বার্সেলোনাকে আবারও আদালতে নিচ্ছেন নেইমার।
বার্সেলোনাকে আবারও আদালতে নিচ্ছেন নেইমার। ফাইল ছবি: এএফপি

বার্সেলোনার সঙ্গে নেইমারের হৃদয়ের সম্পর্ক। আসলেই কি তা–ই? পরিস্থিতি দেখে মনে হবে, দুই পক্ষই একে অপরকে ভালোবাসে প্রয়োজনের খাতিরে। কেউ কারও প্রতি রুষ্ট হলেই মামলা ঠুকে দিচ্ছে আদালতে!

নেইমার-বার্সা নাটকের নতুন পর্ব আড়মোড়া ভেঙেছে কিছুদিন আগে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, নেইমার ক্যাম্প ন্যুতে থাকতে তাঁকে পাওনার চেয়েও বেশি টাকা দেওয়া হয়েছে—এমনটাই মনে করছে বার্সা। এই অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার পরিমাণ ১ কোটি ২০ লাখ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০১ কোটি টাকা), যা চেয়ে আদালতে মামলা করবে ক্লাবটি। খবরটা নিশ্চয়ই নেইমারের কানে গেছে। এরপর পিএসজি তারকা কোনো ব্যবস্থা নেবেন না, তা কীভাবে হয়! নেইমার এবার উল্টো বার্সাকে আদালতে তুলতে যাচ্ছেন। ব্রাজিলিয়ান তারকার আইনজীবীরা বার্সায় নেইমারের বকেয়া দাবি নিয়ে আপিল করেছেন আদালতে। বার্সাও নাকি এর জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

বার্সায় ২০১৩–১৭ পর্যন্ত চার মৌসুম খেলেছেন নেইমার। এর মধ্যে একবার চুক্তি নবায়নও করেছেন। এসব মিলিয়ে বার্সার কাছে তিনি বকেয়া প্রাপ্য হিসেবে ৬ কোটি ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬০১ কোটি টাকা) দাবি করে আপিল করেছেন আদালতে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম কাদেনা সের জানিয়েছে চুক্তি নবায়নের বোনাস হিসেবে প্রাপ্য ছয় কোটি ইউরোর দাবি জানিয়ে এরই মধ্যে কাগজপত্র গুছিয়ে ফেলেছেন নেইমারের আইনজীবীরা। বার্সেলোনার পক্ষ থেকেও নাকি এর জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বার্সেলোনার ১৫ নম্বর সামাজিক আদালতের প্রধান কার্যালয়ে মামলাসংশ্লিষ্ট সবকিছু নথিবদ্ধ করা হয়েছে। কাতালুনিয়ার সুপ্রিম কোর্টের সামাজিক আদালতে মামলার বিস্তারিত পাঠানো হয়েছে।

বার্সা ও নেইমারের মধ্যকার ঝামেলার শুরু ২০১৭ সালেই। যখন পিএসজিতে যাওয়ার সিদ্ধান্তটা পাকাপাকিভাবে নিয়েও একটু সময়ক্ষেপণ করছিলেন নেইমার। ২০১৬ সালের শেষ দিকে বার্সেলোনার সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেছিলেন। নবায়নের পুরস্কার হিসেবে তাঁকে বিশাল অঙ্কের একটি বোনাস দেয় বার্সেলোনা। শুধু একটি সমস্যা ছিল, বোনাসটি তাঁর বুঝে নেওয়ার কথা ছিল ২০১৭ সালের আগস্টে। পরের মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই পিএসজির প্রস্তাব পান তিনি। কিন্তু নিজের বোনাস নিশ্চিত করতে জুলাইজুড়ে এ–সংক্রান্ত গুঞ্জনে কোনো সাড়া দেননি। যখনই বোনাস পাওয়ার সময় এসেছে, অর্থাৎ আগস্ট মাসে গিয়ে নিজের পরের চালটি চেলেছিলেন তিনি। ৩ আগস্ট তাঁকে কেনার জন্য বাই আউট ক্লজের পুরো ২২ কোটি ২০ লাখ ইউরো লা লিগার কাছে দিয়ে আসে পিএসজি।

default-image

দল বদল করার পর নেইমার বার্সেলোনার কাছে নিজের বোনাসের অঙ্কটা চেয়ে বসেন। ওদিকে চুক্তি নবায়ন করার ছয় মাস পরই ক্লাব ছেড়ে চুক্তির শর্ত ভাঙার কথা বলে সে বোনাস দিতে অস্বীকৃতি জানায় বার্সেলোনা। প্রাথমিকভাবে বকেয়া বোনাসের অঙ্কটা ছিল ২ কোটি ৬০ লাখ ইউরো। পরবর্তী সময়ে কাতালুনিয়া আদালতে নেইমার বকেয়া হিসেবে ৪ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার ইউরো দেওয়ার জন্য বার্সেলোনার বিরুদ্ধে মামলা করেন।

কাতালুনিয়ার আদালত এ ব্যাপারে বার্সেলোনার পক্ষেই রায় দিয়েছিলেন। আদালত জানিয়েছিলেন, বোনাস বেতনেরই অংশ। যেহেতু নেইমার চুক্তির পর যে পরিমাণ সময় ক্লাবে ছিলেন, সে অনুযায়ী তাঁকে বেতন-বোনাস ঠিকই দিয়েছে বার্সেলোনা; এ মামলায় বার্সেলোনার বিপক্ষে কিছু খুঁজে পাননি আদালত। বরং নেইমারকেই ৬৭ লাখ ইউরো ফেরত দিতে বলা হয়েছিল। এ ব্যাপারে বার্সেলোনা আর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি প্রথমে। কিন্তু নেইমার এ রায়ের বিরুদ্ধে গত ৪ আগস্ট আপিল করেছিলেন। বার্সেলোনাও এর জবাব দিয়েছিল গত ৭ সেপ্টেম্বর। এর মধ্যেই নেইমারের বার্সেলোনায় ফেরার গুঞ্জন ভালোভাবেই উঠেছিল।

কিছুদিন আগে নেইমার পিএসজিতেই থেকে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। নতুন করে পাঁচ বছরের জন্য চুক্তি করতে যাচ্ছেন নেইমার। এ অবস্থায় বার্সেলোনার কাছ থেকে প্রাপ্যটা আদায় করে নেওয়াটাই যুক্তিযুক্ত মনে হচ্ছে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0