হাঁটুতে চোট পেয়ে হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়ছেন জেরার্দ পিকে।
হাঁটুতে চোট পেয়ে হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়ছেন জেরার্দ পিকে। ছবি: এএফপি

ন্যু ক্যাম্পের আকাশজুড়ে এমনিতেই উড়ছে হতাশার রেণু। ১৯৯১-৯২ মৌসুমের পর লিগে সবচেয়ে বাজে শুরু দেখতে হয়েছে দলটির সমর্থকদের। কাল আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে ১-০ গোলে হারের পর ৮ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে দশম স্থানে আছে রোনাল্ড কোমানের দল। আতলেতিকোর কাছে হেরে যাওয়া ম্যাচে বার্সেলোনা-সমর্থকদের জন্য ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে এসেছে জেরার্দ পিকের চোট।

আতলেতিকোর মাঠ ওয়ান্দা মেত্রোপলিতানোতে কাল চোট নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন পিকে। মাঠ ছাড়ার সময় হতাশায় যেভাবে পিকে দুহাত দিয়ে মুখ ঢেকেছেন, তা থেকে বোঝা যাচ্ছে চোট গুরুতরই। অনেক দিন মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে বার্সার ডিফেন্ডারকে। পিকের হাঁটুর এই চোট বার্সেলোনার কোচ কোমানের কপালে বড় ভাঁজই ফেলার কথা। এমনিতেই রক্ষণে খেলোয়াড় সংকট আছে দলটির; তার ওপর পিকে লম্বা সময়ের জন্য বাইরে থাকলে রক্ষণ নিয়ে বেকায়দায় পড়তে হবে দলটিকে।

বিজ্ঞাপন
default-image

৩৪ বছর সেন্টার-ব্যাককে শুভকামনা জানিয়ে টুইট করেছেন বার্সেলোনায় তাঁর সাবেক সতীর্থ কার্লেস পুয়োল, ‘মন শক্ত রাখো জেরার্দ। আশা করছি তোমার কিছুই হয়নি, চোট গুরুতর কিছু নয়।’ পিকে মানসিক দিক থেকে শক্ত থাকলেও বার্সার সেন্টার-ব্যাক পজিশনটা কিন্তু নড়বড়েই থেকে যাবে। এই পজিশনের জন্য এবারের গ্রীষ্মে এরিক গার্সিয়াকে কিনতে চেয়েছিল বার্সা। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে সেটা হয়ে ওঠেনি।

এই মুহূর্তে বার্সেলোনার সিনিয়র দলে সেন্টার-ব্যাক আছেন তিনজন—পিকে, ক্লেমেন্ত লংলে ও রোনাল্ড আরাউজো। পিকে যদি লম্বা সময়ের জন্য বাইরে থাকেন, লংলে আর আরাউজোকেই নিতে হবে মূল দায়িত্ব। ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং অবশ্য মাঝমাঠ থেকে রক্ষণে চলে এসে খেলতে পারেন। আতলেতিকোর বিপক্ষে তাঁকে কাল এ ভূমিকায় খেলতে দেখাও গেছে। তবে মূল সমস্যা হলো এ মৌসুমে লংলের পারফরম্যান্সের গ্রাফটা একটু নিম্নমুখী। আর আরাউজো এখনো অতটা পরিণত নন, বয়স যে মাত্র ২১ বছর।

default-image

বয়সটা একটু কম হলেও বার্সেলোনার শুরুর একাদশে খেলার অভিজ্ঞতা আছে। আর পারফরম্যান্সও ভালো। তবে এখন পর্যন্ত বার্সার হয়ে মাত্র ১০টি ম্যাচই খেলেছেন ২১ বছর বয়সী ডিফেন্ডার। বার্সা কোচ কোমান আবার এটাও ভাবতে পারেন, পিকে থাকলেই-বা কী লাভ! কাল আতলেতিকোর বিপক্ষে খাওয়া গোলটিতে গোলকিপার মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগেনের সঙ্গে দায় ছিল পিকেরও। নিজেদের অর্ধে বাতাসে বল নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি তিনি। তাঁর কাছ থেকে বল চলে যায় আনহেল কোরেয়ার কাছে। তাঁর পাস থেকেই গোলটি করেছেন কারাসকো।

রক্ষণের মতো ফরোয়ার্ডের সমস্যা নিয়েও কোমানের কপালে বড় ভাঁজ পড়েছে। বিশেষ করে খেলায় মেসির আরও বেশি করে ঢুকতে না পারাটা না ভাবিয়ে পারে না বার্সেলোনার ডাচ্‌ কোচকে! চলতি মৌসুমে পিছিয়ে পড়া ম্যাচের একটিতেও জিততে পারেনি বার্সা। বিষয়টা আরও জটিল করেছে মাঝমাঠে সব আক্রমণাত্মক খেলোয়াড় খেলানোর কোমানের দর্শন। আতলেতিকো থেকে গত মৌসুমে বার্সেলোনায় নাম লেখানো আঁতোয়ান গ্রিজমান এখনো নিজের ছায়া হয়েই আছেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0