বার্সেলোনা ছাড়তে চান লিওনেল মেসি।
বার্সেলোনা ছাড়তে চান লিওনেল মেসি। ছবি: এএফপি

কাল রাত থেকেই কথাটা ঘুরছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বার্সেলোনা ছাড়ার কথা ফ্যাক্স করে ক্লাবকে জানিয়েছেন লিওনেল মেসি। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কথাটা অর্ধেক সত্য।


ফ্যাক্স নয়, শব্দটা বুরোফ্যাক্স। মেসি বুরোফ্যাক্সের মাধ্যমে বার্সাকে নিজের ক্লাব ছাড়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। কাল রাত থেকেই তাই অনেকের মনে প্রশ্ন হয়ে এসেছে শব্দটা। বুরোফ্যাক্স কী?

বিজ্ঞাপন

বুরোফ্যাক্স আসলে অর্ধেক ফ্যাক্স আর অর্ধেক পোস্ট অফিস। বুঝিয়ে বলা যাক। এটি স্পেনের পোস্টাল সার্ভিসের একটি সেবা। জরুরি প্রত্যায়িত পত্র এ সেবার মাধ্যমে ইন্টারনেটেও পাঠানো যায়। এটি নিরাপদ এবং এখানে বার্তা সরবরাহের সময় তৃতীয় পক্ষের সই লাগে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এএস’ জানিয়েছে, অনেক সময় এমন কিছু প্রয়োজনীয় কাগজ বা বার্তা পাঠাতে হয় যা পাঠানোর প্রমাণ রাখা জরুরি। বার্তাটি যাঁর কাছে পাঠানো হয়েছে তিনি যে সেটি হাতে পেয়েছেন সেই প্রমাণও মেলে বুরোফ্যাক্স সেবায়। যিনি পাঠিয়েছেন পরে যেন তিনি আইনিভাবে প্রমাণ করতে পারেন, বার্তাটি পাঠিয়েছিলেন এবং যাঁর কাছে পাঠানোর কথা সেটি তিনি নির্দিষ্ট তারিখে হাতে পেয়েছেন—এটাই হলো বুরোফ্যাক্সের সুবিধা। এ ক্ষেত্রে প্রেরক আদালতে বার্তা পাঠানোর রশিদ প্রমাণ হিসেবে পেশ করতে পারেন।

বিজ্ঞাপন
অনেক সময় এমন কিছু প্রয়োজনীয় কাগজ বা বার্তা পাঠাতে হয় যা পাঠানোর প্রমাণ রাখা জরুরি। বার্তাটি যাঁর কাছে পাঠানো হয়েছে তিনি যে সেটি হাতে পেয়েছেন সেই প্রমাণও মেলে বুরোফ্যাক্স সেবায়। যিনি পাঠিয়েছেন পরে যেন তিনি আইনিভাবে প্রমাণ করতে পারেন, বার্তাটি পাঠিয়েছিলেন এবং যাঁর কাছে পাঠানোর কথা সেটি তিনি নির্দিষ্ট তারিখে হাতে পেয়েছেন—এটাই হলো বুরোফ্যাক্সের সুবিধা।

বুরোফ্যাক্স করতে স্প্যানিশ পোস্টাল সার্ভিসকে আগে বার্তাটা ফ্যাক্স করতে হয়। তারা তখন ওই বার্তার প্রত্যয়িত কপি হাতে হাতে প্রাপকের কাছে ডেলিভারি করে থাকে। এরপর বার্তাটি প্রাপকের হাতে দেওয়ার রশিদ পাঠিয়ে থাকে প্রেরকের কাছে। এর মাধ্যমে আদালতে প্রমাণ হিসেবে বার্তা পাঠানোর রশিদ পেশ করতে পারেন প্রেরক। শুধু ইন্টারনেট নয়, স্পেনের পোস্ট অফিসে গিয়েও বুরোফ্যাক্স করা যায়।
এখন প্রশ্ন হলো, মেসি কেন বুরোফ্যাক্স করে ক্লাব ছাড়ার ইচ্ছার কথা জানালেন বার্সাকে?

বিজ্ঞাপন

বার্সায় তাঁর চুক্তিপত্রে একটি শর্ত হলো, মৌসুম শেষে তিনি নিজের ইচ্ছায় ক্লাব ছাড়তে পারবেন। সংবাদমাধ্যমের মতে, গত মৌসুম শেষে তাঁর বার্সা ছাড়ার ইচ্ছার কথা জানানোর শেষ সময় ছিল ৩১ মে। যদিও এই তারিখ একেক সংবাদমাধ্যমে একেকরকম বলা হচ্ছে। এদিকে মেসির আইনজীবির যুক্তি, করোনা ভাইরাসের কারণে এ মৌসুমে মে মাসে লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ শেষ হয়নি। অস্বাভাবিক এক মৌসুমে আগের নিয়ম খাটে না। বরং যে মাসে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে, সেটাকেই চলমান মৌসুমের শেষ মাস ধরতে হবে। যেহেতু বার্সেলোনা আগস্টেও এই মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলেছে, মেসির চুক্তির শর্তের মেয়াদ আগস্টের শেষ অর্থাৎ ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। আর মেসি যেহেতু এর আগেই আইনিপত্রের মাধ্যমে নিজের ক্লাব ছাড়ার কথা জানিয়েছেন, সেহেতু বাধাহীনভাবে ক্লাব ছাড়তে পারবেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

এখন মেসি বুরোফ্যাক্স করে বার্সাকে ক্লাব ছাড়ার কথা কেন জানিয়েছেন তা বুঝে নেওয়টা সহজ। চুক্তির শর্তের ভেতরে থেকেই মেসি যে বার্সা ছাড়ার ইচ্ছার কথা ক্লাবকে জানিয়েছেন, সেটা যেন তিনি আদালতে প্রমাণ করতে পারেন সেজন্যই বুরোফ্যাক্সের দ্বারস্থ হওয়া। মেসি–বার্সা বিচ্ছেদ নিয়ে জটিলতা আদালতে উঠলে আর্জেন্টাইন তারকার আইনজীবি বুরোফ্যাক্সের কাগজ আদালতে পেশ করতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে মেসি নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে দেরিতে বার্তাটা পাঠিয়েছেন, কিংবা বার্তাটি তারা পায়নি—এমন কোনো যুক্তি দিতে পারবে না বার্সা।

মন্তব্য পড়ুন 0