এ মৌসুমে পেনাল্টি ছাড়া প্রথম গোল পেয়েছেন মেসি।
এ মৌসুমে পেনাল্টি ছাড়া প্রথম গোল পেয়েছেন মেসি।ছবি: এএফপি

জর্দি আলবাই পাসটা দিয়েছিলেন আঁতোয়ান গ্রিজমানকে। পাসটা দারুণ ছিল আলবার। সে পাসেই প্রথমার্ধের হতাশা ভুলিয়ে দেওয়া গোল করলেন গ্রিজমান। কিন্তু ফ্রেঞ্চ ফরোয়ার্ড কিনা গোল করেই লাফ দিয়ে উঠলেন লিওনেল মেসির কাঁধে। গোলের জন্য সব ধন্যবাদ মেসির জন্যই তুলে রাখলেন গ্রিজমান, তাঁর আনন্দ ও ধন্যবাদের ছিটেফোঁটাও জুটল না আলবার কপালে। অথচ গোলের সহায়তার সব তালিকায় বার্সেলোনা লেফটব্যাকের নামই লেখা থাকবে। তাহলে মেসিকে ধরেই কেন এত উদ্‌যাপন গ্রিজমানের?
 
আলবার পাসটা দারুণ হলেও সেটা গোলে পরিণত করেছেন ওই মেসিই। বলটা তাঁর দিকে আসছে দেখে রিয়াল বেতিসের গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডার তাঁকে চার্জ করতে গিয়েছিলেন। পেছনেই গ্রিজমান আছে জানা ছিল অধিনায়কের। তাই দারুণ এক ডামিতে বলটা পায়ের ফাঁক দিয়ে চলে যেতে দিলেন। বোকা বনে পড়ে রইল বেতিসের রক্ষণভাগ। প্রথমার্ধে একের পর এক সুযোগ নষ্ট করা গ্রিজমানের পক্ষেও সম্ভব ছিল না এ গোল হাতছাড়া করা। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নামা মেসি এভাবেই মাত্র তিন মিনিটেই ম্যাচের রূপটা বদলে দিলেন। মেসিময় দ্বিতীয়ার্ধের পর বেতিসকে ৫-২ গোলে হারিয়ে লিগে তৃতীয় জয়ের দেখা পেল বার্সেলোনা।

বিজ্ঞাপন
default-image

গ্রিজমানকে গোল পাইয়ে দিয়েই সন্তুষ্ট হননি মেসি। কিছুক্ষণ পরই নিজের গোলটা বুঝে নিয়েছেন। ম্যাচের ৬১ মিনিটে পাওয়া গোলটি অবশ্য পেনাল্টি থেকে। মেসিকে আটকাতে গিয়ে গোললাইন থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন বেতিস গোলরক্ষক ক্লদিও ব্রাভো। মেসির পা ঘুরে বলটা ওসমান ডেমবেলের কাছে আসতেই গোলা ছুড়েছিলেন ফ্রেঞ্চ উইঙ্গার। সেটা ফিরিয়ে দেওয়ার সময় হাতে লেগেছিল আইসা মেন্দি। পেনাল্টি থেকে গোল করতে কোনো ভুল হয়নি মেসির। এ পেনাল্টির সঙ্গে সঙ্গে ১০ জনের দলে পরিণত হয় বেতিস। প্রথমার্ধেও আরেকটি পেনাল্টি উপহার দিয়েছিলেন মেন্দি। সেটি থেকে গ্রিজমান গোল করতে না পারলেও হলুদ কার্ড ঠিকই জুটেছিল তখন। ৩০ মিনিট পর দ্বিতীয় হলুদ কার্ডে মাঠ থেকে বের হয়ে যেতে হয় বেতিস ডিফেন্ডারকে।

গোল পেলেও একটু অতৃপ্তি নিশ্চয় ছিল মেসির। এ মৌসুমে মেসি এ ম্যাচের আগে চার গোল করেছেন বার্সেলোনার জার্সিতে। কিন্তু সব কটি গোলই এসেছে পেনাল্টি থেকে। আজও প্রথম গোল এল সেই ১২ গজ দূর থেকেই। অতৃপ্তিটা দূর করেছেন ৮২ মিনিটে। ডান প্রান্তে ত্রিনকাওর দারুণ ড্রিবলিং বেতিস রক্ষণকে ফাঁকা করে দেয়। সের্হিও রবার্তোর ব্যাক হিল থেকে বল পেয়ে অতৃপ্তিটা দূর করলেন মেসি। এ মৌসুমে উন্মুক্ত খেলা থেকেই প্রথম গোলটা পেয়ে গেলেন। ৯০ মিনিটে সেই রবার্তোই ১৮ বছর বয়সী পেদ্রিকে দিয়ে গোল করিয়ে নিলেন।

default-image

এর আগে মেসিকে ছাড়াই প্রথমার্ধে নেমেছিল বার্সেলোনা। ২০১৯ সালের পর এই প্রথম বেঞ্চে বসে থাকার স্বাদ পেলেন বার্সা অধিনায়ক। তাঁকে ছাড়া খুব একটা খারাপ খেলেনি বার্সেলোনা। কিন্তু গ্রিজমানের একের পর এক গোল হাতছাড়া করা দলটিকে বিপদে ফেলে দিচ্ছিল। ৩৩ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারেননি। এর আগেই একবার পোস্টে বল লাগিয়েছেন। একবার নিজেই দারুণ এক সুযোগ সৃষ্টি করেও মিস করেছে। বার্সেলোনাকে এর দায় মেটাতে হয়েছিল প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে। বার্সা একাডেমিতে বেড়ে ওঠা তেয়োর পাস থেকে গোল করে বসেন একাডেমির আরেক সাবেক ছাত্র আনতোনিও সারাবিয়া।

মেসির পেনাল্টির পরও ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেছিল বেতিস। ৭৩ মিনিটে লরেন মরেনোর গোলে ব্যবধান ৩-২ হয়ে গিয়েছিল। ১০ জনের দল নিয়েই লড়ার আশা ছিল বেতিসের। কিন্তু ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরের পর এই প্রথম বেঞ্চে বসার স্বাদ পাওয়া মেসি সে ইচ্ছা পূরণ হতে দেবেন কেন!

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0