জমজমাট লড়াই করেও সাইফ স্পোর্টিংকে হারাতে পারেনি মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্র। গোলের পর সাইফের খেলোয়াড়দের উল্লাস
জমজমাট লড়াই করেও সাইফ স্পোর্টিংকে হারাতে পারেনি মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্র। গোলের পর সাইফের খেলোয়াড়দের উল্লাসছবি: প্রথম আলো

‘কপালটাই খারাপ’—ম্যাচ শেষে আফসোস করছিলেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্রের এক ফুটবলার। সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবকে হারানোর সুযোগ পেয়েও শেষ পর্যন্ত হারের আফসোস তাঁর। আজ এক গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত সাইফ স্পোর্টিংয়ের বিপক্ষে ২–১ গোলে হারতে হলো মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে।

দারুণ জমজমাট এক ম্যাচ হয়েছে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। দুই দল উপহার দিয়েছে আক্রমণাত্মক ফুটবল। তিন গোলই করেছেন বিদেশিরা। মুক্তিযোদ্ধার গোলটি উজবেক ফরোয়ার্ড আকবর আলির।

একটি করে গোল করেছেন সাইফের নাইজেরিয়ান ডিফেন্ডার এমানুয়েল আরিয়াচুকু ও উজবেক মিডফিল্ডার সিরোজিদ্দিন রাখমাতুলেভ।

বিজ্ঞাপন

আগের ম্যাচে মুন্সিগঞ্জে আরামবাগ ক্রীড়াচক্রের বিপক্ষে জয় পেয়েছিল মুক্তিযোদ্ধা। প্রথম জয়ের সে অনুপ্রেরণা নিয়ে আজ সাইফের রক্ষণভাগকে বারবার ঝাঁকুনি দিয়েছে তারা।

মুক্তিযোদ্ধার মালয়েশিয়ান কোচ রাজা ইসা তাঁর কৌশলে চমক এনেছেন। ক্যামেরুন জাতীয় দলে খেলা স্ট্রাইকার ক্রিশ্চিয়ান বেকেমেঙ্গাকে খেলিয়েছেন হোল্ডিং মিডফিল্ডার হিসেবে।

৪–১–৪–১ ফরমেশনে হোল্ডিং মিডফিল্ডার হিসেবে একেবারে হতাশ করেননি তিনি। বরং মাঝমাঠে তাঁকে পেয়ে আজ আগের চেয়ে উজ্জ্বল মনে হয়েছে জাপানি মিডফিল্ডার ও অধিনায়ক ইউসুকে কাতোকে।

default-image

২৫ মিনিটে কাতো, মেহেদী হাসান ও আকবর আলির রসায়নে এগিয়ে যায় মুক্তিযোদ্ধা। কাতো মাঝমাঠ থেকে আক্রমণভাগে পাস দিয়েছিলেন মেহেদীকে। স্থানীয় এই স্ট্রাইকার বল নিয়ন্ত্রণে না নিয়ে পায়ের ফাঁক দিয়ে ছেড়ে দেন।

বক্সের বাঁ প্রান্ত দিয়ে ঢুকে বলের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কাছের পোস্ট দিয়ে বল জালে জড়ান আকবর আলি। এতে সাইফ গোলরক্ষক পাপ্পু হোসেনের দায়ও কম নয়। ১০ মিনিট পরেই সাইফকে ম্যাচে ফেরায় তাদের নাইজেরিয়ান সেণ্টারব্যাক এমানুয়েল।

রহমত মিয়ার ফ্রি কিকে বক্সের মধ্যে থেকে হেডে গোলটি করেন তিনি। লিগে এটি তাঁর প্রথম গোল।

মূল স্ট্রাইকার ইকেচুকু কেনেথকে ছাড়াই আজ দল সাজাতে হয়েছে সাইফ কোচ পল পুটকে। তাঁর জায়গায় মূল স্ট্রাইকার হিসেবে খেলানো হয় স্থানীয় তরুণ সাজ্জাদ হোসেনকে।

কেনেথের বিকল্প হিসেবে মাঠে নামার চাপ তিনি নিতে পারেননি। কেনেথ মাঠে না থাকায় আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার জন ওকোলিও আজ ভালো সঙ্গ পাননি।

উপায়ান্তর না দেখে একক প্রচেষ্টায় কিছু করে দেখানোর আশায় মাঝমাঠ থেকে লেফট উইংয়ে সরে যান ওকোলি। তাঁর ঝড়ো গতির মুভেই এসেছে জয়সূচক গোলটি।

default-image

৭৯ মিনিটে মাঝমাঠের ওপর থেকে দুর্দান্ত গতিতে বাঁ প্রান্ত দিয়ে কোনাকুনি বক্সে ঢুকে শট নেন ওকোলি। তাঁর শট মুক্তিযোদ্ধা ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে ফিরে এলে ফিরতি বলে শটে গোল করেন সিরোজিদ্দিন, ১–২।

লিগে চার ম্যাচ খেলে এটি সাইফের দ্বিতীয় জয়। তিন ম্যাচ খেলে মুক্তিযোদ্ধার দ্বিতীয় হার।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন