বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সিটিতে ছয় বছরে গার্দিওলা ১০০ কোটিরও বেশি ইউরো খরচ করেছেন খেলোয়াড় কেনার পেছনে, এর বিনিময়ে যা সাফল্য শুধু ইংল্যান্ডেই। তাঁর অধীনে ছয় বছরে চতুর্থ লিগ শিরোপার দিকে এবার ছুটছে সিটি, লিগ কাপ আর এফএ কাপেও শিরোপা এসেছে বেশ কয়েকবার। কিন্তু এতে মন ভরছে না সিটির। তাদের যে চ্যাম্পিয়নস লিগ চাই! তেলেধন্য বদনাম ঘুচিয়ে ইউরোপের কূলীনদের সারিতে ওঠা চাই!

গার্দিওলা ছয় বছরেও সেটা এনে দিতে না পারায় নিজেই বেশ হতাশ। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে প্রশ্নে যদিও আবুধাবি গ্রুপ শুধু চ্যাম্পিয়নস লিগের জন্যই ক্লাবটি কেনেনি বলে মনে করিয়ে দিয়েছেন, তবে এর পাশাপাশি নিজের হতাশাও জানিয়ে দিয়েছেন স্প্যানিশ কোচ।

‘আমার কাছে যেটা মনে হয় যে, আবুধাবির লোকেরা যখন এই ক্লাবটা কিনেছে, তাঁরা শুধু চ্যাম্পিয়নস লিগের জন্যই কেনেননি। কিনেছেন প্রতি মৌসুমে সব টুর্নামেন্টের একেবারে শেষ পর্যন্ত যাতে ক্লাবটা লড়ে যেতে পারে, সেটি দেখতে। আমাকে কখনো নির্দিষ্ট কোনো শিরোপা জেতার কথা তাঁরা বলেননি। আমরাও চাই চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে। হয়তো আমিই এই দলটাকে সেটা এনে দেওয়ার মতো ভালো কোচ নই! তবে কেউ তো আর বলতে পারবে না অন্য কোনো কোচ এখানে থাকলে বা অন্য খেলোয়াড় থাকলে কী হতো’—কাল সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন গার্দিওলা।

তাঁর অধীনে চ্যাম্পিয়নস লিগ না জিতলেও প্রতি মৌসুমে টুর্নামেন্টটার জন্য সবচেয়ে ফেবারিট দলগুলোর মধ্যে সিটির নাম ওপরের দিকেই থাকছে। ইংল্যান্ডে তো এক লিভারপুল ছাড়া আর কোনো দল সেভাবে লিগ শিরোপার পথে সিটির বাধা হতেই পারছে না।

default-image

গার্দিওলা এই সাফল্যগুলোও মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ‘আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, সব টুর্নামেন্টে যতটা সম্ভব শেষদিক পর্যন্ত থাকতে পারাও অনেক বড় ব্যাপার। জানি আমরা এই ক্লাবে যা করছি তা অনেকের কাছেই প্রশংসিত হবার মতো নয়, যথেষ্ট নয়, তবে আমার চোখে গত মৌসুমের (ফাইনালে ওঠার পর) এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে যেতে পারাও অনেক বড় অর্জন। এবারও (ফাইনালের) খুব কাছে গিয়েছিলাম, পুরোটুকু যেতে পারিনি—যারা জেতে তাদেরই জয়টা প্রাপ্য ধরে নিতে হয়। কিন্তু আমরা খুব কাছে গিয়েছিলাম।’

রিয়ালের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের শিকার হওয়ার পর থেকে যেন মূঢ় হয়ে আছে সিটি। কিন্তু এভাবে বসে থাকলেও তো চলছে না তাদের। লিগেও যে লিভারপুলের সঙ্গে শিরোপাদৌড়টা বেশ জমে উঠেছে। মৌসুমে এবার এই একটা শিরোপাই জেতার মতো আছে সিটির। আগামীকাল লিগে নিউক্যাসলের বিপক্ষে ম্যাচের আগে তাই রিয়ালের দুঃখকেই শক্তিতে পরিণত করতে হবে গার্দিওলার দলকে। কিন্তু তা কী সম্ভব?

২০১৯ চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে টটেনহামের বিপক্ষে একেবারে শেষ মুহুর্তে রাহিম স্টার্লিংয়ের গোল ভিএআরে মিলিমিটারের ব্যবধানে অফসাইড হওয়ায় বাদ পড়েছিল সিটি। সেই প্রসঙ্গ টেনে এনে গার্দিওলা নিজেই বলছেন, ‘ওরা কীভাবে ভুলবে সেটা (রিয়ালের মাঠে দ্বিতীয় লেগের দুঃস্বপ্ন)? অবশ্যই এটা ওদের মাথায় থাকবে। আমার এখনো টটেনহাম ও স্টার্লিংয়ের গোলের কথা মনে আছে। এক ইঞ্চির পার্থক্য! জানি এটাও ওদের মাথায় থাকবে, তবে সেটিকে একপাশে রেখে ওরা (নিউক্যাসলের বিপক্ষে) কতটা নিবেদিত থাকবে, সেটাও আমি জানি।’

default-image

রিয়াল ম্যাচের পর খেলোয়াড়দের উজ্জীবিত করতে কিছু বলেননি বলেও জানালেন গার্দিওলা, ‘কথা হয়নি ওদের সঙ্গে। আমাদের অনুভূতি এখন যেমন, তাতে কোনো শব্দই আমাদের কাজে আসবে না। ব্যাপারটা সময়ের হাতে ছেড়ে দিতে হবে, যতটা ভালো সম্ভব ঘুমানোর চেষ্টা করতে হবে, এরপর পরের লক্ষ্য নিয়ে ভাবতে হবে।’

তবে সিটিকে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতাতে না পারায় নিজেকে ব্যর্থও ভাবেন না গার্দিওলা, ‘মানুষ বলে অমুক খেলোয়াড় বা কোচ যদি অমুক শিরোপা জিততে না পারে, তাহলে তারা ব্যর্থ। সেটা মেনে নিই আমি, তবে এর সঙ্গে একমতও আমি নই। ব্যাপারটাকে আমি সঠিক আর আপনারা ভুল—এমন দেখাতে চাই না। লোকে যা ইচ্ছা বলতে পারে, করতে পারে। কিন্তু ক্লাব হিসেবে আমরা যা ভাবি তা হলো আমাদের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।’

এত এত সমালোচনায় কিছুটা বিরক্ত গার্দিওলা এরপর সোজাসুজি বলেই দিলেন, সিটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতলেও সমালোচনার শেষ হবে না। কেন, সে ব্যাখ্যাও দিয়েছেন, ‘জানি বাইরের মানুষ শুধু চ্যাম্পিয়নস লিগ, চ্যাম্পিয়নস লিগ, চ্যাম্পিয়নস লিগই করে। কিন্তু আমরা শুধু চ্যাম্পিয়নস লিগের কথাই ভাবতে পারি না। আর আমরা যেদিন চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতব, সেদিনও মানুষ বলবে, ওরা কত টাকা খরচ করেছে সেদিকেও দেখুন। না জিতলে বললে এত খরচ করেও চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে পারল না। দুনিয়াতে গত ১০, ১৫, ২০ বছরে আমরাই তো একমাত্র ক্লাব যারা টাকা খরচ করেছে, তাই না!’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন