বার্সেলোনায় মেসির থাকা ‘কঠিন’—বৈঠকের আগে মেসির বাবা

বার্সেলোনায় অবতরণের পর হোর্হে মেসিকে ঘিরে ভিড় জমান সংবাদকর্মীরা।
বার্সেলোনায় অবতরণের পর হোর্হে মেসিকে ঘিরে ভিড় জমান সংবাদকর্মীরা। ছবি: টুইটার
বিজ্ঞাপন

কী হবে!

দুশ্চিন্তার পারদ ক্রমশ চড়ছে বার্সেলোনা সমর্থকদের। ক্লাব সভাপতির সঙ্গে হোর্হে মেসির বৈঠকে যদি কোনো সুরাহা না হয়? কিংবা ফল হলেও সেটি যদি বার্সার বিপক্ষে যায়—মানে মেসিকে যদি ধরে না রাখতে পারে বার্সা? আবার মেসি-বার্সা সম্ভাব্য বিচ্ছেদে আর্জেন্টাইন তারকার পক্ষে থাকা সমর্থকদের জন্যও দুশ্চিন্তা কম নয়। বার্সার সঙ্গে মেসির তিক্ততার শেষটা যদি হয় ক্যাম্প ন্যু তে তাঁর ফেরা দিয়ে। এ সব প্রশ্নের জবাব মেলার অপেক্ষা ক্রমশ বাড়ছে। বার্সা সভাপতির সঙ্গে এই মুহূর্তে বৈঠকে চলছে মেসির বাবার, যিনি আবার তাঁর এজেন্টও। তবে বৈঠকের আগে মেসির বাবা কিন্তু বার্সা সমর্থকদের জন্য কোনো আশার খবর দিতে পারেননি।

মেসির বাবার সঙ্গে বার্সার বৈঠক ঘিরে কাল থেকেই গুঞ্জন চলছে। আর্জেন্টিনা থেকে ব্যক্তিগত বিমানে চড়ে আজ দুপুরে বার্সেলোনায় পা রাখেন হোর্হে মেসি। লক্ষ্য তাঁর ছেলের ইচ্ছাপূরণ করা।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

কিছুদিন আগে বার্সা ছাড়ার সিদ্ধান্ত বুরোফ্যাক্সের মাধ্যমে ক্লাবকে জানান মেসি। এরপর থেকেই জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি। তা খোলাসা করতে বৈঠকে বসেছে দুই পক্ষ। ছেলের বার্সা ছাড়ার পথ সুগম করাই ‘মিশন’ হোর্হে মেসির। বার্সার চোখে তা ‘ইমপসিবল’—মানে ফ্রি-এজেন্ট হিসেবে যেতে পারবেন না মেসি। বাই আউট ক্লজের পুরো ৭০ কোটি ইউরো গুণে যেতে হবে তাঁকে। টুইটারে সংবাদকর্মীরা গুঞ্জন তুলেছেন, এই অচলাবস্থার মাঝে মেসির জন্য একটি পথ বের করতে চান হোর্হে মেসি। মানে, মেসি বার্সা ছাড়তে চান তবে দীর্ঘদিনের ক্লাব সে জন্য কোনো টাকা-পয়সা পাবে না তেমন যেন না হয়। মাঝামাঝি একটা পথ বের করতে চান আর্জেন্টাইন তারকা।

বার্সেলোনা বিমানবন্দরে হোর্হে মেসি পা রাখার পর তাঁর সঙ্গে কথা বলেছে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম দেপোর্তেস কুয়াত্রো। বার্সায় ছেলের ভবিষ্যৎকে ‘কঠিন’ বলেই মনে করছেন মেসির বাবা। সংবাদমাধ্যমটির সঙ্গে মেসির বাবার কথোপকথন নিচে তুলে ধরা হলো:
—হোর্হে, মেসি কি বার্সেলোনা ছাড়ছে?
—জানি না।
—আপনি কি মনে করেন?
—কঠিন।
—বার্সেলোনায় থাকা কঠিন?
—হ্যাঁ।
—ম্যানচেস্টার সিটি পরবর্তী গন্তব্য হিসেবে কেমন?
—আমি জানি না, এখনো কিছুই ঠিক হয়নি।
—আপনি কি পেপ গার্দিওলার সঙ্গে কথা বলেছেন, তিনি কি বলেছেন মেসির বার্সায় থাকাই ভালো?
—পেপ-এর সঙ্গে আমার কোনো কথা হয়নি।
—আপনি পেপ গার্দিওলার সঙ্গে কথা বলেননি?
—না, কারও সঙ্গেই বলিনি।
—বার্সায় মেসিকে দেখেন?
—কঠিন, কঠিন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বৈঠকে মেসির চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব রাখবে বার্সা। কিন্তু মেসি বার্সা ছাড়ার সিদ্ধান্তে অটল—ছেলের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করবেন হোর্হে মেসি। এর মধ্যে স্প্যানিশ রেডিও কাদেনা সের জানাচ্ছে, মেসি বার্সা ছেড়ে অন্য কোনো ক্লাবে গেলে তাঁকে ও তাঁর নতুন ক্লাবকে ফিফার দরবারে নেবে বার্তোমেউ। মৌসুম শেষ হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে এখনো বার্সায় নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেননি মেসি। চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের ৮-২ গোলে হারের পর ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন মেসি। বার্সার দাবি, মেসি ক্লাব ছাড়তে চাইলে তাঁকে বাই আউট ক্লজের পুরো ৭০ কোটি ইউরো দিতে হবে। অন্যদিকে আর্জেন্টাইন তারকার দাবি, শর্ত মেনেই তিনি এখন ফ্রি-এজেন্ট। এ ছাড়াও আরও একটি পথের কথা জানিয়েছে ইএসপিএন।

সূত্র মারফত তারা জানিয়েছে, রিলিজ ক্লজ দেওয়া ছাড়াই মেসির বার্সার ছাড়ার পথ করে দিতে যাচ্ছে বার্সা। শর্তটা ভীষণ কঠিন। মেসি ফ্রি-এজেন্ট হিসেবে বার্সা ছাড়তে পারবেন যদি আগামী মৌসুমে ফুটবল না খেলেন। সহজ কথায় পরের মৌসুমে মেসি কোনো বেতন পাবেন না এবং আগামী গ্রীষ্মের আগে তিনি কোনো দলে যোগ দিতে পারবেন না—তবেই তাঁকে ফ্রি-তে ক্লাব ছাড়ার পথ করে দেবে বার্সা। তখন অবশ্য এমনিতেই মেসির সঙ্গে বার্সার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ফুরোবে। ২০২১ সালের জুনে বার্সার সঙ্গে বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ফুরোবে মেসির।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

২০১৭ সালে মেসির সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করে বার্সা। শর্ত ছিল, নতুন চুক্তিতে প্রতি মৌসুম শেষে চাইলে ক্লাব ছাড়তে পারবেন তিনি। তবে এ ইচ্ছাটা জানাতে হবে মৌসুম শেষ হওয়ার ২০ দিন আগে। তা না করলে নতুন মৌসুমের জন্য কাতালান ক্লাবটির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হবেন মেসি। আর্জেন্টাইন তারকা নতুন মৌসুমের আগে ক্লাব ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে দাবি করেন, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে যেহেতু এই মৌসুমটা স্বাভাবিক সময়ে শেষ হয়নি, আরও পিছিয়েছে, আর এই পেছানো সময় ধরেই বার্সার শর্তের মধ্যে থেকে সিদ্ধান্তটা নিয়েছেন তিনি। এদিকে বার্সা দাবিটি উড়িয়ে দিয়েছে। ক্লাবের একটি সূত্র ইএসপিএনকে জানিয়েছে, মেসির ক্লাব ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশের সময়সীমা শেষ হয়েছে গত জুনে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন