বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কেন? সে প্রশ্নের উত্তরেও অনেকে একটি পরিসংখ্যান টেনে আনতে পারেন। বার্সা সর্বশেষ ইউরোপা লিগে খেলেছে ২০০৩–০৪ মৌসুমে। পরের মৌসুমে ক্লাবটির হয়ে অভিষেক ঘটে লিওনেল মেসির। মাঝে এতগুলো মৌসুম বার্সাকে টেনে নেওয়ার পর চার মাস আগে প্যারিসকে নতুন ঠিকানা বানান আর্জেন্টাইন তারকা। এদিকে বার্সাও নেমে গেল ইউরোপা লিগে। অর্থাৎ, মেসিকে ধরে রাখতে না পারার জন্যই কি এমন পতন?

চ্যাম্পিয়নস লিগে কাল রাতে বায়ার্নের মাঠে ৩–০ গোলের হারে চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বিদায় নিয়েছে কাতালান ক্লাবটি। লা লিগা পয়েন্ট টেবিলেও সাতে রয়েছে জাভি হার্নান্দেজের দল। অথচ এক সময় লিগ টেবিলের শীর্ষ তিনের মধ্যেই ওঠা–নামা করেছে বার্সা। এমন পতনের কারণ হিসেবে বার্সার সমর্থকেরা অনেক দিন ধরেই দুষছেন ক্লাবের ব্যবস্থাপকদের। ক্লাবটির তারকা ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকে যেমন মঙ্গলবার স্পস্ট বলেছেন, বার্সার এই পতনের কারণ ‘ম্যানেজমেন্ট। এটা বোঝা খুবই সহজ।’

default-image

হোয়ান লাপোর্তা বর্তমান সভাপতি হয়ে আসার আগে বার্সার এই পদ সামলেছেন জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউ। তাঁকে নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। ঋণের ভারে ক্লাবের আর্থিক অবস্থা সবচেয়ে সঙ্গিন হয় তাঁর হাত ধরেই। এখন তারই ফল ভোগ করতে হচ্ছে। মেসি ছাড়াও ক্লাবটির আরও কয়েক তারকার সঙ্গে বার্তোমেউয়ের বিরোধটা মাঝে–মধ্যেই স্পস্ট হয়ে উঠেছে। জাভি কোচ হয়ে এসেছেন, নতুন প্রকল্প হাতে নিয়ে জানুয়ারিতে সে অনুযায়ী খেলোয়াড় কেনার পরিকল্পনা আছে ক্লাবটির। কিন্তু চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ায় ক্লাবটির আয়ের অঙ্কে ভাটা পড়বে নিশ্চিতভাবেই। তাতে দেড় বিলিয়ন ইউরোর ‘এসপাই বার্সা’ নামের প্রকল্পও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

বার্তোমেউ প্রশাসনের সময় বার্সার খেলোয়াড় বেচা–কেনা নীতিও সমালোচিত হয়েছে ভীষণভাবে। ওসমান দেম্বেলের কথাই ধরুন। কাল রাতে ৭৩ মিনিট পর্যন্ত খেলা ২৪ বছর বয়সী এ উইঙ্গার প্রথমার্ধে গোলপোস্টের ওপর দিয়ে মেরে একটি সুযোগ নষ্ট করেন। ২০১৭ সালে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে এড়িয়ে তাঁকে কিনে নেইমারের শূন্যতা পূরণ করতে চেয়েছিল ক্লাবটি। কিন্তু গত চার বছরে এই উইঙ্গারকে অর্ধেক ম্যাচেই পায়নি বার্সেলোনা। চোটে পড়াকে রীতিমতো অভ্যাস বানিয়ে ফেলেছেন দেম্বেলে।

রেকর্ড দামে কেনা ফিলিপ কুতিনিও–কে দ্বিতীয়ার্ধে নামিয়েও কোনো ফায়দা পায়নি ক্লাবটি। এর বাইরে আর্থিক কারণে মেসি, লুইস সুয়ারেজ ও আঁতোয়ান গ্রিজমানদের মতো খেলোয়াড়দেরও ধরে রাখতে পারেনি কিংবা ধরে রাখেনি বার্সা। এখন এই তিন তারকা হয়তো টিভিতে দেখবেন ইউরোপের দ্বিতীয় সারির টুর্নামেন্টে তাঁদের সাবেক ক্লাব কেমন খেলছে!

default-image

এদিকে জাভির ভাবনাটা ভিন্ন। বাস্তবতা মেনে নিচ্ছেন বার্সার মাঝমাঠে কিংবদন্তির স্বীকৃতি পাওয়া এই কোচ। খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে মোটেও সন্তুষ্ট হতে পারেননি জাভি। তবে চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বিদায় নেওয়াকে পরিবর্তনের শুরু হিসেবে দেখছেন বার্সার এই কোচ, ‘নিজেদের আরও নিংড়ে দিতে হবে। আমরা বার্সেলোনা। (ক্লাবের) গতিধারা পাল্টাতে এটাই হয়তো পরিবর্তনের সূচনা। এটা চ্যাম্পিয়নস লিগ অথচ আমরা প্রতিদ্বন্দ্বীতাই গড়তে পারিনি। এটাই বাস্তবতা। (কাল রাতে) আজ নতুন যুগ শুরু হলো।’

জাভি স্পস্ট বলে দিয়েছেন ‘ব্যর্থতা শব্দটা’ তাঁর ‘অপছন্দ।’ খেলোয়াড় হিসেবে ‘কঠোর বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাওয়া’র কথা বলে বার্সা কোচ যেন হুংকার ছাড়লেন, ‘এখন হাত পা গুটিয়ে বসে থাকার সময় না। জেগে উঠতে হবে। বার্সাকে যোগ্য জায়গায় ফেরাতে হবে—সেটা ইউরোপা লিগ হতে পারে না।’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন