বার্সার নড়বড়ে রক্ষণ, দ্বিতীয় কাসেমিরোর খোঁজে রিয়াল

বার্সাকে অনেক খেলোয়াড় আনতে হবে।
বার্সাকে অনেক খেলোয়াড় আনতে হবে। ছবি : এএফপি
বিজ্ঞাপন

আগস্টের শেষ দিকে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের মাধ্যমে গত মৌসুমের পর্দা নেমেছে। এরই মধ্যে ফ্রান্সে নতুন মৌসুম শুরু হয়ে গেলেও সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতে শুরু হয়ে যাচ্ছে  ইউরোপের অন্য বড় লিগগুলোর পরবর্তী মৌসুম।


করোনাভাইরাসের কারণে গত মৌসুম শেষ হতে সময় নিয়েছে বেশ। সে তুলনায় পরবর্তী মৌসুম শুরু হচ্ছে জলদি। ফলে ক্লাবগুলো সাধারণত নিজেদের গোছানোর যে সময় পায়, এবার তেমন পাচ্ছে না। স্কোয়াডের ঘাটতি অনুসন্ধান, সম্ভাব্য খেলোয়াড় নির্বাচন, সেই খেলোয়াড় কেনা, অপ্রয়োজনীয় খেলোয়াড় বিক্রি করা— সময় অল্প হলেও, ক্লাবগুলোর হাতে কাজ অনেক।


এর মধ্যে অনেক ক্লাবই দলবদল শুরু করে দিয়েছে, অনেক ক্লাব আরেকটু বুঝেশুনে নামতে চাইছে বাজারে। এক সপ্তাহ পরেই শুরু হতে যাচ্ছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের নতুন মৌসুম। মৌসুমকে সামনে রেখে ক্লাবগুলো নিজেদের কতটুকু গুছিয়ে নিল, কোন কোন জায়গায় কিছুটা ঘাটতি রয়ে গেছে, কেমন হতে পারে তাদের সম্ভাব্য একাদশ, কোন খেলোয়াড় কেনা উচিত, কোচের দর্শনের সঙ্গে কোন সম্ভাব্য খেলোয়াড়ের খেলার ধরন....এমন অনেক কিছু নিয়েই আলোচনা হবে এই ধারাবাহিকে। আজ শেষ পর্বে থাকছে স্প্যানিশ লা লা লিগার তিন পরাশক্তি রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ও জার্মান বুন্দেসলিগার বায়ার্ন মিউনিখ, বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের কথা—


বার্সেলোনা

প্রয়োজন :
সেন্টারব্যাক, লেফটব্যাক, রাইটব্যাক, সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার, স্ট্রাইকার

যেতে পারেন :
জ্যাঁ ক্লাইর তোদিবো, লুইস সুয়ারেজ, রাফিনহা আলকানতারা, জর্দি আলবা, মার্টিন ব্রাথওয়েট, আর্তুরো ভিদাল, সামুয়েল উমতিতি, জুনিয়র ফিরপ

default-image
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

যারা আদর্শ বিকল্প হতে পারেন :


লওতারো মার্তিনেজ (ইন্টার মিলান), পও তোরেস (ভিয়ারিয়াল), উনাই নুনেজ (অ্যাথলেটিক বিলবাও), এরিক গার্সিয়া (ম্যানচেস্টার সিটি), জর্জিনিও ভাইনালদাম (লিভারপুল), ফাবিয়ান রুইজ (নাপোলি), মিকেল মেরিনো (রিয়াল সোসিয়েদাদ), এমারসন (রিয়াল বেতিস), সার্জিনো দেস্ত (আয়াক্স), হোসে লুইস গায়া (ভ্যালেন্সিয়া), দায়োত উপামেকানো (আরবি লাইপজিগ), মেমফিস ডিপাই (অলিম্পিক লিওঁ), চাগলার সোয়ুঞ্জু (লেস্টার সিটি), নিকোলাস তাগলিয়াফিকো (আয়াক্স), হান্স হাটেবোর (আতালান্তা), দনিয়েল মালেন (পিএসভি), হোয়াকিন কোরেয়া (লাৎসিও), মাইরন বোয়াদু (এজেড আলকমার), রায়ান আইত নুরি (অজাঁ), নিকো এলভেদি (বরুশিয়া মনশেনগ্লাডবাখ), ডেনিস জাকারিয়া (বরুশিয়া মনশেনগ্লাডবাখ), ম্যাক্সেন্স ক্যাকেরে (অলিম্পিক লিওঁ), হেক্টর বেয়েরিন (আর্সেনাল)।


চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বার্সেলোনার হতাশাজনক বিদায় বুঝিয়ে দিয়েছে, দলে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে নতুন কোচ রোনাল্ড কোম্যানের। বুড়ো খেলোয়াড়দের সরিয়ে দলে আনতে হবে তারুণ্যের উদ্দীপনা। পিকে, সুয়ারেজ, বুসকেটসরা আর পারছেন না। কোম্যান এসেই সমস্যাটা ধরতে পেরেছেন। পারফর্ম না করতে পারা খেলোয়াড়দের একে একে দল থেকে সরিয়ে দিচ্ছেন। এর মধ্যেই দল থেকে বিদায় নিয়েছেন ইভান রাকিতিচ ও আর্থুর মেলো। বিদায় নিতে পারেন লুইস সুয়ারেজ, আর্তুরো ভিদালও। নতুন যোগ দিয়েছেন পর্তুগিজ উইঙ্গার ফ্রানসিস্কো ত্রিনকাও, বসনিয়ার মিডফিল্ডার মিরালেম পিয়ানিচ। তাও বার্সেলোনার বর্তমান স্কোয়াড দেখে খুব বেশি উচ্ছ্বসিত হতে পারছেন না সমর্থকেরা।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রক্ষণভাগে চোটপ্রবণ সামুয়েল উমতিতি, ক্লেমঁ লংলে ও জেরার্ড পিকের অনিয়মিত ফর্ম, অনভিজ্ঞ রোনাল্ড আরাউহো, আস্থা রাখা যায় না জ্যাঁ-ক্লাইর তোদিবোর ওপর। সব মিলিয়ে একজন বা দুজন নতুন সেন্টারব্যাক আনা বার্সার জন্য আবশ্যিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঐতিহ্যগতভাবে বার্সেলোনা এমন সেন্টারব্যাক খেলিয়ে থাকে, যারা শুধু ট্যাকল বা বল কেড়ে নেওয়া নয়, বরং নিচ থেকে ছোট-বড় পাসের মাধ্যমে আক্রমণ গড়ে তুলতে সাহায্য করেন। ম্যানচেস্টার সিটির স্প্যানিশ সেন্টারব্যাক এরিক গার্সিয়াকে মনে ধরেছে বার্সার। গার্সিয়া সিটিতে যোগ দেওয়ার আগে বার্সার বয়সভিত্তিক দলের খেলোয়াড় ছিলেন। বার্সেলোনায় এলে মানিয়ে নেওয়ার জন্য খুব বেশি সময় নেবেন না হয়তো। পিকের সঙ্গে গার্সিয়ার খেলার ধরনের মিলও আছে বেশ। দুজনই বল পায়ে অনেক স্বচ্ছন্দ। রক্ষণভাগ থেকে অনায়াসে বল বের করে মিডফিল্ডের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারেন।


ভিয়ারিয়ালের পও তোরেস কিংবা অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের উনাই নুনেজকে চাইলে দলে নিতে পারে বার্সা। দুজনই স্প্যানিশ, ফলে দেশীয় তারকার সংখ্যাও বাড়বে ক্লাবে। বল পায়ে দক্ষ, নিচ থেকে আক্রমণ গড়ে তোলায় পটু বিদেশী সেন্টারব্যাকের মধ্যে রয়েছেন লেস্টারের চাগলার সোয়ুঞ্জু ও জার্মান ক্লাব বরুসিয়া মনশেনগ্লাডবাখের নিকো এলভেদি। নতুন কোচ কোম্যান ডাচ হওয়ায় স্বদেশি খেলোয়াড়দের বার্সেলোনায় নেওয়ার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সে হিসেবে আয়াক্সের তরুণ সেন্টারব্যাক পার শুর্সও হতে পারেন বার্সার পছন্দের একজন।


রাইটব্যাকে নেলসন সেমেদো কিংবা সার্জি রবার্তো, কেউই গত কয়েক বছর ধরে সন্তোষজনক পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি। একই কথা প্রযোজ্য লেফটব্যাক জুটি জর্দি আলবা ও জুনিয়র ফিরপোর ক্ষেত্রেও। দুজনই আক্রমণে পটু, কিন্তু মূল কাজ রক্ষণটা ভালো করতে পারেন না। ডান-বাম দুই ফুলব্যাকের জায়গাতেই নতুন মুখ আনা জরুরি বার্সার জন্য। ডানদিকে আয়াক্সের সার্জিনো দেস্ত কিংবা রিয়াল বেতিসের এমারসন, বাঁদিকে আয়াক্সের নিকোলাস তাগলিয়াফিকো কিংবা ভ্যালেন্সিয়ার হোসে লুইস গায়াকে চাইলে মেসির সতীর্থ বানাতে পারেন কোম্যান। আর্সেনালের হেক্টর বেয়েরিনকেও ফেরাতে পারে তাঁরা।


মিডফিল্ডে সার্জিও বুসকেটস থেকে শুরু করে মিরালেম পিয়ানিচ, ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং প্রত্যেকেই দুই সেন্টারব্যাকের মাঝে থেকে খেলার গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করতে পছন্দ করেন। সেটা আস্তে আস্তে ড্রিবল করে সামনের দিকে গিয়ে হোক, কিংবা নিখুঁত ছোট-বড় পাসের মাধ্যমে হোক। রিকি পুজকে একটু সামনে খেলানো গেলেও, বাকি তিনজনের খেলার ধরণ মোটামুটি এক। এমন কেউ নেই যে মিডফিল্ডে প্রতিপক্ষকে নিরন্তর প্রেস করে সতীর্থ বুসকেটস-পিয়ানিচ-ডি ইয়ংদের নিশ্চিন্তে খেলার সুযোগ করে দিতে পারেন। ওপরে মেসিও তেমন রক্ষণকাজে সাহায্য করেন না, তাই এমন একজন মিডফিল্ডার দরকার যিনি অত বেশি সৃষ্টিশীল না হলেও আধুনিক প্রেসিং ফুটবলের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়মিত নব্বই মিনিট একই গতিতে ওপর-নিচ করতে পারেন। নিজেদের পায়ে যেন বল থাকে, সেটা নিশ্চিত করতে পারেন। এ কাজে্র জন্য কোম্যানের মনে ধরেছে লিভারপুলের ভাইনালদামকে। লিভারপুলের সঙ্গে আর মাত্র এক বছরের চুক্তি থাকা এই তারকাকে চাইলেই বার্সা কম দামে নিয়ে যেতে পারে। ভাইনালদাম ছাড়াও নাপোলির স্প্যানিশ তারকা ফাবিয়ান রুইজ, লিওঁর ম্যাক্সেন্স ক্যাকেরে কিংবা বরুশিয়া মনশেনগ্লাডবাখের ডেনিস জাকারিয়া এ ক্ষেত্রে হতে পারেন আদর্শ বিকল্প।


বাকি থাকে আক্রমণভাগ। লুইস সুয়ারেজ চলে যাচ্ছেন। তাঁর জায়গায় এমন একজন স্ট্রাইকার দরকার যিনি মৌসুমে অন্তত ২৫-৩০ গোল করার সামর্থ্য রাখেন। কোম্যানের পছন্দ অলিম্পিক লিওঁর ডাচ তারকা মেমফিস ডিপাই। তবে, আনসু ফাতি ও ফ্রান্সসিকো ত্রিনকাওদের মতো তরুণদের আস্তে আস্তে সুযোগ দেওয়া বার্সা চাইলে কোম্যানের স্বদেশী স্ট্রাইকার, পিএসভির দনিয়েল মালেন কিংবা এজেড আলকমারের মাইরন বোয়াদুকে দলে নিতে পারে। দুজনই তরুণ, আক্রমণভাগে মেসির অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে পারলে প্রত্যেকেরই দুর্দান্ত স্ট্রাইকার হওয়ার সেই প্রতিভা আছে। অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার হিসেবে বহুদিন ধরেই ইন্টার মিলানের লওতারো মার্তিনেজকে চাইছে বার্সা, তবে আর্জেন্টাইন এই স্ট্রাইকারের যে দাম, তাতে এ যাত্রায় আর কেনা হবে না বলেই মনে হচ্ছে।

আগামী মৌসুমে বার্সেলোনার সম্ভাব্য একাদশ (ও খেলোয়াড়দের বিকল্প) যেমন হতে পারে -

default-image
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রিয়াল মাদ্রিদ

প্রয়োজন :
রাইটব্যাক, ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার, স্ট্রাইকার

যেতে পারেন :
গ্যারেথ বেল, লুকাস ভাসকেজ, লুকা জোভিচ, মারিয়ানো দিয়াজ, সার্জিও রেগিলন, আলভারো ওদ্রিওসোলা, বোর্হা মায়োরাল


যারা আদর্শ বিকল্প হতে পারেন :
এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা (রেনেঁ), কিলিয়ান এমবাপ্পে (পিএসজি), আর্লিং হরলান্ড (বরুসিয়া ডর্টমুন্ড), দায়োত উপামেকানো (আরবি লাইপজিগ), নুনো তাভারেস (বেনফিকা), বুবাকারি সুমাওরে (লিল)

default-image
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বার্সেলোনার তুলনায় রিয়াল মাদ্রিদের স্কোয়াডের অবস্থা বেশ ভালো, এটা বোঝা গেছে সর্বশেষ মৌসুমে লিগ জয়ী রিয়ালকে দেখেই। তবে কিছু জায়গায় এখনও উন্নতি করতে চাইবেন কোচ জিনেদিন জিদান। মূল রাইটব্যাক দানি কারভাহালের বিকল্প হিসেবে আলভারো ওদ্রিওসোলা এখনও নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি। হয়তো বিক্রি করে দেওয়া হতে পারে তাঁকে। সে ক্ষেত্রে বেনফিকার উঠতি পর্তুগিজ তারকা নুনো তাভারেসকে চাইলে দলে নিতে পারে রিয়াল। গত কয়েক মৌসুম ধরে দলের মূল রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার কাসেমিরোরও কোনো বিকল্প নেই দলে। যারা ছিলেন, সেই মার্কোস ইয়োরেন্তেকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে অ্যাটলেটিকোর কাছে। কাসেমিরোর ফিটনেস নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলার অবকাশ নেই, কিন্তু তিনি চোটে পড়লে কোচ জিদানের মাথায় চিন্তার ভাঁজ পড়তেই পারে। এ জায়গায় জিদানের মূল পছন্দ রেনেঁর তরুণ মিডফিল্ডার এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা। ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে নতুন সেন্টারব্যাক আনতে চাইলে লাইপজিগের উপামেকানোকে দলে টানতে পারেন জিদান।


স্ট্রাইকার করিম বেনজেমা এখনও দলের আক্রমণভাগের প্রাণভোমরা। তবে বয়স হয়ে যাচ্ছে তাঁরও। রিয়াল মাদ্রিদ এখনই তাঁর বিকল্প খোঁজা শুরু করে দিয়েছে। গত মৌসুমে যে লুকা জোভিচকে আনা হয়েছিল অনেক আশা নিয়ে, সেই সার্বিয়ান স্ট্রাইকার আলো ছড়াতে পারেননি। একই কথা বলা যায় মারিয়ানো দিয়াজের ক্ষেত্রেও।

করোনাভাইরাসের কারণে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে সাবধানী রিয়াল এই মৌসুমে তাই কিলিয়ান এমবাপ্পের দিকে হাত বাড়ায়নি, তবে সামনে যে বাড়াবে না, সেটা কে বলতে পারে! হাত বাড়াতে পারে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের আর্লিং হরলান্ডের দিকেও।


আগামী মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের সম্ভাব্য একাদশ (ও খেলোয়াড়দের বিকল্প) যেমন হতে পারে -

default-image
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ

প্রয়োজন :
লেফটব্যাক, উইঙ্গার, স্ট্রাইকার


যেতে পারেন :

থমাস পার্টি, থমাস লেমার, ডিয়েগো কস্তা, ভিতোলো

যারা আদর্শ বিকল্প হতে পারেন :
ম্যাথিয়াস অলিভিয়েরা (গেতাফে), মার্ক রোকা (এসপানিওল), আদামা ত্রায়োরে (উলভারহ্যাম্পটন), নিকোলাস তাগলিয়াফিকো (আয়াক্স), মুসা সিসোকো (টটেনহাম)
আর্দা তুরান, ইয়ানিক কারাসকোরা যাওয়ার পর থেকেই এই সমস্যায় ভুগছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। দলে এমন কোনো পরিশ্রমী উইঙ্গার নেই, যিনি কোচ ডিয়েগো সিমিওনের আদর্শ অনুযায়ী আগে রক্ষণভাগ ও মিডফিল্ড সামলে পরে সুযোগ পেলে আক্রমণে উঠতে পারেন। বিভিন্ন সময়ে ভিতোলো, থমাস লেমারদের মতো উইঙ্গার আনা হলেও লাভ হয়নি। শেষমেশ সেন্ট্রাল মিডফিল্ডারদের উইংয়ে খেলানো শুরু করেছেন এই আর্জেন্টাইন কোচ, কারাসকোকে চীনের দালিয়ান প্রফেশনাল ক্লাব থেকে ফিরিয়ে এনেছেন। তাই অ্যাটলেটিকোর এমন উইঙ্গার দরকার যাদের মূল লক্ষ্য আক্রমণ বা রক্ষণের সময় দলের ছক ও আকার বজায় রেখে পরে সুযোগ পেলে আক্রমণে যাওয়া, দলকে বিপদে ফেলে না। এই লক্ষ্যে আদর্শ উইঙ্গার হতে পারেন উলভারহ্যাম্পটনের আদাম ত্রায়োরে কিংবা টটেনহামের মুসা সিসোকো। প্রথমজন সমানতালে উইং দিয়ে ওঠানামা করতে পারেন, দ্বিতীয়জন দলের প্রয়োজন অনুযায়ী সেন্ট্রাল মিডফিল্ড থেকে উইং, সব জায়গাতেই খেলতে পারেন।


লেফটব্যাক হিসেবে রেনান লোদির একজন ‘ডেপুটি’ দরকার অ্যাটলেটিকোর। বা এমন একজন, যাকে লোদির সঙ্গে অদল-বদল করে খেলাতে পারেন সিমিওনে। সে হিসেবে আয়াক্সের তাগলিয়াফিকো কিংবা গেতাফের ম্যাথিয়াস অলিভিয়েরা হতে পারেন আদর্শ। ডিয়েগো কস্তা কিংবা আলভারো মোরাতাও স্ট্রাইকার হিসেবে তেমন আলো ছড়াতে পারেননি এ মৌসুমে। তবে দুজনকেই আরেক মৌসুম সুযোগ দিতে পারেন সিমিওনে, হয়তো স্ট্রাইকার হিসেবে নতুন কাউকে কিনবেন না এই কোচ।


আগামী মৌসুমে অ্যাটলেটিকোর সম্ভাব্য একাদশ (ও খেলোয়াড়দের বিকল্প) যেমন হতে পারে -

default-image
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

বায়ার্ন মিউনিখ


প্রয়োজন :
রাইটব্যাক, সেন্ট্রাল মিডফিল্ড


যেতে পারেন :
থিয়াগো আলকানতারা, হাভি মার্তিনেজ


যারা আদর্শ বিকল্প হতে পারেন :
ডেনিস জাকারিয়া (বরুশিয়া মনশেনগ্লাডবাখ), সার্জিনো দেস্ত (আয়াক্স), মার্ক রোকা (এসপানিওল), মোহামেদ ইহাত্তারেন (পিএসভি), ডমিনিক জবোস্লাই (রেড বুল সালজবুর্গ), ফ্লোরেন্তিনো লুইস (বেনফিকা), ম্যাক্স অ্যারনস (নরউইচ সিটি)
তর্কযোগ্যভাবে বিশ্বের সেরা দল এখন চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী বায়ার্ন মিউনিখ। সদ্য ট্রেবলজয়ী দলটার তেমন কোনো ঘাটতি চোখে পড়বে না। তবে স্প্যানিশ মিডফিল্ডার থিয়াগো আলকানতারার ক্লাব ছাড়ার ব্যাপারটা প্রায় নিশ্চিত। ক্লাব ছাড়তে পারেন আরেক মিডফিল্ডার হাভি মার্তিনেজও। রক্ষণভাগের একটু সামনে থেকে গোটা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হাতে রাখার মতো খেলোয়াড় তাই দরকার বায়ার্নের। এ সমস্যা সমাধানে বায়ার্নের ঘরেই একজন খেলোয়াড় আছে, তরুণ মিডফিল্ডার অ্যাঞ্জেলো স্টিলার। তবে আগামী মৌসুম থেকে তাঁকে থিয়াগোর জায়গায় সরাসরি খেলানো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায় বিধায় একজন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার আনতে পারে বায়ার্ন। সেক্ষেত্রে মনশেনগ্লাডবাখের জাকারিয়া, বেনফিকার পর্তুগিজ তরুণ ফ্লোরেন্তিনো লুইস হতে পারেন আদর্শ সংযোজন।


বিশ্বের অন্যতম সেরা দুই রাইটব্যাক এখন বায়ার্নের হয়ে খেলেন, তা সত্ত্বেও বায়ার্ন হয়তো আরেক রাইটব্যাক আনতে পারে দলে। কারণ, জোশুয়া কিমিখ কিংবা বেঞ্জামিন পাভার প্রত্যেকে অন্য পজিশনে আরও ভালো খেলেন—কিমিখ সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে, পাভার সেন্টারব্যাক হিসেবে। রিয়াল থেকে এই মৌসুমে ধারে স্প্যানিশ রাইটব্যাক আলভারো ওদ্রিওসোলাকে আনা হলেও আগামী মৌসুমে বায়ার্নে খেলবেন না তিনি। আয়াক্সের দেস্ত কিংবা নরউইচের ম্যাক্স অ্যারনসের দিকে চোখ তাদের।


আগামী মৌসুমে বায়ার্নের সম্ভাব্য একাদশ (ও খেলোয়াড়দের বিকল্প) যেমন হতে পারে

default-image
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

বরুসিয়া ডর্টমুন্ড


প্রয়োজন :
সেন্টারব্যাক, স্ট্রাইকার


যেতে পারেন :
জেডন সানচো, ফেলিক্স প্যাসল্যাক


যারা আদর্শ বিকল্প হতে পারেন :

নিকো এলভেদি (বরুসিয়া মনশেনগ্লাডবাখ), জ্যাঁ-ক্লাইর তোদিবো (বার্সেলোনা), ইভান এনডিকা (আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট), প্যানাগিওতিস রেতসোস (বেয়ার লেভারকুসেন), জোনাথন ইকোনে (লিল), প্যাটসন ডাকা (রেড বুল সালজবুর্গ)।


ডর্টমুন্ডের প্রাক-মৌসুম ম্যাচগুলোতে একটা বিষয় দেখা গেছে। রক্ষণভাগে চারজন না রেখে পাঁচজন রেখে খেললে তারা ভালো খেলে। কিন্তু সমস্যা হল, রক্ষণভাগে পাঁচজনকে রাখলে সেন্টারব্যাক হিসেবে খেলতে হয় তিনজনকে। ওদিকে ডর্টমুন্ডের স্কোয়াডে প্রথাগত সেন্টারব্যাক আছেনই তিনজন। তাই ৩-৫-২ খেলাতে চাইলে একজন নতুন সেন্টারব্যাক কেনা আবশ্যক ডর্টমুন্ডের। সে লক্ষ্যে বুন্দেসলিগায় খেলা বেশ কিছু তরুণ সেন্টারব্যাককে পছন্দ হতে পারে লোচ লুসিয়েন ফাভরার—বেয়ার লেভারকুসেনের প্যানাগিওতিস রেতসোস, ফ্রাঙ্কফুর্টের ইভান এনডিকা, মনশেনগ্লাডবাখের এলভেদি প্রমুখ। ওদিকে জেডন সানচো কী থাকবেন কি না, সেটার ওপর নির্ভর করছে ডর্টমুন্ডের দলবদল পরিকল্পনা। সানচো চলে গেলে সে জায়গায় একজন উইঙ্গার আনার পরিকল্পনা করছে ডর্টমুন্ড। সে ক্ষেত্রে লিলের ফরাসি উইঙ্গার জোনাথন ইকোনে কে দলে নিতে পারে তারা। স্ট্রাইকার হিসেবে আর্লিং হরলান্ডের ওপর চাপ কমানোর জন্য আরেকজন স্ট্রাইকার দরকার তাঁদের। হরলান্ডের সাবেক ক্লাব সালজবুর্গের স্ট্রাইকার পাটসন ডাকা সেক্ষেত্রে হতে পারেন আদর্শ বিকল্প।


আগামী মৌসুমে ডর্টমুন্ডের সম্ভাব্য একাদশ (ও খেলোয়াড়দের বিকল্প) যেমন হতে পারে -

default-image
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন