বার্সার দিক থেকে এই প্রথম মেসিকে জবাব

বার্সার অনুশীলনে আগের মতোই নিবেদিত মেসি।
বার্সার অনুশীলনে আগের মতোই নিবেদিত মেসি। ছবি: রয়টার্স
বিজ্ঞাপন

কত আন্দোলন হলো। গুঞ্জন ছড়াল কত শত। মিছিল হলো, ক্লাবের সামনে রাগান্বিত সমর্থকদের ভিড় জমল। সবার গায়ে একটাই জার্সি, সবার মুখে একটাই স্লোগান। জার্সির নম্বর ১০, ঠোঁট বেয়ে বেরোনো স্লোগানের একটাই সুর—লিওনেল মেসি, থেকে যাও। বার্তোমেউ, ক্লাব ছাড়ো।

বার্সেলোনায় ঝড় বয়ে গেছে মাঝে কিছুদিনে।

২৫ আগস্ট ক্লাব ছাড়ার ইচ্ছে জানিয়ে মেসির বুরোফ্যাক্স পাঠানোতে শুরু সেই ঝড়ের শেষ হয়েছে ইচ্ছার বিরুদ্ধে মেসির অন্তত আরেক মৌসুম ক্লাবে থাকার ঘোষণায়। যদিও গোলডটকমে সেই ঘোষণা জানানো সাক্ষাৎকারে ক্লাব সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউ ও তাঁর অধীন ক্লাবের বোর্ডকে ধুয়ে দিয়েছেন মেসি। এরপর কেটে গেছে সপ্তাহখানেক, কিন্তু বার্সা একেবারে স্পিকটিনট। এক সপ্তাহে ঝড় কিছুটা কমেছে, উত্তেজনা নেমেছে, অবশেষে বার্সা বোর্ডের কেউ মুখ খুললেন মেসির কথার জবাবে। যদিও ক্লাবের সহসভাপতি পাউ ভিলানোভার সে জবাব ‘জ্বি ভালো আছি, আপনি ভালো আছেন?’ ঘরানার সাজানো-গোছানো বিবৃতিই।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
ও (মেসি) যা বলেছে, সেসব আমাদের বিবেচনায় নেওয়া উচিত। সমাধান খোঁজা উচিত।
পাউ ভিলানোভা, বার্সেলোনার সহ-সভাপতি

ক্লাবটাকে অনেক বেশি ভালোবাসলেও বার্সেলোনার বোর্ডের ওপর বিরক্ত মেসি। দলের প্রয়োজন বিবেচনায় না রেখে একের পর এক তারকার পেছনে ছুটে নিজেদের সুনাম বাড়াতে চাইছে বার্তোমেউর বোর্ড, তাতে বার্তোমেউর অনুসারী কারও পরের মেয়াদে বার্সা সভাপতি হয়ে আসার সম্ভাবনা বাড়লেও মাঠে বার্সা হয়ে পড়ছে ভারসাম্যহীন। একের পর এক দ্বিতীয় সারির কোচও আসছেন ডাগআউটে। যার ফল, গত তিন বছরে চ্যাম্পিয়নস লিগে রোমা, লিভারপুল বা বায়ার্ন মিউনিখ দুঃস্বপ্ন। অন্তত আরেকটা চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার স্বপ্ন মেসির, অথচ চ্যাম্পিয়নস লিগেই দলকে এভাবে বছরের পর বছর ব্যর্থ হতে দেখছেন, যেখানে দায়টা বার্সা বোর্ডেরই বেশি—সব মিলিয়েই মেসির বার্সা ছাড়তে চাওয়া।

কিন্তু চাওয়াটা পূরণ হয়নি। দশ দিনের উত্তেজনার পর অবশেষে মেসি বুঝলেন, আদালতে গিয়ে অস্তিত্বে মিশে যাওয়া ক্লাবটার সঙ্গে বিচ্ছেদ না হলে বার্সা ছাড়া সম্ভব নয়। তাই থেকে গেলেন আরেকটা মৌসুম। থেকে যাওয়ার ঘোষণায় অবশ্য ক্লাবের যে কোনো সফল হওয়ার মতো ক্রীড়া প্রকল্প নেই, বার্তোমেউ যে তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করেছেন...সবই জানিয়ে দিয়েছেন। মনে হচ্ছিল, শান্তির সাদা পতাকা ওড়েনি, যুদ্ধের দামামা বেজেছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

মেসির কথার জবাব দিয়ে ব্যাপারটাকে আরও সাধারণ্যে জানাজানি হতে না দেওয়ারই পন্থায় তখন হেঁটেছিল জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউর অধীন বার্সেলোনা বোর্ড। দশ দিনে ঝড় কিছুটা থামার পর অবশেষে মুখ খুলল। বার্সেলোনাভিত্তিক ক্রীড়াদৈনিক স্পোর্ত ক্লাবের সহসভাপতি পাউ ভিলানোভা উদ্ধৃত করে সে জবাবের কথা লিখেছে। সাজানো গোছানো সে জবাবের শুরুতে মেসির কথা শোনারই প্রতিশ্রুতি, ‘আমরা সত্যিই খুশি যে মেসি আমাদের সঙ্গেই থাকছে, আমাদের দারুণ প্রকল্পটায় যোগ দিয়েছে। ও যা বলেছে, সেসব আমাদের বিবেচনায় নেওয়া উচিত। সমাধান খোঁজা উচিত। আমাদের নতুন, আকর্ষণীয় প্রকল্পে সেটাই করছি আমরা।’

বার্সেলোনার দলটা বুড়িয়ে গেছে। মেসি-সুয়ারেজ-পিকে-বুসকেটসসহ দলের মূল খেলোয়াড়দের অনেকেই ৩০-এর ডানে চলে এসেছেন। এই মৌসুমে নতুন কোচ রোনাল্ড কোমানের অধীনে তাই দলে তারুণ্যের আগমনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বার্সা, যেখানে দলের কেন্দ্রে থাকবেন মেসিই। এখন পর্যন্ত ৩০-এর বেশি বয়সী মিডফিল্ডার মিরালেম পিয়ানিচ আর তরুণ পর্তুগিজ উইঙ্গার ফ্রান্সিসকো ত্রিনকাও ছাড়া কেউ দলে আসেননি। মূল স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজ আর মিডফিল্ডার আর্তুরো ভিদাল দল ছাড়ছেন বলে গুঞ্জন। এরই মধ্যে ক্লাব ছেড়েছেন ইভান রাকিতিচ।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তবে ক্লাবের জেতার ইচ্ছা নিয়ে মেসির সংশয় নিয়ে ভিলানোভার কথা, ‘পেশাদার ক্যারিয়ারে চারপাশের পরিস্থিতি নিয়ে কখনো কখনো এমন সংশয় আমাদের সবারই হয়। সবকিছু ভেবে দেখার পর আমরা হয় সেখানেই থেকে যাই, নতুবা চলে যাই। ওর (মেসি) ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তটা হচ্ছে ও থাকছে। ওর জেতার প্রেরণা একই থাকবে।’

প্রেরণা যে আছে, তা নিয়ে সংশয় সম্ভবত নেই। মেসি এরই মধ্যে দলের অনুশীলনে ফিরেছেন। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের খবর, আগের মতোই সবার আগেই অনুশীলনে আসেন ৩৩ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। তবে বার্সার মাঠে নামায় অবশ্য এখনো দেরি আছে। আগস্টে চ্যাম্পিয়নস লিগ আর ইউরোপা লিগে ব্যস্ত থাকা দলগুলোকে বাড়তি ছাড় দিচ্ছে লিগ কর্তৃপক্ষ। যে কারণে স্প্যানিশ লিগ আজকে থেকে শুরু হয়ে গেলেও বার্সা-রিয়ালের মতো দলগুলো মাঠে নামবে আরও পরে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে বাদ পড়া রিয়াল মাদ্রিদ লিগে নামবে ২০ সেপ্টেম্বর। বর্তমান স্প্যানিশ লিগ চ্যাম্পিয়ন জিনেদিন জিদানের দলের শিরোপা ধরে রাখার লড়াই শুরু হবে রিয়াল সোসিয়েদাদের মাঠ থেকে। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ৮-২ গোলের লজ্জায় বিদায় নেওয়া বার্সেলোনা মাঠে নামবে ২৬ বা ২৭ সেপ্টেম্বর (এখনো ম্যাচের সময় নির্ধারিত হয়নি), মেসিদের প্রথম ম্যাচ নিজেদের মাঠে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে। আতলেতিকো মাদ্রিদও মাঠে নামবে বার্সার মতো একই দিনে। ইউরোপা লিগজয়ী সেভিয়ারও প্রথম ম্যাচ সেই সপ্তাহেই (২৬/২৭ সেপ্টেম্বর)।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন