দি মারিয়ার বাড়িতে ডাকাতি!
দি মারিয়ার বাড়িতে ডাকাতি!ছবি: এএফপি

পিএসজির সঙ্গে কিছুদিন আগে ২০২২ সাল পর্যন্ত চুক্তি নবায়ন করেছেন আনহেল দি মারিয়া। অর্থাৎ মনের মধ্যে স্বস্তি নিয়েই কাল রাতে নঁতের মুখোমুখি হয়েছিলেন পিএসজি উইঙ্গার। কিন্তু ম্যাচের এক ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর এই স্বস্তি রূপ নেয় ভয়ংকর দুশ্চিন্তায়। আর্জেন্টাইন তারকা মাঠে থাকতেই জানতে পারেন, ভয়াবহ ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে তাঁর বাসায়। কোচ মরিসিও পচেত্তিনোও দেরি না করে তাঁকে তুলে নেন মাঠ থেকে।

দি মারিয়ার এই খারাপ খবরের মাঝে পিএসজির জন্যও কাল দিনটা ছিল খারাপ। অবনমন তালিকায় থাকা নঁতের কাছে ঘরের মাঠে ২–১ গোলে হেরেছে তারা। চ্যাম্পিয়নস লিগ শেষ ষোলো থেকে বার্সাকে বিদায় করা দলটি ২০১২ সালের পর এই প্রথম ঘরের মাঠে টানা দুটি লিগ ম্যাচে হারল। কাল রাতের হারের মধ্য দিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে ওঠার সুযোগ হারাল পিএসজি। তবে এই ম্যাচের ফল ছাপিয়ে যায় দি মারিয়ার পারিবারিক বিপদের ঘটনায়।

মাঠে ভালোই খেলছিলেন দি মারিয়া। পিএসজিকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন বেশ কয়েকটি আক্রমণে সাহায্য করে। ঠিক এমন সময় পিএসজি পরিচালক লিওনার্দো সাইডলাইনে দাঁড়িয়ে থাকা কোচ পচেত্তিনোকে ইশারা করেন। ইএসপিএন জানিয়েছে, পচেত্তিনো তাঁর কাছ থেকে শুনেছেন দি মারিয়ার বাসায় ডাকাতির খবর। দ্রুত ৩৩ বছর বয়সী এই তারকাকে মাঠ থেকে তুলে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে নামান পচেত্তিনো। দি মারিয়ার সঙ্গে ড্রেসিং রুম পর্যন্ত যান টটেনহাম হটস্পারের সাবেক এ কোচ। এ সময় দি মারিয়ার মুখ ছিল শঙ্কাগ্রস্ত।

default-image
বিজ্ঞাপন

পিএসজির বাকি খেলোয়াড়দের মধ্যেও শঙ্কা ভর করেছিল। কারণ শুধু দি মারিয়া নয়, পিএসজি অধিনায়ক মার্কুইনহোসের বাসায়ও তাঁর বাবা–মাকে জিম্মি করে ডাকাতি করেছে দুর্বৃত্তরা। সংবাদমাধ্যম আরএমসি স্পোর্ট জানিয়েছে, দি মারিয়ার বাসায় ডাকাতিটা ছিল ‘ভীষণ সহিংস’। প্রথমে জানা গিয়েছিল, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানকে অপহরণ করা হয়েছে। পরে সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করে, দুর্বৃত্তরা তাঁর স্ত্রী ও সন্তানকে জিম্মি করে ডাকাতি করেছে। কাল মার্কুইনহোসও মাঠে ছিলেন। তাঁর বাসায় ডাকাতির ঘটনা জানা গেছে ঘণ্টাখানেক পর। সংবাদমাধ্যমের ধারণা, দুটি অপকর্মই প্রায় একই সময়ে ঘটেছে। পুলিশ এ দুটি ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং তাতে পিএসজি সব রকম সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম।

দি মারিয়ার বাসায় ডাকাতির ঘটনা এই প্রথম নয়। ২০১৫ সালে তিনি ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেডে থাকতেও তাঁর পরিবারকে জিম্মি করে ডাকাতি করেছিল দুর্বৃত্তরা। সেই ঘটনা তাঁর ইংল্যান্ড ছেড়ে যাওয়ায় বড় ভূমিকাও রেখেছিল। তবে কাল হারের পর শিষ্যদের ভুলভ্রান্তি নিয়ে ড্রেসিং রুমে কথা বলার তেমন ফুরসত মেলেনি পচেত্তিনোর, ‘এটা কোনো অজুহাত নয়, তবে খেলোয়াড়দের প্রেরণায় ঘাটতি ছিল। আমরা ফুটবলের বাইরের বিষয় নিয়েই ড্রেসিং রুমে বেশি কথা বলেছি। প্রথমার্ধে আমরা খেলা নিয়ন্ত্রণ করেছি। কিন্তু সমতায় ফেরার পর আমরা সমস্যাটার সম্মুখীন হই এবং এখান থেকে ম্যাচে লেগে থাকার মতো মনোবল ছিল না দলের।’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন