বিতর্কিত রেফারিং ম্লান করে দিল রোনালদোর জোড়া গোল

বিজ্ঞাপন
default-image

চ্যাম্পিয়নস লিগ এলেই রোনালদো যে নতুন এক সঞ্জীবনী সুধায় উজ্জীবিত হয়ে ওঠেন, সেটার প্রমাণ পাওয়া গেল গত রাতেও। এক গোলে পিছিয়ে থাকা দলকে টেনে তোলার জন্য করেছিলেন দুই গোল। কিন্তু তাতেও জুভেন্টাসের ভাগ্য খুলল না। দুই লেগ মিলিয়ে ফরাসি ক্লাব অলিম্পিক লিওঁর কাছে হেরে দ্বিতীয় রাউন্ডেই বিদায় নিল টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট জুভেন্টাস।

রোনালদো জোড়া গোল করলেও এই ম্যাচের নায়ক তিনি হতে পারেননি একজনের কারণে। তিনি ম্যাচের জার্মান রেফারি ফেলিক্স জোয়ায়ের। ম্যাচের পুরোটা আলো নিজের ওপরে নেওয়ার পণ করেছিলেন যেন এই ভদ্রলোক। তাঁর প্রশ্নবিদ্ধ এক পেনাল্টির সিদ্ধান্তেই গোল করে মহামূল্যবান এক অ্যাওয়ে গোল পেয়ে যায় লিওঁ। আর তাতেই কপাল পুড়েছে জুভেন্টাসের। রোনালদোর জোড়া গোলের গৌরবও ম্লান হয়ে গেছে তাতেই। 

প্রথম লেগে জুভেন্টাসকে চমকে দিয়ে ম্যাচ জিতেছিল লিওঁ। ১-০ গোলে জয় পেয়েছিল তারা, জুভেন্টাস পরের মাঠে কোনো গোল করতে পারেনি। দ্বিতীয় লেগে তাই জুভেন্টাসের ওপরে চাপ ছিল গোল করার, ও একই সঙ্গে খেয়াল রাখার যাতে লিওঁ অ্যাওয়ে গোল না পেতে পারে। ম্যাচের ১২ মিনিটেই দ্বিতীয় উদ্দেশ্যটা ব্যর্থ হয়ে যায়, গোল খেয়ে বসে জুভেন্টাস। ডি-বক্সের মধ্যে বিপজ্জনকভাবে ঢুকে যাওয়া ফরাসি মিডফিল্ডার হুসাম ওয়ারকে আটকাতে গিয়ে স্লাইড ট্যাকল করেন জুভেন্টাসের উরুগুইয়ান মিডফিল্ডার রদ্রিগো বেনতাঙ্কুর। বেশ ভালোভাবেই ওয়ারের পা থেকে বল কেড়ে নিতে সক্ষম হন তিনি, একই সঙ্গে ট্যাকলের কারণে পড়ে যান ওয়ার। রেফারি ওয়ারের পড়ে যাওয়া দেখলেও, দেখেননি বেনতাঙ্কুরের বল জিতে নেওয়ার দৃশ্যটা। ফলে পেনাল্টি পায় লিওঁ। সেখান থেকে গোল করে দলকে মহামূল্যবান অ্যাওয়ে গোল এনে দেন স্ট্রাইকার মেমফিস ডিপাই। রোনালদোদের সামনে তখন 'দুর্গম গিরি কান্তার মরু, দুস্তর পারাবার!'

ম্যাচের ৪১ মিনিটেই গোল করার দুয়ার খুলে যায় জুভেন্টাসের সামনে। শুরুতে লিওঁকে বিতর্কিত পেনাল্টি দেওয়ার কারণেই কি না, সেই ভুল কাটার জন্য এবার জুভেন্টাসকে প্রশ্নবিদ্ধ এক পেনাল্টি উপহার দেন রেফারি। লিওঁ-র বক্সের বাইরে ফ্রি-কিক পায় জুভেন্টাস। বসনিয়ান মিডফিল্ডার মিরালেম পিয়ানিচের নেওয়া ফ্রি-কিক গিয়ে লাগে মানবদেয়ালের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ডিপাইয়ের হাতে। যদিও সেখানে ডিপাই হাত যথাসম্ভব শরীরের কাছাকাছি রেখেছিলেন, তা-ও রেফারি আরও একবার বিতর্ক উসকে দিয়ে পেনাল্টির সিদ্ধান্তে বহাল থাকেন। রেফারি সরাসরি পেনাল্টির ইঙ্গিতের পর ভিএআরও সেই আদেশ বহাল রাখে। পেনাল্টি থেকে স্বদেশি গোলরক্ষক অ্যান্থনি লোপেসকে উল্টো দিকে পাঠিয়ে জুভেন্টাসকে ম্যাচ সমতায় আনেন রোনালদো। দরকার আর মাত্র দুই গোল।

চোটের কারণে মাঠে ছিলেন না সিরি 'আ'র এই মৌসুমের সেরা তারকা পাওলো দিবালা। দিবালা না থাকার কারণে সৃষ্টিশীলতার অভাবে ভুগেছে জুভেন্টাস। মিডফিল্ডাররাও সেভাবে সাহায্য করতে পারেননি রোনালদোকে। ফলে জুভেন্টাস আশা করছিল 'রোনালদো-জাদু'র। রোনালদোও ভক্তদের হতাশ করেননি। ম্যাচের ৬০ মিনিটে দূরপাল্লার এক শটে লিওঁর গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে দেন রোনালদো। শটে এতটাই জোর ছিল যে, গোলরক্ষক লোপেস হাত লাগিয়েও বল আটকাতে পারেননি। হাতে ঠেকে বারে স্পর্শ করার পরেও জালে জড়িয়ে যায় রোনালদোর শট। এই গোলের মাধ্যমে এক মৌসুমে জুভেন্টাসের হয়ে সর্বোচ্চ গোলের ৯৫ বছর পুরোনো রেকর্ড ভেঙে দেন জুভেন্টাসের সবচেয়ে বড় তারকা।
সমর্থকদের আশা ছিল, আরেকটি গোল করে ঠিক গত মৌসুমের মতো হ্যাটট্রিক করে দলকে তুলবেন কোয়ার্টারে। সে স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেছে।

শেষ দিকে দিবালা নেমেও দলকে উদ্ধার করতে পারেননি। উল্টো শেষ আধা ঘণ্টায় নিজেদের রক্ষণভাগ সুদৃঢ় রাখার পুরস্কার নিয়ে ঘরে ফিরেছে ফরাসি ক্লাবটা। আর জোড়া গোল করেও রোনালদোর কপালে জুটেছে ২০১০ সালের পর সর্বপ্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই বাদ পড়ে যাওয়ার গ্লানি।

কোয়ার্টারে লিওঁর মুখোমুখি হবে আরেক ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদকে হারানো ম্যানচেস্টার সিটি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন