বিজ্ঞাপন
default-image

বলা বাহুল্য, বার্সার মূল দলের অধিনায়ক নন ১৯ বছরের এই ফরোয়ার্ড। চুক্তি শেষ হয়ে গেলেও মেসির হাতেই মূল দলের আর্মব্যান্ড। কাতালানদের অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন জার্দি। গত মৌসুমে বার্সার যুবদলকে নেতৃত্ব দেওয়া জার্দি নতুন মৌসুমে খেলবেন রিয়াল মাদ্রিদের যুবদলের হয়ে।


২০১৯-২০ মৌসুমে যুবদলের সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন এই জার্দি। নেতৃত্বের বাড়তি চাপ বা ফর্মহীনতা, যে কারণেই হোক না কেন, গত মৌসুমে অত আলো ছড়াতে পারেননি। ৯টি গোল করেছেন আর ৩ বার গোল করতে সহায়তা করেছেন। তাই বার্সার সঙ্গে চুক্তিসংক্রান্ত জটিলতার মধ্যেই রিয়াল মাদ্রিদ ফায়দা লুটে নিয়েছে।

default-image

বার্সেলোনার হয়ে ১৭২ ম্যাচে ৩০ গোল করা লুইস ফিগোকে বড্ড ভালোবাসত ক্যাম্প ন্যুর দর্শকেরা। সেই ভালোবাসা হয়তো যথেষ্ট মনে হয়নি ফিগোর। ক্লাবের কর্তাদের সঙ্গে রেষারেষিও ছিল। ফলে ২০০০-০১ মৌসুমে বার্সার সঙ্গে দীর্ঘ পাঁচ বছরের সম্পর্কটা চুকিয়ে ফেলেন তিনি। যোগ দিলেন অন্য কোনো ক্লাব নয়, চিরশত্রু রিয়াল মাদ্রিদের ডেরায়।

অথচ এর কয়েক মাস আগেই বার্সেলোনায় থাকবেন বলে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিলেন এই পর্তুগিজ তারকা। শুধু রিয়াল-বার্সা বলেই নয়, ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত দলবদল এটি। এ নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি।

ফিগোর ৬ কোটি ২০ লাখ ইউরো দলবদলের অঙ্কটা ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ট্রান্সফারের একটিও বটে। বার্সেলোনার কাছে সেই থেকে পর্তুগিজ ফুটবল তারকা চিরদিনের বিশ্বাসঘাতক।

২০০২-০৩ মৌসুমে ক্যাম্প ন্যুতে ফিগো যখন এল ক্লাসিকো খেলতে এলেন, অবধারিতভাবেই তাঁর জন্য ভালো অভ্যর্থনা অপেক্ষা করছিল না। একসময়ের ভালোবাসার খেলোয়াড়কেই ঘৃণা উগরে দিল বার্সেলোনার সমর্থকেরা। ফিগোকে সেবার ক্যাম্প ন্যুতে আনতে অতিরিক্ত পুলিশি পাহারার ব্যবস্থা করতে হয়েছিল। ম্যাচ চলার সময় কর্নার, ফ্রি-কিক নেওয়ার সময় ফিগোকে উদ্দেশ করে গ্যালারি থেকে মুদ্রা, গলফ বল এমনকি শুয়োরের কাটা মাথাও ছুড়ে মারা হয়েছিল! আর উপরি হিসেবে দুয়োধ্বনি তো ছিলই।

একই অভ্যর্থনা জার্দির জন্য অপেক্ষা করছে কি না, বলা যাচ্ছে না। ফিগোর সঙ্গে জার্দির একটা জায়গায় পার্থক্য আছে যদিও, ফিগো যখন রিয়ালে যোগ দেন, তখন তাঁর সঙ্গে বার্সেলোনার বেশ কয়েক বছরের চুক্তি বাকি ছিল। যে কারণে বিশাল দলবদল ফি খরচা করতে হয়েছিল রিয়ালকে। জার্দির ক্ষেত্রে সেটা হচ্ছে না। কিছুদিন আগেই বার্সার সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়ে গিয়েছে তাঁর। বার্সেলোনা যে চুক্তি নবায়ন করতে চায়নি, তা নয়। কিন্তু জার্দি রাজি হননি।


ফিগো কিন্তু রিয়ালের জার্সিতে বেশ সফল ছিলেন। ১৬৪ ম্যাচে গোল করেছেন ৩৬টি। রিয়ালের দুটি লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। জার্দি ভবিষ্যতে ফিগোর কীর্তি স্পর্শ করতে পারেন কি না, সময়ই বলে দেবে।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন