ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখেছেন ভিদাল
ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখেছেন ভিদাল ছবি: রয়টার্স

অবস্থা যা দাঁড়িয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ যেকোনো ম্যাচের আগে দলের কোচ আর্তুরো ভিদালের মুখ চেপে ধরে রাখবেন, যাতে ভিদালের মুখ থেকে বেফাঁস কিছু বের না হয়!

মাঠের ভেতরে ভিদালের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ নেই। দুর্দান্ত প্রাণশক্তি, ইঞ্জিনের মতো নব্বই মিনিট ধরে দৌড়ানোর ক্ষমতা— ভিদালের খেলার এই ‘ট্রেডমার্ক’ বছরের পর ধরে মুগ্ধ করে এসেছে ফুটবলপ্রেমীদের। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে মাঠের বাইরে যা বলছেন, সেটা তাঁকে পরে রসিকতার পাত্র বানিয়ে দিচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

দুদিন আগের কথাই ধরুন। বার্সেলোনার সাবেক এই মিডফিল্ডারের বর্তমান দল ইন্টার মিলান মুখোমুখি হয়েছিল বার্সার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের। দুবছর খেলে গেছেন বার্সেলোনায়। সে দুই বছর রিয়ালের বিপক্ষে অনেক কথাই বলেছেন, জানিয়েছেন নিজের অপছন্দের কথা। এখন ইন্টারে গিয়েও সেই ‘শত্রুতা’টা ভুলতে পারছেন না ভিদাল। সাবেক শত্রুদের বিপক্ষে ম্যাচ, ভিদালের মতো মানুষের রক্ত গরম না হয়ে যায় কোথায়? তাই যথারীতি ম্যাচের আগে ভিদালও বাণী দিলেন।

ইন্টারের হয়ে ম্যাচ জিতে পূর্ণ তিন পয়েন্ট পাওয়া তো বটেই, জানিয়েছিলেন তাঁর মাথায় ঘুরছে আরেকটা লক্ষ্যও, ‘ম্যাচটা অসাধারণ হতে চলেছে। আমি দুটি অসাধারণ বছর কাটিয়েছি বার্সেলোনায়। তাই আমার আশা হলো ম্যাচটা জিতে ইন্টার ও বার্সা দুই দলের সমর্থকের সঙ্গেই উদ্‌যাপন করার।’

default-image

ম্যাচ শেষে নিজের কথা নিজে গিলেছেন ভিদাল। নিজেদের মাঠে ইন্টারকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। রিয়ালের হয়ে গোল করেছেন করিম বেনজেমা, সার্জিও রামোস ও রদ্রিগো। ওদিকে ইন্টারের দুটি গোল লওতারো মার্তিনেস ও ইভান পেরিসিচের।

মজার ব্যাপার হলো, রিয়ালের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করার সময় রদ্রিগোকে মার্ক করছিলেন এই ভিদালই! ঠিকঠাক ট্যাকল করতে পারলে হয়তো গোল করা হয় না রদ্রিগোর। কিন্তু সেটা হয়নি। পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছেড়েছে রিয়াল। আর ভিদালদের ফিরতে হয়েছে খালি হাতে।

বিজ্ঞাপন

রিয়ালের বিপক্ষে ভিদালের রেকর্ড এমনিতেও তাঁর পক্ষে কথা বলে না। বার্সার আগে বায়ার্নে যখন খেলতেন, তখন রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল খেলতে গিয়ে লাল কার্ড দেখেছিলেন। বার্সার হয়ে মাদ্রিদের বিপক্ষে শেষ যে দুই ম্যাচ খেলে এসেছেন, ওই দুই ম্যাচের একটায় বার্সা ড্র করে, একটায় হেরে যায়।

এবারই প্রথম না, গত কয়েক বছর ধরে যত বার এমন দাম্ভিক কথা বলেছেন, ততবারই ম্যাচ শেষে নিজের কথা গিলেছেন ভিদাল। চ্যাম্পিয়নস লিগের গত আসরের কোয়ার্টার ফাইনালের কথাই ধরুন। ম্যাচের আগে ভয়ংকর এক হুমকি দিয়েছিলেন ভিদাল। বলেছিলেন ‘বিশ্বের সেরা দল’ বার্সেলোনার মুখোমুখি হওয়ার আগে ভয় পাওয়া উচিত বায়ার্নের, ‘বায়ার্ন আত্মবিশ্বাসী থাকবে। কিন্তু তাদের জেনে রাখা ভালো, তারা বুন্দেসলিগার কোনো দলের মুখোমুখি হচ্ছে না। তারা বার্সার মুখোমুখি হচ্ছে। আমরা বিশ্বের সেরা দল।’

default-image

পরে ভিদালের বার্সেলোনাই ৮-২ গোলে উড়ে যায় বায়ার্নের কাছে। শুধু তা-ই নয়, তাঁর আগের মৌসুমে আরও বিতর্কিত কথা বলেছিলেন ভিদাল। লিভারপুলকে সেবার সেমিফাইনালের প্রথম লেগে ৩-০ গোলে হারিয়ে আকাশে উড়ছিলেন ভিদাল। দ্বিতীয় লেগে লিভারপুলের প্রত্যাবর্তনের কথা জিজ্ঞেস করতেই হেসে উড়িয়ে দিয়েছিলেন, ‘লিভারপুল যদি ওঠে (ফাইনালে) আমি আমার বাঁ অণ্ডকোষ ওদের দান করে দেব আর ডানটা দিয়ে দেব রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থকদের যারা লিভারপুলকে সমর্থন করছিল।’

দ্বিতীয় লেগে ৪-০ গোলে উড়ে যাওয়ার পর অবশ্য নিজের পৌরুষ বিসর্জন দেওয়ার প্রতিজ্ঞা ভেঙেছেন ভিদাল। ম্যাচের আগে বড় মুখ করে কথা বললে সেটা মাঠে প্রমাণের দায়ও থাকে। কিন্তু বার্সার জার্সিতে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার স্বপ্ন দেখা ভিদাল টানা দুই মৌসুমেই সেটা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। উল্টো ক্লাবের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দুই দুঃস্বপ্ন দেখেছেন দুইবারই।

ম্যাচ হেরে ভিদালের কণ্ঠে এবার ফিরে আসার প্রত্যয় শোনা গেছে যদিও। টুইটারে লিখেছেন, 'অনেক কষ্টের পরাজয়। যা আমাদের অনেক বেদনা জাগাচ্ছে। কিন্তু আমি নিশ্চিত আমরা ঘুরে দাঁড়াবোই। আমাদের সেই বিশ্বাস ও ক্ষমতা আছে। এখনো তিন ম্যাচ বাকি আছে। ইন্টারের জয় হোক!'

ম্যাচ শেষে বোধোদয় হয়েছে তার মানে!

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0