রিয়াল-বার্সা-আতলেতিকোসহ ১২ দল মিলে গড়তে চেয়েছে ইউরোপিয়ান সুপার লিগ।
রিয়াল-বার্সা-আতলেতিকোসহ ১২ দল মিলে গড়তে চেয়েছে ইউরোপিয়ান সুপার লিগ। ছবি: রয়টার্স

ইউরোপিয়ান সুপার লিগ আপাতত আলোর মুখ দেখছে না, এমনটা হয়তো নিশ্চিত করেই বলে দেওয়া যায়। তবে এটি যে একেবারেই হারিয়ে যাচ্ছে সংবাদের শিরোনাম থেকে, এমনও নয়। সুপার লিগ আয়োজন করতে চাওয়ার নেপথ্যে মূল হোতাদের একজন রিয়াল মাদ্রিদের সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ এখনো সুপার লিগ নিয়ে হার মানতে রাজি নন। বার্সেলোনার নবনির্বাচিত সভাপতি হোয়ান লাপোর্তাও বারবার বুঝিয়ে দিতে চাইছেন বিদ্রোহী এই লিগের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা।

শেষ পর্যন্ত সুপার লিগ অন্য কোনো রূপ নিয়ে আবার হাজির হওয়ার সম্ভাবনা তো এখনো বেশ জোরাল আছেই, এর পাশাপাশি সুপার লিগ ইউরোপজুড়ে শিরোনামে জায়গা করে নিচ্ছে নানা আইনি জটিলতার খবরের কারণে। এখন শোনা যাচ্ছে, বিদ্রোহী সুপার লিগ আয়োজনের ঘোষণার দুই দিনের মধ্যে যে ক্লাবগুলো এটি থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, তাদের ৩০ কোটি ইউরো জরিমানা দিতে হতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় অঙ্কটা ৩০৬০ কোটি টাকা!

যদিও জরিমানা দিতে হবে কি না, দিলেও অঙ্কটা কত হবে, তা নিয়ে দুই ধরনের কথা শোনা যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

স্প্যানিশ দুই ক্রীড়াদৈনিক মার্কা আর স্পোর্তের দুই খবর গুঞ্জনের দুদিকেই বাতাস আরও বাড়াচ্ছে! বার্সেলোনাভিত্তিক পত্রিকা স্পোর্ত লিখেছে, বার্সা ও রিয়াল ছাড়া বাকি সব ক্লাব সরে গেলেও কেউই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নাম প্রত্যাহার করেনি। এর মূল কারণ অর্থ। আরও নির্দিষ্ট করে বললে, ওই ৩০০ মিলিয়ন বা ৩০ কোটি ইউরো জরিমানার শঙ্কা। যদিও ইউরোপের ফুটবলের হাঁড়ির খবর ফাঁস করে বেশ আলোচনায় আসা জার্মান সাময়িকী ডার স্পিগেল বলছে, অঙ্কটা ১৫০ মিলিয়ন বা ১৫ কোটি ইউরো।

আর্থিক ও ব্যবসায়িক দিক নিয়ে মূলত খবর প্রকাশ করা স্পেনের ওয়েবসাইট ভোসপোপুলিকে উদ্ধৃত করে স্পোর্ত লিখেছে, ইউরোপিয়ান সুপার লিগের আয়োজক ১২ ক্লাবের মধ্যে যারাই লিগটি ছেড়ে যেতে চাইবে, তাদের ৩০ কোটি ইউরো জরিমানা গুনতে হবে। কারণ হিসেবে ভোসপোপুলি লিখেছে, ইউরোপিয়ান সুপার লিগের আয়োজনের আলোচনায় ঢোকার সময়ই ক্লাবগুলো যে চুক্তি সই করেছে, সেটি ‘অলঙ্ঘনীয় চুক্তি।’ সে চুক্তিতেই লেখা আছে চুক্তি ভাঙার ক্ষেত্রে এই বিশাল অঙ্কের জরিমানার কথা।

ভোসপোপুলি আরও জানাচ্ছে, এই ৩০ কোটি জরিমানার অঙ্কের সঙ্গে জড়িয়ে আরেকটি অঙ্ক। সাড়ে ৩ বিলিয়ন ইউরো, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। এই টাকা কিসের? ইউরোপিয়ান সুপার লিগ আয়োজনের জন্য বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগানের কাছ থেকে সুপার লিগের জন্য এই অঙ্কের ধার নেওয়ার কথা ছিল। শোনা গেছে, সুপার লিগে অংশ নিলেই অন্তত ৪৫ কোটি ইউরো পাওয়ার কথা ছিল প্রতিটি ক্লাবের। এর বাইরে ক্লাবগুলোর ‘ভার’ বিবেচনায় একেকটি ক্লাব একেক অঙ্কের আরও বাড়তি অর্থ পেত। ধারণা করা হচ্ছে, এই সব টাকা আসত জেপি মরগান থেকে নেওয়া ধার ও অন্যান্য স্পনসরশিপ আর টিভিস্বত্ত্বের আগাম পাওয়া অর্থ থেকে।

default-image

কিন্তু এক স্প্যানিশ দৈনিক স্পোর্ত যেখানে জানাচ্ছে, বিদ্রোহ থেকে সরে যাওয়া ক্লাবগুলোর জরিমানা গুনতে হতো, মাদ্রিদভিত্তিক আরেক স্প্যানিশ দৈনিক মার্কা জানাচ্ছে উল্টো। তারা লিখেছে, ভোসপোপুলি এই জরিমানার অঙ্কের কথা জানালেও সুপার লিগের আয়োজকদের একটা সূত্রকে উদ্ধৃত করে মার্কা লিখছে, সুপার লিগ জানাচ্ছে জরিমানার যে অঙ্কটা জানানো হচ্ছে সেটি ভুল।

বিজ্ঞাপন

পাশাপাশি সুপার লিগের ভবিষ্যৎ নিয়েও ওই প্রতিবেদনে একটা ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে মার্কা। সেটি এই, পেরেজ এখনো সুপার লিগের ধারণাকে ‘ফ্লপ’ মানতে রাজি নন। রিয়াল সভাপতিকে উদ্ধৃত করে মার্কা লিখছে, ‘কেউই এখনো সুপার লিগ ছেড়ে যায়নি, কেউ এখনো সেটার জরিমানা দেয়নি।’ তার মানে তো জরিমানা গুনতে হবে সুপার লিগ ছেড়ে যাওয়া ক্লাবগুলোকে!

default-image

প্রসঙ্গত গত রোববার রিয়াল, বার্সা, আতলেতিকো মাদ্রিদ, লিভারপুল, ম্যান ইউনাইটেড, ম্যান সিটি, আর্সেনাল, টটেনহাম, চেলসি, জুভেন্টাস, ইন্টার মিলান ও এসি মিলান—ইউরোপের কূলীনদের সারিতে থাকা এই ১২ ক্লাব একসঙ্গে ঘোষণা দিয়েছিল, তারা চ্যাম্পিয়নস লিগের বদলে এই সুপার লিগ আয়োজন করতে যাচ্ছে। যদিও সমর্থকদের বিক্ষোভ ও উয়েফা-ফিফার হুমকির মুখে সেখান থেকে সরে আসার ঘোষণা প্রথমে দিয়েছে ইংলিশ ক্লাবগুলো। একে একে লিগটি ছেড়ে এসেছে ইতালিয়ান ক্লাবগুলো আর আতলেতিকোও। রিয়াল-বার্সা এখনো লিগ ছেড়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়নি।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন