জাতীয় দলে মেসির সময়টা আনন্দেই কাটছে।
জাতীয় দলে মেসির সময়টা আনন্দেই কাটছে। ছবি: রয়টার্স

চিত্রপটে যেন ১৮০ ডিগ্রি বদল! এই কয়েক বছর আগেও কথাটা ছিল এমন—লিওনেল মেসি যতটা বার্সেলোনার, ততটা আর্জেন্টিনার নন। ক্লাব বার্সেলোনায় গোলের বন্যা বইয়ে দেওয়া আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড জাতীয় দলের জার্সিতে এলেই হয়ে পড়েন ম্রিয়মান—এতদিন এমনই ছিল মেসিকে ঘিরে সমালোচনা। সেটিই এখন পুরো উল্টে গেল!

গত কয়েক মাসে বার্সেলোনায় মেসিকে দেখে মোটেও সুখী মনে হচ্ছে না। গত আগস্টে তো বার্সেলোনার সঙ্গে ২০ বছরের সম্পর্কের শেষ টেনে অন্য ক্লাবে চলে যাওয়ার ইচ্ছাতে ক্লাবে বুরোফ্যাক্সও পাঠিয়েছেন। সেই মেসিকেই আবার জাতীয় দলের ক্যাম্পে দেখা গেল বেশ হাসিখুশি। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে মেসির সতীর্থ আলেহান্দ্রো পাপু গোমেজেরও তা-ই মনে হচ্ছে। ইতালিয়ান ক্লাব আতালান্তায় খেলা ৩২ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডের চোখে, মেসি বার্সায় অস্বস্তিতে আছেন, তবে আর্জেন্টিনার বর্তমান এই দলে তিনি খুশি।

বিজ্ঞাপন

গত মাসে আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দুটি ম্যাচে খেলেছেন মেসি। এর মধ্যে ইকুয়েডরের বিপক্ষে নিজেদের মাটিতে ম্যাচটা আর্জেন্টিনা জিতেছেই মেসির পেনাল্টিতে, আর বলিভিয়ার মাটিতে আর্জেন্টিনার ১৫ বছরের জয়খরা কাটানোর পথে মেসি গোল না পেলেও দারুণ খেলেছেন। শুধু এই দুটি ম্যাচই নয়, ২০১৮ বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর তরুণ প্রতিভাবানদের নিয়ে আস্তে আস্তে গুছিয়ে উঠছে আর্জেন্টিনা, আর সেই পালাবদলের নেতৃত্বকে ঘিরে মেসিকে বেশ উচ্ছ্বসিত মনে হয়েছে। দূর থেকেই অনুভব করা যায়, এই তরুণদের নিয়ে আর্জেন্টিনার দারুণ ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছেন মেসি।
বার্সেলোনায় যা পাচ্ছেন না মেসি। গত কয়েক বছর ধরেই মাঠে বার্সেলোনার পারফরম্যান্স খারাপ হচ্ছে। চ্যাম্পিয়নস লিগে বছরের পর বছর লজ্জা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। দুদিন আগে পদত্যাগ করা সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউ ও তাঁর বোর্ড দলের প্রয়োজনের দিকে খেয়াল না রেখে একের পর তারকা কেনার পেছনে ছুটেছেন, তাতে মাঠে বার্সেলোনা হয়ে পড়েছে ভারসাম্যহীন। আগস্টে তাই মেসি ক্লাব ছাড়তে চাওয়ার কারণ হিসেবে সত্যিটাই সরাসরি বলে দিয়েছিলেন—বার্সেলোনার একের পর এক শিরোপার লড়াইয়ে থাকার মতো কোনো জুতসই ক্রীড়া প্রকল্প বা স্পোর্টিং প্রজেক্ট নেই।

আর্জেন্টিনার দলটাও এখনো শিরোপা লড়াইয়ে নামার মতো নয়, আলেহান্দ্রো গোমেজও তা-ই বলছিলেন। তবে এই দলকে ঘিরে এখন স্বপ্ন দেখেন মেসি। সে জন্যই হয়তো মেসি খুশি। ৩৩ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডকে গত মাসের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের দুই ম্যাচে কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা থেকে গোমেজ বলছিলেন, ‘মেসিকে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের এই গ্রুপে খুশি দেখেছি। আর ও খুশি মানে আমরা সবাই খুশি।’ বার্সেলোনায় মেসি যে খুশি নন, আর্জেন্টাইন রেডিও শো ক্লস কন্তিনেন্তালে সে ইঙ্গিতও দিয়েছেন গোমেজ, ‘সবাই জানি বার্সেলোনায় গত কয়েক মাসে ওর ওপর দিয়ে কী গেছে। দলটা (বার্সেলোনা) যেভাবে খেলছে, তাতে ও নিশ্চিতভাবেই খুব একটা স্বস্তিতে নেই।’
আর্জেন্টিনার এই দলটা নিয়েও অনুষ্ঠানে কথা বলেছেন গোমেজ। হোর্হে সাম্পাওলির অধীনে ২০১৮ বিশ্বকাপে ভরাডুবির পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে আর্জেন্টিনা। তরুণ কোচ লিওনেল স্কালোনির অধীনে তরুণ-প্রতিভাবানদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে নিয়মিত। শুরুতে খুব একটা ভালো না খেললেও ইদানীং আস্তে আস্তে গুছিয়ে উঠছে আর্জেন্টিনা। দলে লওতারো মার্তিনেজ, এজেকিয়েল পালাসিওস, জিওভান্নি লো সেলসো, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, লুকাস মার্তিনেজ কুয়ার্তা, গনসালো মন্তিয়েলদের মতো তরুণেরা আসছেন। গোমেজ এই দলটাকে আরও একটু সময় দিতে অনুরোধ করছেন সমর্থকদের। তাঁর চোখে দলটার আসলে শক্তি-যোগ্যতা কতটুকু সেটি বুঝতে হলে ‘আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে এই গ্রুপটার একসঙ্গে অন্তত ৩০-৪০ ম্যাচ অন্তত খেলতে হবে।’

বিজ্ঞাপন
default-image

বিশ্বকাপ জেতার মতো তো নয়ই, এখনই বিশ্বকাপে ভালো কিছুর করার মতো শক্তিশালীও দলটা হয়ে ওঠেনি। সেটি গোমেজও বলছেন। সে প্রসঙ্গে বিশ্বকাপে প্রায় সব সময়ই ধারাবাহিক জার্মানিকে টেনে এনে আতালান্তার আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের কথা, ‘আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপে অন্তত কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার একটা বাধ্যবাধকতা থাকেই। তবে এখনই এই দলের কাছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দাবি করা যায় না! আমি এখনই আমাদের জার্মানি বলব না, কিন্তু তিন-চার বছর ধরে যদি একই খেলোয়াড়দের একসঙ্গে রেখে খেলা যায়, ভালো কিছু হতে পারে। আশা করি স্কালোনির অধীনে তেমন কিছুই হবে।’

মন্তব্য পড়ুন 0