অনেকেরই ধারণা, বার্সায় আর থাকছেন না মেসি।
অনেকেরই ধারণা, বার্সায় আর থাকছেন না মেসি। ফাইল ছবি: রয়টার্স

মৌসুম শেষে কোথায় যাবেন লিওনেল মেসি? বার্সেলোনাতেই চুক্তি নবায়ন করে থেকে যাবেন, নাকি গুঞ্জন সত্যি করে চলে যাবেন পিএসজি কিংবা ম্যানচেস্টার সিটিতে?

ইউরোপের ফুটবলে দলবদলের বাজার গরম করে রাখা বিষয়ই হয়ে আছে বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের ভবিষ্যৎ। বার্সেলোনা–ভক্তরা আশায় আছেন মেসির ক্যারিয়ারের শেষটাও তাঁদের জার্সিতে দেখার, পিএসজি–ভক্তরা আশায় নেইমারের সঙ্গে মেসিরও পিএসজির জার্সিতে আলো ছড়ানোর, সাবেক কোচ পেপ গার্দিওলার সঙ্গে মেসির আবার যুগলবন্দীর আশায় আছেন ম্যানচেস্টার সিটির ভক্তরা।

সম্ভাবনা কম, তবে ‘রোমান্টিক’ একটা ভাবনা নিয়ে আশায় বসে আর্জেন্টিনার ক্লাব নিওয়েলস ওল্ড বয়েজের সমর্থকেরাও। শৈশবের ক্লাবে মেসি ফিরবেন, ক্যারিয়ারের শেষ দু-একটা বছর খেলবেন...স্বপ্ন দেখতে দোষ কী!

তবে তাঁদের বাইরে আরেকটা পক্ষও এখন আরও আশাবাদী হয়ে ওঠার কথা। গত বছর দুয়েকে ইউরোপে বেশ বড় গুঞ্জন, ক্যারিয়ারের শেষ দিকে মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো দুজনই যাবেন যুক্তরাষ্ট্রের মেজর সকার লিগের (এমএলএস) ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে। ক্লাবটার মালিকের নাম ডেভিড বেকহাম বলে কথা!

গুঞ্জনের পালে বড় হাওয়া হয়ে আসছে নতুন খবর, সেখানে প্রায় ৭ দশমিক ৩ মিলিয়ন বা ৭৩ লাখ ডলারে একটা বিশাল বাড়ি কিনেছেন মেসি!

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশি মুদ্রায় বাড়িটার দাম? ৬১ কোটি ৬২ লাখ টাকার বেশি! এই প্রথম যে সেখানে বাড়ি কিনলেন মেসি, তা-ও নয়। মাত্র ২ বছর আগেই সেখানে ৫০ লাখ ডলারে আরেকটা বাড়ি কিনেছিলেন বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড।

দৃশ্যত, মেসির পরিবারের মায়ামি শহরটাকে বেশিই ভালো লেগেছে। সমুদ্রের পাশের শহর, পর্যটন অঞ্চল...মায়ামির আকর্ষণ বিশ্বজুড়েই অনেক বেশি। সেই মায়ামির রেগালিয়ায় এবার ৭৩ লাখ ডলারের বাড়িটি (কন্ডোমিনিয়াম) কিনেছে মেসির পরিবার। সে অঞ্চলের পত্রিকা মায়ামি হেরাল্ডের অনলাইন সংস্করণে লেখা, রৌদ্রোজ্জ্বল দ্বীপটির সবচেয়ে বিলাসবহুল ভবনগুলোর একটি এই রেগালিয়া। সমুদ্রসৈকতের দিকে মুখ করে রাখা বাড়িটির জানালা ফ্লোর থেকে সিলিং পর্যন্ত।

default-image

কী আছে এই রাজসিক অ্যাপার্টমেন্টে? এটির আয়তন ৫ হাজার ৫১৫ বর্গফুট। ৩৯ তলার রেগালিয়ার নবম তলার অ্যাপার্টমেন্ট নিয়েছেন মেসিরা। চারটি বেডরুম আছে এতে। এর বাইরে টেরেস থাকছে ২ হাজার ১০০ বর্গফুটের। একটি এক হাজার বোতল ওয়াইন-কুলারও থাকছে। পুরোপুরি সাজিয়ে গুছিয়ে নিয়েই অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি করা হবে।

নিজের অ্যাপার্টমেন্টের পাশাপাশি আরও কিছু সুবিধাও পাবেন মেসিরা। রেগালিয়ায় ছয়টি সুইমিংপুল আছে। থাকছে একটি স্পা, বেশ কিছু কাবানা, একটি ফিটনেস সেন্টার, ইয়োগা স্টুডিও, বাচ্চাদের খেলার বিশেষায়িত জায়গা, একটি শেফ’স কিচেন, একটি শ্যাম্পেন বার ও একটি ওয়াইন সেলার। দুই বছর আগে মায়ামিরই আরেক বিলাসবহুল ভবন, ৬০ তলার পোরশে ডিজাইন টাওয়ারে আরেকটি অ্যাপার্টমেন্ট কিনেছিলেন মেসি।

মেসির এভাবে মায়ামিতে বাড়ি কেনায় সবচেয়ে বেশি খুশি হওয়ার কথা ইন্টার মায়ামি সমর্থকদের। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও রিয়াল মাদ্রিদের ইংলিশ কিংবদন্তি বেকহামের মালিকানায় তিন বছর আগে প্রতিষ্ঠিত ক্লাবটার সঙ্গে এরই মধ্যে রোনালদো-মেসির মতো তারকাদের নাম জড়িয়ে গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। এমনকি মেসি-রোনালদোকে একসঙ্গে মায়ামিতে খেলাবেন বেকহাম, এমনও শোনা যায়।

মেসির বার্সেলোনায় চুক্তি নবায়ন কিংবা সিটি-পিএসজিতে যাওয়ার গুঞ্জনের মধ্যেও ইন্টার মায়ামি নয়তো যুক্তরাষ্ট্রের এমএলএস জড়িয়ে যাচ্ছে। গত দুই দিনে শোনা যাচ্ছে, বার্সায় চুক্তি নবায়নের ক্ষেত্রেও মেসি এমনভাবে নবায়ন করবেন যাতে বার্সায় আরও দুই-তিন বছর থেকে পরে ইন্টার মায়ামিতে যেতে পারেন।

আবার এর আগে তাঁর ম্যান সিটিতে যাওয়ার গুঞ্জনে শোনা গিয়েছিল, সিটির সঙ্গে মেসির চুক্তিই এমন হবে যে ম্যান সিটিতে মেসি খেলবেন দুই-তিন বছর, এরপর আরও দুই বছর খেলবেন নিউইয়র্ক সিটি এফসিতে, যা কিনা ম্যান সিটির মালিক প্রতিষ্ঠানেরই যুক্তরাষ্ট্রের ফ্র্যাঞ্চাইজি।

মায়ামিতে বাড়ি কেনায় মেসির যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার গুঞ্জনের মাত্রা আরও বাড়াবে!

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন