বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

গত জুলাইয়ে এই ইতালির কাছেই টাইব্রেকারে হেরে সেমিফাইনালে বাদ পড়েছিল স্পেন। অর্থহীন প্রীতি ম্যাচের বদলে একটা টুর্নামেন্ট বের করার চেষ্টা থেকে জন্ম নেওয়া নেশনস কাপের সঙ্গে ইউরোর তুলনা চলে না, তবু শেষ পর্যন্ত ইউরোর শিরোপা জেতা ইতালিকে এবার সেমিফাইনালেই বিদায় করে দেওয়ায় স্প্যানিশদের কিছুটা তৃপ্তি হওয়ারই কথা!

স্পেনের গোলদাতা ফেরান তোরেসও বলছিলেন, ‘জানতাম এটা একটা বিশেষ ম্যাচ হবে। আমরা ইউরোতে একটা সেমিফাইনালে বাদ পড়েছি। আরেকটা টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে ওদের নিজেদের মাটিতে হারানোর চেয়ে দারুণ আর কী হতে পারে!’

ইতালি আর স্পেন মানে তো দুই ফুটবল ঘরানার লড়াই, সান সিরোতে কাল ম্যাচটাও দুই ঘরানার প্রদর্শনীই দেখেছে। ইতালি বেশ কয়েকবার স্প্যানিশ রক্ষণ ভেঙেছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত হয়তো ৪২ মিনিটে লাল কার্ড দেখে লিওনার্দো বোনুচ্চির মাঠ ছাড়াটাই ইতালিয়ানদের কপাল পুড়িয়েছে।

ইতালি কোচ মানচিনি ম্যাচ শেষে এ নিয়েই আক্ষেপ করলেন, ‘এটা হতাশার ছিল। আমাদের ১১ জন নিয়ে খেলা শেষ করতে পারা উচিত ছিল। আমরা এমন একটা ভুল করেছি, যেটা এই পর্যায়ে আমরা করতে পারি না।’

default-image

৪২ মিনিটে স্পেন মিডফিল্ডার সের্হিও বুসকেতসের সঙ্গে হেডে বল দখলের লড়াইয়ে গিয়েছিলেন বোনুচ্চি। কিন্তু বল দখলের লড়াইয়ে বুসকেতসের মুখে লাগে বোনুচ্চির হাত! ফলাফল, দ্বিতীয় হলুদ কার্ড।

এর আগেই অবশ্য স্পেন এক গোলে এগিয়ে ছিল। ১৭ মিনিটে বাঁ দিক থেকে মিকেল ওইয়ারাসাবালের ক্রসে দারুণ ভলিতে গোলটি করেন তোরেস। আর বোনুচ্চির লাল কার্ডের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ইতালির জন্য দ্বিতীয় ধাক্কা হয়ে আসে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে তোরেসের দ্বিতীয় গোল।

আবারও ওইয়ারসাবালেরই ক্রসে এসেছে গোলটা, এবার হেড করার সময়ে দূরের পোস্টে তোরেসের আশপাশে ইতালির কোনো ডিফেন্ডারই ছিলেন না!

ইতালি অবশ্য একেবারে দমে যায়নি। ৮৩ মিনিটে লরেঞ্জো পেল্লেগ্রিনির গোল শেষ দিকে রোমাঞ্চ জাগিয়ে তোলে। পাল্টা আক্রমণে স্প্যানিশ রক্ষণের ফাঁক গলে একসঙ্গে বেরিয়ে যান ফেদেরিকো কিয়েসার ও পেল্লেগ্রিনি। সামনে তখন শুধুই স্প্যানিশ গোলকিপার উনাই সিমন।

default-image

বল নিয়ে একেবারে বক্সে ঢুকে যান কিয়েসা, শেষ মুহূর্তে যখন সিমন সামনে এগিয়ে আসেন, তখন পাসটা বাড়িয়ে দেন ফাঁকায় দাঁড়ানো পেল্লেগ্রিনির দিকে। ফাঁকা পোস্ট, আশপাশে তাঁকে বাধা দেওয়ার কেউ নেই...পেল্লেগ্রিনির সেখান থেকে গোল করতে না পারলেই সেটি হতো খবর!

এর আগে ফেদেরিকো বের্নার্দেস্কির একটা শট স্পেন গোলকিপারের ভালো পরীক্ষা নিয়েছে, লরেঞ্জো ইনসিনিয়ে বক্সে অনেক জায়গা পেয়েও প্রথম স্পর্শের শটটা পোস্টে রাখতে পারেননি। উল্টো দিকেও অবশ্য শিরোনামে আসার মতো ভুল প্রায় করেই ফেলেছিলেন ইতালি গোলকিপার জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা।

এই মৌসুমেই এসি মিলান থেকে পিএসজিতে যাওয়া গোলকিপার কাল মিলানে ফিরেছেন। ইতালির জার্সি গায়ে চাপানো মিলান সমর্থকদের দুয়ো পেয়েছেন ‘অভিবাদনে।’ এর মধ্যে রাতটা আরও দুঃস্বপ্নের হয়ে যাওয়ার জোগাড়। প্রথমার্ধে স্প্যানিশ লেফটব্যাক মার্কোস আলোনসোর জোরালো একটা শট ঠেকাতে গিয়ে ঠিকমতো তা করতে পারেননি দোন্নারুম্মা, বল পোস্টে লেগে পরে বারে লাগে। তখনো লাল কার্ড না দেখা বোনুচ্চি গোললাইন থেকে বিপদমুক্ত করেন ইতালিকে।

শেষ পর্যন্ত সেই বোনুচ্চিরই লাল কার্ড বিপদে ফেলে দেয় ইতালিকে!

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন