের ক্লাব সাও পাওলোতে। এখনো তাঁর পায়ে ঝলক দেয় আগের সেই জাদু। দুই বছর আগে দেশকে কোপা আমেরিকা জিতিয়েছেন, জেতার পথে নিজে হয়েছেন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়। তাঁর যাওয়ার পর দগলাস, সের্হি রবের্তো, নেলসন সেমেদো ঘুরে এখন রাইটব্যাকে সের্হিনিও দেস্তে থিতু হয়েছে বার্সা। কিন্তু কারওর কাছ থেকেই ওই আলভেসের মতো সার্ভিস পাচ্ছে না দলটা। বার্সেলোনা ছাড়ার জন্য আক্ষেপ হলেও যেসব ক্লাবে যোগ দিয়েছেন, তা নিয়ে তাঁর মনে বিন্দুমাত্রও আক্ষেপ নেই।

default-image

যদি পেপ গার্দিওলার অধীনে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার একটা সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছিল, সেটা শেষমেশ হয়নি আর, ‘পিএসজিতে যোগ দেওয়ার জন্য আমি আফসোস করি না। একদমই না। প্যারিসে আমার সময়টা দুর্দান্ত ছিল। তবে বার্সা ছাড়ার আফসোস আছে আমার। কপাল খারাপ, ম্যানচেস্টার সিটিতে যেতে পারিনি। সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে কিছু ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে সিটিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হয়।’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন