default-image

জিবুতি যে একটা দেশের নাম, তা-ই হয়তো অনেকের অজানা। জিবুতি দেশটা কোথায়, তা-ও হয়তো জানা না থাকতে পারে অনেকের। দেশটা যে ফুটবল খেলে, ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইয়েও এবার অংশ নিচ্ছে—এই তথ্য যে খুব কম লোকের জানা, তা নিশ্চিত করেই বলা যায়।

পূর্ব আফ্রিকার এই দেশের ক্লাবেই যোগ দিয়েছেন বার্সেলোনার সাবেক মিডফিল্ডার অ্যালেক্স সং! দেশটির প্রিমিয়ার লিগে খেলা সেই ক্লাবের নাম এএস আরতা সোলার সেভেন।

ফুটবলে দেশটা কত ‘উন্নত’, তা ফিফা র‍্যাঙ্কিং দেখেই বুঝে নেওয়া যাবে। এ মুহূর্তে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে অবশ্য বাংলাদেশের চেয়ে একটু ওপরেই আছে জিবুতি। বাংলাদেশের র‍্যাঙ্কিং ১৮৭, জিবুতির ১৮৫। এমন র‍্যাঙ্কিংয়ের একটা দেশের ক্লাবে যোগ দেবেন মাত্র চার বছর আগে বার্সেলোনায় খেলে যাওয়া কেউ, সেটা একটু কল্পনার অসাধ্যই!

বিজ্ঞাপন

বার্সেলোনায় আসার আগে অবশ্য ইংলিশ ক্লাব আর্সেনালেই নাম কুড়িয়েছিলেন সং। ফ্রেঞ্চ ক্লাব বাস্তিয়ার যুব প্রকল্পে বেড়ে ওঠা ক্যামেরুনের মিডফিল্ডারের। সেখানে এক বছর কাটিয়ে ২০০৫ সালে ধারে ও পরের বছর পাকাপাকিভাবে আর্সেনালে চলে যান। আর্সেন ওয়েঙ্গারের অধীন সে আর্সেনালে গুছিয়ে নিতে একটু সময় লেগেছিল, তবে সেস্ক ফ্যাব্রেগাস-সামির নাসরিরা চলে যাওয়ার পর আর্সেনালের মাঝমাঠের দায়িত্বটা বুঝে নেন সং।

ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দেওয়ার কাজটা তো ভালোই পারতেন, পাশাপাশি ফরোয়ার্ডদের উদ্দেশে দারুণ সব পাসও বাড়াতে পারতেন। ২০১১-১২ মৌসুমে ১ গোল করার পাশাপাশি ১১টি গোল করিয়েছিলেন! আর্সেনালে সে ঝলক দেখানোতেই ২০১২ সালে ডাক পড়ে বার্সেলোনায়। সং সুযোগটা লুফে নেন। কেন আর্সেনালে নিয়মিত খেলার সুযোগ ছেড়ে বার্সেলোনায় এলেন, সে প্রশ্নে সং তখন বলেছিলেন, ‘আমি (আর্সেনালেই) থাকতাম। কিন্তু বার্সেলোনার ট্রেন যখন আসে, সেটা জীবনে একবারই আসে আর এ সুযোগ হাতছাড়া করা যায় না।’

এখন পিছু ফিরে দেখলে হয়তো সংয়ের মনে হয়, সব সুযোগ নিতে নেই। বার্সেলোনায় গিয়ে খেলার সুযোগই পেলেন না! দুই বছরে সব মিলিয়ে ৬৫ ম্যাচ খেলেছেন, এর ২২টিতে নেমেছেন বদলি হিসেবে। ২০১৪ সাল থেকে দুই বছর ধারে কাটিয়েছেন ইংল্যান্ডের ওয়েস্ট হামে, ২০১৬ সালে তাঁকে ছেড়েই দিল বার্সেলোনা। এরপর রাশিয়ার রুবিন কাজানে দুই বছর, সুইজারল্যান্ডের সিওনে দুই বছর। এই মৌসুমের শেষে সিওন তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার পর কোনো ক্লাবই ৩৩ বছর বয়সী এই সংকে নিতে রাজি হয়নি।

default-image

সুযোগটা নিয়েছে জিবুতির ক্লাব এএস আরতা সোলার সেভেন। ‘জিবুতিয়ান ফুটবলের জন্য এটা অনেক বড় প্রাপ্তি’—তাঁকে দলে নেওয়ার ঘোষণায় গর্বভরে লিখেছে এএস আরতা সোলার সেভেন। আর সং বললেন, ‘স্থানীয় ফুটবলকে ছড়িয়ে দেওয়ার এটা একটা সুযোগ।’ বিবিসি জানাচ্ছে, খেলার পাশাপাশি দেশটির নিচু স্তরের লিগগুলোর উন্নতির তদারকিও দেখভাল করবেন সং।

চারবার জিবুতিয়ান লিগ ও ছয়বার জিবুতিয়ান কাপ জেতা ক্লাবটি এবারের টানা তৃতীয়বারের মতো আফ্রিকান কনফেডারেশন কাপেও খেলবে। দ্বিতীয় সারির মহাদেশীয় ক্লাব টুর্নামেন্টটাকে আফ্রিকার ‘ইউরোপা লিগ’ বলা যায়! সে যা-ই হোক, সংয়ের ফুটবল-যাত্রা তাঁকে কোথা থেকে কোথায় নিয়ে গেল!

বিজ্ঞাপন

বার্সা ছাড়ার পর অবশ্য মাঠের বাইরের জীবনটাও ভালো যায়নি সংয়ের। তাঁর দাবি, রুবিন কাজানে তাঁকে যা কিছুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার কিছুই দেওয়া হয়নি। ‘ক্লাবে আমি একাই খেতাম। পাগল হয়ে যাচ্ছিলাম। কাঁদিনি, তবে খুব কষ্ট পাচ্ছিলাম। ক্লাবে সই করার সময় ওরা আমাকে বলেছিল আমাকে একটা বাড়ি দেব, অনেক মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও আমি সেটা পাইনি। শেষ পর্যন্ত ওরা আমাকে হোটেল থেকে বের করে নিয়ে রাখল ক্লাবের স্পোর্টস সিটিতে’—ইংলিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফে বলেছেন সং।

স্পোর্টস সিটিতে সময়টা আরও খারাপ কেটেছে সংয়ের, ‘পুরো সময়টা রুমেই কাটাতাম। লাইটও জ্বালাতাম না। সব সময় আমার কম্পিউটার নিয়ে পড়ে থাকতাম। টিভি চালাতাম না। কারণ, সেখানে সব রাশিয়ান ভাষায় বলে, কিছু বুঝতাম না। আমার পুরো সময়ই কেটেছে কম্পিউটার আর মোবাইলে, আর সেটা ভালো কিছু নয়।’ পরের দিকে তো বেতনও পাননি!

সেখান থেকে সিওনে গিয়েও খুব একটা ভালো কিছু হয়নি। মাঠের বাইরে ঝামেলার কারণে ক্লাবের রিজার্ভ দলের হয়ে খেলতে হয়েছে তাঁকে। এরপর গত মার্চে করোনা হানা দেওয়ার পর ক্লাবের সবাইকে বেতন কমাতে বলা হয়। কিন্তু তাতে রাজি না হওয়ায় আরও আটজনের সঙ্গে সংয়ের চুক্তিও বাতিল করে দেয় সিওন।

এবার জিবুতিতে গিয়ে ভাগ্য বদলাবে সংয়ের?

মন্তব্য পড়ুন 0