আক্রমণাত্মক ফুটবলে ভালোই দাপট দেখাচ্ছে চেলসি
আক্রমণাত্মক ফুটবলে ভালোই দাপট দেখাচ্ছে চেলসিছবি: রয়টার্স

এক দলের দখলে আছে ১৩টি চ্যাম্পিয়নস লিগ। অন্য দলের আছে পাঁচটি। ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় তাই রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনাকে সমীহ না করে উপায় নেই।

রোমান আব্রামোভিচের মালিকানায় ইংলিশ ফুটবলে দাপট দেখানো চেলসি চ্যাম্পিয়নস লিগের স্বাদও পেয়েছে। তবু চেলসিকে ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় দুই স্প্যানিশ পরাশক্তির চেয়ে এগিয়ে রাখাটা কঠিন। গ্লেন হডল সেটাই করছেন, ব্লুজদের এগিয়ে রাখছেন রিয়াল ও বার্সেলোনার চেয়ে।

গতকাল চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলতে সেভিয়া গিয়েছিল চেলসি। আগেই শেষ ষোলো নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় পূর্ণশক্তির দল নামাননি কোচ ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড। প্রতিপক্ষের মাঠে তবু ৪-০ গোলের জয় পেয়েছে চেলসি।

আক্রমণাত্মক ফুটবলের এমন প্রদর্শনী দেখে মুগ্ধ সাবেক চেলসি কোচ। বলেই দিয়েছেন, এ মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে জেতার সম্ভাবনায় চেলসির চেয়ে পিছিয়ে আছে বার্সা-রিয়াল।

বিজ্ঞাপন

চেলসি ও ইংল্যান্ড দলের সাবেক কোচ হডল গতকাল ম্যাচ শেষে বলেছেন, ‘এখন দলগুলোর যে অবস্থা, তাতে লিভারপুল আর ম্যানচেস্টার সিটি তো সেখানে (শেষ ষোলো) যাচ্ছে বা যাবে। সিটির জন্য এটাই এখন মূল লক্ষ্য। তারা বলুক আর না–ই বলুক, ওরা চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে চায়। বায়ার্ন মিউনিখের কথা ভোলা যাবে না। কারণ, ওরা অনেক শক্তিশালী। কিন্তু চেলসিকেও এখন এদের মধ্যে রাখতে হবে। এ মুহূর্তে তারা বার্সেলোনা এবং রিয়াল মাদ্রিদের ওপরে। দুটোই অনেক বড় ক্লাব, কিন্তু চেলসি দল তাদের চেয়ে ভালো।’

এ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদ যেভাবে শুরু করেছে, তাতে এতে আপত্তি থাকার কথা নয়। করোনাভাইরাসের কারণে সব দল যেখানে হিসাব করে খরচ করেছে, সেখানে উদারহস্তে খেলোয়াড় দলে টানার সুযোগ পেয়েছিল চেলসি।

দারুণ প্রতিভাবান সব আক্রমণাত্মক ফুটবলার যোগ দিয়েছেন দলটিতে। আর উল্টো দশা রিয়ালের, দলে নতুন কোনো খেলোয়াড় যোগ দেননি। উল্টো হামেস রদ্রিগেজ, গ্যারেথ বেলের মতো খেলোয়াড়েরা দল ছেড়েছেন।

এর প্রভাব খেলাতেও দেখা যাচ্ছে। লিগে সব দল সমান ম্যাচ না খেলায় এখনো চারে আছে দলটি। কিন্তু চ্যাম্পিয়নস লিগে ভয়াবহ বিপদে আছে তারা।

বরুসিয়া মনশেনগ্লাডবাখ, ইন্টার মিলান ও শাখতার দোনেৎস্ক মিলিয়ে সহজ এক গ্রুপে এখন তিনে আছে রিয়াল মাদ্রিদ। গ্রুপে শেষ ম্যাচে জয় পেলে শেষ ষোলোতে উঠে যাবে তারা। আবার জিততে না পারলে ইউরোপা লিগে খেলার সম্ভাবনা আছে।

আবার হেরে সবার নিচে জায়গা পেয়ে এবারের মতো ইউরোপ থেকেই ছিটকে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। তাই এবার চ্যাম্পিয়নস লিগ নিয়ে রিয়ালের সমর্থকদের মধ্যেও হয়তো খুব বেশি আশা নেই।

default-image
বিজ্ঞাপন

বার্সেলোনা সমর্থকেরা অবশ্য একটু আপত্তি জানাতে পারেন। লিগে তাদের অবস্থাও ভালো নয়। সমান ম্যাচ খেলে আতলেতিকো মাদ্রিদের চেয়ে ৯ পয়েন্ট পিছিয়ে আছে তারা।

কিন্তু চ্যাম্পিয়নস লিগে দারুণ খেলছে বার্সেলোনা। দুই ম্যাচ মেসিকে বিশ্রাম দিয়েও টানা পাঁচ জয় পেতে কষ্ট হয়নি তাদের। প্রতিপক্ষের মাঠেও দাপুটে ফুটবল খেলেছে তারা।

রিয়াল মাদ্রিদের কাছে এল ক্লাসিকো হারার হতাশা কাটিয়ে ভালোভাবেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে দলটি। গত সপ্তাহে দিনামো কিয়েভের মাঠে ৪-০ গোলে জিতেছিলেন গ্রিজমান-ব্রাথওয়েইটরা। কাল ফেরেনৎসভারোসের মাঠেও অনায়াসে জিতেছে ৩-০ গোলে।

default-image

হডল অবশ্য বার্সেলোনাকে নিয়ে নয়, ভাবছেন চেলসিকে নিয়েই। তাঁর চোখে চেলসির উচিত চ্যাম্পিয়নস লিগকে মূল লক্ষ্য বানানো, ‘এখন যে অবস্থা, আমার ধারণা অন্তত সেমিফাইনালে যাওয়ার কথা ভাবা উচিত তাদের। আর একবার সেমিফাইনালে গেলে যেকোনো কিছু হতে পারে। ওদের অনেক বিদেশি খেলোয়াড় আছে, যারা মৌসুম যত এগোবে তত ভালো খেলবে। আর যদি মাঠে দর্শক ফেরে এবং মাঠভরা দর্শকের সামনে খেলতে পারে...আমরা এখনো এই চেলসি দলকে দর্শকের অনুপ্রেরণা পেতে দেখিনি। আর উপলক্ষ যত বড় হয়, খেলোয়াড়েরা তত ভালো খেলে। এই চেলসি আরও অনেক কিছু দেখাবে।’

মন্তব্য করুন