default-image

কাল একসঙ্গে জ্বলে উঠেছিলেন মেসি-সুয়ারেজ আর নেইমার। এই ত্রয়ী যখন জ্বলে ওঠেন, তখন প্রতিপক্ষের অবস্থা যে কী হয়, সেটাই যেন কাল হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে অ্যাথলেটিক বিলবাও। বার্সেলোনার কাছে দলটি হেরেছে ৫-২ গোলে। মেসি-নেইমার-সুয়ারেজের তিনটি গোলের পাশাপাশি একটি গোল এসেছে পেদ্রোর পা থেকে। অপর গোলটি আত্মঘাতী।
আগের দিন রিয়াল মাদ্রিদ হেরে যাওয়ায় পয়েন্টের ব্যবধান কমিয়ে আনার সুবর্ণ সুযোগ এসেছিল বার্সেলোনার সামনে, বার্সা হিসাব মতোই জয় তুলে নিয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে ব্যবধান কমিয়ে নিয়ে এসেছে এক-এ। এই জয়ে ২২ ম্যাচে বার্সেলোনার সংগ্রহ ৫৩। রিয়াল কিন্তু লিগের শীর্ষস্থানটা এখনো দখলে রেখেছে। ৫০ পয়েন্ট নিয়ে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের অবস্থান তৃতীয়।
বিলবাওয়ের বিপক্ষে তাদের মাঠে আগের তিন লড়াইয়ে পূর্ণ পয়েন্ট না পাওয়ার ক্ষোভটা কাল ভালোভাবেই মিটিয়েছে বার্সেলোনা। প্রতিপক্ষকে আক্রমণের পর আক্রমণে ব্যতিব্যস্ত রেখে প্রয়োজনীয় জয়টা তুলে নিতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি তাদের।
খেলার ১৫ মিনিটেই লিওনেল মেসি ফ্রি-কিক থেকে দুর্দান্ত এক গোল করে এগিয়ে নেন বার্সেলোনাকে। তাঁর শটটি অবশ্য সামনের দেয়ালে দাঁড়ানো বিলবাওয়ের এক খেলোয়াড়ের মাথায় লেগে জালে জড়ায়। কালকের গোলটি করে মেসি নিজের হিসাব নিয়ে গেলেন ২৩-এ। ২৮ গোল করা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ঠিক পরেই তাঁর অবস্থান।
খেলার প্রথমার্ধটা ছিল একেবারেই উন্মুক্ত। বার্সেলোনা এগিয়ে থাকলেও বিলবাও কিন্তু খেলায় ফিরে আসার সুযোগ পেয়েছিল বেশ কয়েকটি। সুযোগ নষ্ট করে বার্সেলোনাও। লুইস সুয়ারেজ যেমন ম্যাচের ছয় মিনিটের সময় বার্সেলোনাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি। খেলার ২৬ মিনিটে অবশ্য ভুল করেননি সুয়ারেজ। গোলটি আসে মেসির সঙ্গে ডুয়েল খেলে। প্রথমে সুয়ারেজ পাস বাড়ান মেসিকে। একটু দৌড়ে বল নিয়ে বিলবাওয়ের সীমানায় ঢুকে তিনি ফিরতি বল বাড়ান সুয়ারেজকে। বলটা ধরেই দারুণ শটে বিলবাও গোলরক্ষককে পরাভূত করেন উরুগুইয়ান স্ট্রাইকার।
দ্বিতীয়ার্ধে খেলা জমে ওঠে আরও। ৫৯ মিনিটে মিকেল রিকোর মাধ্যমে ব্যবধান কমিয়ে নিয়ে আসে বিলবাও (২-১)। এই পর্যায়ে ম্যাচে নাটকীতার আভাস মিললেও ৬২ মিনিটে দুর্ভাগ্যজনক এক আত্মঘাতী গোল (৩-১) বিলবাওকে সেই সুযোগ আর দেয়নি। ৬৪ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে বল জালে জড়ান নেইমার (৪-১)। ৬৬ মিনিটে অবশ্য আদুরিসের গোলে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস দিয়েছিল বিলবাও (৪-২)। কিন্তু ৭৫ মিনিটে ডিফেন্ডার হাভিয়ের সুয়ারেজকে ফাউল করে লালকার্ড দেখলে সেই পথে আর হাঁটতে পারেনি তারা।
৮৬ মিনিটে মেসির সহায়তায় বার্সেলোনার বড় জয় নিশ্চিত করেন পেদ্রো।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন