আগামীকাল সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে এএফসি কাপের প্লে-অফে মালদ্বীপের ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে খেলার কথা ছিল আবাহনীর। ‘খেলার কথা ছিল’ লেখার কারণ, ম্যাচটি আর মাঠে গড়াচ্ছে না। আর্থিক সংকটের বিষয় উল্লেখ করে ম্যাচটি খেলা সম্ভব হচ্ছে না বলে এএফসিকে জানিয়ে দিয়েছে মালদ্বীপের ক্লাবটি।

আবাহনীর ম্যানেজারের সত্যজিত দাস জানান, এরই মধ্যে বাতিল করা হয়েছে আজকের দুপুরের ‘ম্যানেজার্স মিটিং’। নিয়ম অনুযায়ী জয়ী দল হিসেবে প্লে–অফের দ্বিতীয় ম্যাচে চলে যাবে আবাহনী।

বিনা যুদ্ধে দলের জয়ে যেমন খুশি, তেমনি হতাশও নেদো। সকালে প্রথম আলোকে বলছিলেন, ‘সত্যি কথা বলতে নিয়ম অনুযায়ী দল জয় পাওয়ায় আমি খুশি। কারণ, জেতার জন্যই আমরা এখানে এসেছি। তবে খেলে জিততে পারলে ভালো লাগত। খেলোয়াড়েরা খেলতে চায়। আমার ব্যাপারটি আরও অন্য রকম। আমাকে তো নেওয়াই হয়েছে শুধু এএফসি কাপের জন্য। প্রথম ম্যাচটি না খেলেই শেষ হয়ে গেল।’

১৯ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় প্লে–অফের দ্বিতীয় ম্যাচে ধানমন্ডির ক্লাবটির প্রতিপক্ষ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ১২ এপ্রিল কলকাতায় মুখোমুখি হওয়া ভারতের এটিকে মোহনবাগান ও শ্রীলঙ্কার ব্লু স্টারের মধ্যকার জয়ী দল হবে আবাহনীর প্রতিপক্ষ। এ ম্যাচের জয়ী দল পাবে এএফসি কাপের গ্রুপ পর্বের টিকিট।

বাকি অনেকের মতো নেদোও ধরে নিয়েছেন, কলকাতার যুবভারতী স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার ব্লু স্টারকে অনায়াসে উড়িয়ে দেবে মোহনবাগান। সর্বশেষ এএফসি কাপে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চল থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে আন্ত–আঞ্চলিক পর্বে গিয়েছিল তারাই। তাই কলকাতার ঐতিহ্যবাহী মোহনবাগানকেই প্রতিপক্ষ হিসেবে আগাম ধরে নেওয়া। ২০১৭-১৮ মৌসুমে ভারতের নেরোকা এফসি ক্লাবের হয়ে আইলিগ খেলার সুবাদে মোহনবাগান সম্পর্কে ভালোই জানা আছে নেদোর।

৩২ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার বলছিলেন, ‘মোহনবাগানের বিপক্ষে খুব কঠিন একটা ম্যাচ হবে। তাদের বিপক্ষে আমার দুই ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে। এএফসি কাপে তাদের অতীত ভালো। সর্বশেষ আইএসএলেও তারা খুব ভালো করেছে। আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে লড়তে হবে। মোহনবাগানকে হারাতে পারলে আবাহনীর জন্য এটা বড় অর্জন হবে।’

তবে মোহনবাগানের বিপক্ষে নেদোর খেলাটা নির্ভর করছে ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার দরিয়েলতন গোমেজের ওপর। চোটের কারণে দরিয়েলতন সিলেটে না আসতে পারায় আগামীকালের ম্যাচটি খেলা নিশ্চিত ছিল নেদোর। কিন্তু আগামী ম্যাচের আগে দরিয়েলতন ফিট হয়ে উঠলে নেদোকে মাঠে না নামানোর সম্ভাবনাই বেশি।