বার্সা থেকে সুয়ারেজের বিদায়টা সুখকর হয়নি।
বার্সা থেকে সুয়ারেজের বিদায়টা সুখকর হয়নি।ছবি : রয়টার্স

গত দশকে বার্সেলোনার সাফল্যের অন্যতম কারিগর ছিলেন লুইস সুয়ারেজ। কিন্তু বার্সার সে দিন কি আর আছে? গত মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে কোয়ার্টারে ৮-২ গোলে হারের পরেই স্পষ্ট হয়ে গেছে, ক্লাব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের চূড়া থেকে বার্সার পতন হয়েছে ভালোভাবেই। বর্তমান বিশ্বে আবারও সবচেয়ে সেরা ক্লাব হওয়ার পথে বার্সেলোনাকে অতিক্রম করতে হবে আরও অনেক পথ। সে যাত্রায় বিদায় জানাতে হবে অনেক পুরোনো যোদ্ধাকে, সঙ্গী করতে হবে অনেক নতুন মুখকে।

তবে শীর্ষে ওঠার এই যাত্রায় যেসব পুরোনো যোদ্ধাকে বিদায় জানিয়েছে বার্সা, তাঁদের মধ্যে নিঃসন্দেহে সবচেয়ে বড় নাম লুইস সুয়ারেজ। প্রিয় বন্ধু লিওনেল মেসির সঙ্গে ন্যু ক্যাম্পে খেলতে বরাবরই পছন্দ করতেন সুয়ারেজ। কিন্তু ৮-২ গোলে হারা সে ম্যাচটার পর দলের ভঙ্গুর রক্ষণভাগের পিকে-লংলে কিংবা আলবা-রবের্তো নন, বরং সবার আগে ওই দুই গোলের এক গোল করা সুয়ারেজের ওপরই পড়েছিল ক্লাব ছাড়ার ‘কোপ’। প্রথমে শোনা গিয়েছিল, ক্লাব কর্তৃপক্ষই চাইছে না সুয়ারেজকে। এটাও বলা হচ্ছিল, বার্সার নতুন কোচ রোনাল্ড কোমান নিজেই চাননি সুয়ারেজকে। অবশেষে সুয়ারেজ নিজেই জানিয়েছেন, ঠিক কী কারণে বার্সা থেকে বিদায় নিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

খুব সম্মানের সঙ্গে যে বার্সেলোনা ছেড়েছেন সুয়ারেজ, সেটা মোটেও বলা যাবে না। সুয়ারেজের সর্বশেষ কথাগুলোতেই সেটাই ফুটে উঠেছে। ফ্রান্স ফুটবলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুয়ারেজ জানিয়েছেন, ‘আমি সবচেয়ে বেশি বিরক্ত হয়েছিলাম যখন আমাকে বলা হলো যে শীর্ষ ক্লাবের হয়ে খেলার আর যোগ্যতা নেই আমার। একটা সেরা দলের মূল স্ট্রাইকার হওয়ার যোগ্যতা নেই আমার। আমি বুড়িয়ে গেছি। ব্যাপারটা আমি একদম পছন্দ করিনি।’

default-image

এমন যদি হতো যে সুয়ারেজ নিয়মিত দলে হয়ে খারাপ পারফর্ম করছেন, তা-ও একটা কথা ছিল। আর এই বিষয়ই আরও অবাক করেছে সুয়ারেজকে, ‘তিন-চার মৌসুম ধরে দলের হয়ে বাজে খেলে যাচ্ছি এমন যদি হতো, তাও না হয় বুঝতাম। কিন্তু প্রতি মৌসুমে আমি অন্তত ২০টা করে গোল করেছি। আমার পরিসংখ্যান দেখুন, শুধু লিওর (মেসি) পারফরম্যান্সই আমার চেয়ে ভালো।’

ইঙ্গিতে সুয়ারেজ এটাও বুঝিয়ে দিয়েছেন, বছরের পর বছর ধরে মেসির পাশাপাশি তিনিই নিজের প্রতিভার প্রতি সুবিচার করতে পেরেছিলেন, অন্যরা যেটা পারেননি, ‘আজ আমি বুঝতে পারি, বার্সেলোনার মতো ক্লাবের হয়ে খেলা সহজ কিছু নয়। অনেকেই ক্লাবে এসেছে, তাঁদের প্রতি যেমন প্রত্যাশা ছিল সে প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেছে সামান্যই। কিন্তু আমি? ছয় বছর ধরে খেলে নিজের মান বজায় রাখতে পেরেছি, যা আমার প্রতি ক্লাবটা প্রত্যাশা করেছিল।’

যিনি বার্সাকে এত কিছু দিয়েছেন, বিদায়বেলায় ক্লাবের কাছ থেকে আরেকটু সম্মান তো পেতেই পারতেন, ‘বার্সার অবস্থা এখন আর আগের মতো নেই। ক্লাবের পরিস্থিতি বদলেছে। ক্লাবে অনেক পরিবর্তন দরকার। এটা আমি বুঝি। কিন্তু তাই বলে যেভাবে আমি ক্লাব ছেড়েছি, এটা বেশ বিরক্তিকর। আমি আরেকটু সম্মান পেতেই পারতাম।’

সেই সুয়ারেজই এখন নিজেকে প্রমাণ করার তাগিদে আতলেতিকোয় একের পর এক গোল করে যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৬ গোল করে ফেলেছেন সুয়ারেজ। হয়তো বার্সাকে বুঝিয়ে দিচ্ছেন, তাঁকে ছেড়ে কত বড় ভুল করেছে কাতালানরা!

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন