বার্সা-রিয়ালের শঙ্কা বাড়াবে অতীত।
বার্সা-রিয়ালের শঙ্কা বাড়াবে অতীত। ছবি: রয়টার্স

আরে ধুর ধুর! এ তো দুই ঘোড়ার দৌড়! গত এক দশকের মধ্যে মাঝেমধ্যে আতলেতিকো মাদ্রিদ একটু-আধটু লড়াইটড়াই করেছে, সে কারণে বড়জোর তিন ঘোড়ার দৌড় বলা চলে।

স্প্যানিশ লিগ নিয়ে নাক সিঁটকানো এমন কথা শোনা যায় অহরহ। দুই কিংবা তিনটি দলের মধ্যে সব সময় লিগের লড়াই হয়, দিন শেষে শিরোপা যায় বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদ নয়তো আতলেতিকোর ঘরে। রিয়াল আর বার্সাই বেশি জেতে, গত এক দশকে আতলেতিকো জিতেছে শুধু ২০১৩–১৪ মৌসুমে। বার্সা জিতেছে ৬ বার, রিয়াল ৩ বার।

কিন্তু ইতিহাসে ইঙ্গিত খুঁজলে এবার হয়তো রিয়াল আর বার্সেলোনার জন্য দুঃসংবাদই আছে অপেক্ষায়।

এবার স্প্যানিশ লিগের শিরোপাদৌড়ে জমে একেবারে ক্ষীর হয়ে গেছে। লিগে আর পাঁচ-ছয়টি করে ম্যাচ বাকি প্রতি দলের, এমন অবস্থায় তিন ‘ইউজ্যুয়াল সাসপেক্টস’ রিয়াল-বার্সা-আতলেতিকোর পাশাপাশি ইতিউতি দৌড়াদৌড়ি করছে সেভিয়াও। চার দলের মধ্যে পয়েন্টের ব্যবধান ৩! স্প্যানিশ লিগ এমন শিরোপাদৌড় দেখেছে ৪৮ বছর আগে। রিয়াল-বার্সার জন্য দুঃসংবাদ, সেবার শেষ পর্যন্ত লিগ জিতেছিল আতলেতিকো মাদ্রিদ।

বিজ্ঞাপন

১৯৭২–৭৩ মৌসুমের কথা সেটি। এবারের মতো লিগের ৩৩তম সপ্তাহ শেষে সেবারও স্প্যানিশ লিগে শিরোপার লড়াইয়ে চার দল ছিল। এবারের মতো সেবারও ৩৩তম সপ্তাহ শেষে শীর্ষে ছিল আতলেতিকো। তখন জয়ের জন্য দুই পয়েন্ট করে দেওয়া হতো, ৩৩ ম্যাচ শেষে আতলেতিকোর পয়েন্ট ছিল ৪৬। পয়েন্ট তালিকার দুই নম্বরে ছিল বার্সেলোনা, তাদের পয়েন্ট ছিল ৪৫। তিনে ছিল বার্সারই নগর প্রতিদ্বন্দ্বী এসপানিওল (৪৩ পয়েন্ট)। চারে থাকা রিয়াল মাদ্রিদেরও পয়েন্ট ছিল ৪৩।

default-image

শেষ পর্যন্ত সে মৌসুমের বাজি শেষে করতালি গেছে আতলেতিকোর ঘরে। আলোর বাজি উড়েছে কি না, তা ইতিহাস ঘেঁটে পাওয়া যাচ্ছে না, তবে শিরোপা উৎসব ঠিকই হয়েছে মাদ্রিদের লাল-সাদা অংশে। বার্সেলোনা ছিল দুইয়ে, রিয়াল চারে। অবশ্য সেবারের সঙ্গে এবারের একটা বড় পার্থক্য আছে। তখন লিগ ছিল ১৮ দলের, লিগে প্রতিটি দল ম্যাচ খেলত ৩৪টি করে। সে হিসেবে অবশ্য ৩৩তম ম্যাচ শেষে শীর্ষে থাকা দলের ৩৪তম ম্যাচ শেষে শিরোপা জেতা ঠিক ‘ব্রেকিং নিউজ’ নয়!

এবার তেমনটা করতে হলে অবশ্য আতলেতিকোকে অনেক কাঠখড় তো পোড়াতে হবেই, প্রতিদ্বন্দ্বীর অমঙ্গল প্রার্থনাও করতে হবে বটে! এক হিসাবে এবার ৩৩তম সপ্তাহ শেষে শীর্ষে থাকা দল আতলেতিকো মাদ্রিদ—এমনটা বলাও যাচ্ছে না! এখনো তো সব দলের ৩৩তম ম্যাচ শেষই হয়নি।

গতকাল লিগ শীর্ষে থাকা আতলেতিকো ২-১ গোলে হেরে গেছে অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের কাছে। তার আগে বার্সেলোনা একই ব্যবধানে জিতেছে ভিয়ারিয়ালের মাঠে। এরও আগে গত পরশু রিয়াল মাদ্রিদ গোলশূন্য ড্র করেছে রিয়াল বেতিসের সঙ্গে। তাতেই পয়েন্ট তালিকায় বড় অদলবদল!

শীর্ষে থাকা দুই দল আতলেতিকো ও রিয়াল ৩৩টি করে ম্যাচ খেলেছে, আতলেতিকো ৭৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে, রিয়ালের পয়েন্ট ৭১। চারে থাকা সেভিয়ার পয়েন্ট ৩৩ ম্যাচে ৭০। কিন্তু তিনে থাকা বার্সেলোনার ৭১ পয়েন্ট তো হয়েছে ৩২ ম্যাচে! আগামী বৃহস্পতিবার গ্রানাদার বিপক্ষে জিতলে ৩৩তম সপ্তাহ শেষে লিগের শীর্ষে আসলে থাকবে বার্সেলোনাই!

মৌসুমের শেষ পর্যন্ত থাকতে পারবে? অসম্ভব নয়, কিন্তু বার্সার সামনে পথটা কঠিন।

default-image

আগামী ৮ মে ক্যাম্প ন্যুতে বার্সেলোনার সঙ্গে আতলেতিকোর লড়াইকে এই মুহূর্তে ভাবা হচ্ছে লিগের শিরোপার পথে সবচেয়ে বড় পার্থক্য গড়ে দেওয়া ম্যাচ। যে জিতবে, তাদের লিগ জেতা প্রায় নিশ্চিত। আর বার্সা-আতলেতিকো ড্র করলে ক্ষতিটা সবচেয়ে বেশি আতলেতিকোর, ফাঁকতালে লাভটা আবার বার্সার চেয়েও বেশি হবে রিয়াল মাদ্রিদের!

বিজ্ঞাপন

কিন্তু শুধু কি আতলেতিকো-বার্সা ম্যাচ? একই দিনে তো মুখোমুখি হবে রিয়াল মাদ্রিদ আর সেভিয়াও!

তবে সেই ম্যাচের আগে-পরেও তো তিন দলের বড় পরীক্ষার কমতি নেই। গ্রানাদার পর লিগে বার্সার যে পাঁচ ম্যাচ বাকি, তার মধ্যে আতলেতিকো ছাড়াও মেসিদের পরীক্ষার মুখে ফেলবে ভ্যালেন্সিয়া। ম্যাচ আছে লেভান্তে, সেলতা ভিগো ও এইবারের বিপক্ষেও। লেভান্তে আর এইবারের অবশ্য এখন আর লিগ থেকে চাওয়া-পাওয়ার তেমন কিছু নেই। লেভান্তের ‘মধ্যবিত্ত’ হওয়া ঠিক হয়েই আছে, আর অনেক বড় চমক ঘটে না গেলে লিগের পয়েন্ট তালিকার তলানিতে থাকা এইবারের এবার স্পেনের শীর্ষ লিগ থেকে বিদায় নিশ্চিত।

রিয়ালেরও সেভিয়ার বাইরে বড় পরীক্ষা আছে আরও দুটি—বিলবাও ও ভিয়ারিয়াল। এর বাইরে ওসাসুনা ও গ্রানাদার বিপক্ষে ম্যাচও আছে রিয়ালের। অবশ্য লিগের এই প্রতিপক্ষের পাশাপাশি রিয়ালের বড় পরীক্ষা তো নেবে চ্যাম্পিয়নস লিগও। সেখানে আগামীকাল সেমিফাইনালে চেলসির বিপক্ষে খেলবে জিদানের দল, আগামী সপ্তাহে হবে দ্বিতীয় লেগ। লিগের পাশাপাশি মনোযোগ আর শরীরের জোর তো ভাগাভাগি হয়ে যাচ্ছেই জিদানের দলের। এরই মধ্যে চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বাদ পড়ায় বার্সা আর আতলেতিকোর সে ঝামেলা নেই।

default-image

বার্সার বিপক্ষে ম্যাচ ছাড়া আতলেতিকো খেলবে এলচে, রিয়াল সোসিয়েদাদ, ওসাসুনা ও রিয়াল ভায়াদোলিদের বিপক্ষে। পরীক্ষা সহজ নয় একেবারে। তার চেয়েও বেশি করে সুয়ারেজ-সিমিওনেদের ভয় দেখাবে বার্সেলোনার ফর্ম। গত ডিসেম্বর থেকে লিগে ২২ ম্যাচে মাত্র একটিতে হেরেছে কোমানের দল!

আতলেতিকোর সে ক্ষেত্রে ভরসা হয়ে আসতে পারে ৪৪ বছর আগের সে লিগের শিরোপা! সেবারও এমন জমে গিয়েছিল লিগ, ক্ষীর খেয়েছিল আতলেতিকো!

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন