default-image

কার্লেস তুসকেতস। করোনাভাইরাস। এই দুটি নাম দেখলেই এখন হয়তো মেজাজ চড়ে যাবে বার্সেলোনার কোনো সমর্থকের।

কার্লেস তুসকেতস বার্সেলোনার অন্তর্বর্তীকালীন বোর্ডের নেতা। গত অক্টোবরে জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউ ও তাঁর বোর্ড পদত্যাগ করার পর থেকে বার্সেলোনার দেখভালের দায়িত্ব তাঁর হাতে। যদিও সব ছাপিয়ে তাঁর একটাই দায়িত্ব ছিল—যত দ্রুত সম্ভব বার্সেলোনার পরের সভাপতি নির্বাচন করা। সেটি তিনি করতে পারেননি। আর করোনাভাইরাস তো এক বছরের বেশি সময় ধরে বিশ্বকে ভুগিয়ে যাচ্ছে।

বার্সেলোনাকেও আর্থিকভাবে তো ক্ষতিগ্রস্ত করেছেই, এখন প্রশাসনিক জটিলতায়ও ফেলছে।

বিজ্ঞাপন

তুসকেতসের কালক্ষেপণ আর করোনার প্রভাবের কারণে বার্সার নতুন ক্ষতি—ক্লাবের সভাপতি নির্বাচন পিছিয়ে যাচ্ছে। ২৪ জানুয়ারি নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনার মধ্যে মানুষের ভোট দেওয়ায় ঝুঁকি চিন্তা করে সেটি পিছিয়ে দিয়েছে বার্সেলোনা যে অঞ্চলের ক্লাব, সেই কাতালুনিয়ার প্রশাসন। আজ ক্লাব আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে, ভোট পিছিয়ে যাচ্ছে।

বার্তোমেউ ও তাঁর বোর্ড পদত্যাগ করার পর বার্সার সমর্থকেরা তো খুশি হয়েছিলেনই, নতুন সভাপতির অধীনে সুদিন ফিরবে ক্লাবে, এমন আশাও দেখেছিলেন। কিন্তু আজ নিশ্চিত হলো, বার্সার সেই সুদিনের অপেক্ষা শিগগিরই ফুরোচ্ছে না। বার্সা সমর্থকদের ভয় জাগাবে আরেকটি তথ্যও—নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ায় আবার শঙ্কায় পড়ে গেল ক্লাবে লিওনেল মেসির ভবিষ্যৎ। গত আগস্টে ক্লাব ছাড়তে চাওয়া আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের ক্লাবে থাকা না–থাকা নতুন সভাপতির সঙ্গে জড়িত বলেই ভাবা হচ্ছিল।

মেসির চুক্তি আগামী জুনে শেষ, আর এদিকে নতুন সভাপতি ক্লাবকে আবার সর্বজয়ী করতে কী কী পদক্ষেপ নেবেন, সেটি দেখে পছন্দ হলেই চুক্তি নবায়নের সিদ্ধান্ত মেসি নেবেন বলে জানা গিয়েছিল। সভাপতি নির্বাচনই পিছিয়ে গেলে মেসির ভবিষ্যৎ তো শঙ্কায় পড়ে গেলই!

default-image

ভোট পিছিয়ে কবে হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সেটি কাতালুনিয়ার সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেবে বার্সেলোনা। এর মধ্যে কাতালুনিয়া সরকারকে বার্সেলোনা অনুরোধ করেছে, যাতে নিয়মে বদল এনে সশরীর উপস্থিত হওয়ার বদলে চিঠির মাধ্যমে বা ইলেকট্রনিক ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করা যায়।

বার্সেলোনা বিবৃতিতে লিখেছে, ‘মহামারির বর্তমান অবস্থার আলোকে ক্লাব বুঝতে পারছে, মানুষের চলাচলে কাতালান সরকারের জারি করা বিধিনিষেধের মধ্যে নির্ধারিত তারিখে নির্বাচন করা অসম্ভব। সে কারণে নির্বাচনের তারিখ পেছাতেই হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ক্লাব কাতালান সরকারকে অনুরোধ করেছে বর্তমান ক্রীড়া আইনে বদল আনার জন্য, যাতে নির্বাচনের নতুন দিনে চিঠির মাধ্যমে ভোট দেওয়া সম্ভব হয়। অনুরোধটা সরকার ভেবে দেখছে।’

বিজ্ঞাপন

হোয়ান লাপোর্তা, ভিক্তর ফন্ত ও টনি ফ্রেইসা—বার্সার সভাপতি নির্বাচনে এখন প্রার্থী আছেন এই তিনজনই। প্রার্থিতার চূড়ান্ত বৈধতা নিশ্চিত করতে ক্লাবের সদস্যদের একটি নির্দিষ্টসংখ্যক স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়, সেটি শুধু এই তিনজনই পেয়েছেন। এর মধ্যে লাপোর্তা ও ফন্ত—এ দুজনের জয়ের সম্ভাবনা বেশি ভাবা হচ্ছে।

২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত বার্সেলোনার সভাপতি ছিলেন লাপোর্তা। তাঁর অধীনে পেপ গার্দিওলা নিয়োগ পেয়েছেন। লিওনেল মেসির সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক অনেক ভালো বলে দাবি করেন লাপোর্তা। আর ফন্ত বার্সেলোনাকে সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। ক্লাবের কিংবদন্তি মিডফিল্ডার জাভি হার্নান্দেজকে কোচ করে আনার পরিকল্পনা তাঁর। দুজনই অবশ্য নির্বাচিত হলে মেসির চুক্তি নবায়নে জোর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

গত অক্টোবরে বার্তোমেউর পদত্যাগের পর থেকে বার্সার দেখভালের দায়িত্ব অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের নেতা তুসকেতসের হাতে। তাঁর মূল দায়িত্ব দ্রুততম সময়ে সভাপতি নির্বাচন আয়োজন করা হলেও তুসকেতস প্রথমেই বেছে নিয়েছিলেন সম্ভাব্য তারিখগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শেষ তারিখটিকে, অর্থাৎ ২৪ জানুয়ারি। এখন তো সেই তারিখেও নির্বাচন হচ্ছে না।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন