বুড়ো বললে খুশিই হন রোনালদো

রোনালদো নিজেকে প্রমাণ করবেন ইউনাইটেডে?ছবি: রয়টার্স

এখনো চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা আর স্বাস্থ্যপরীক্ষার অল্প একটু ঝামেলা শেষ হয়নি, সে কারণে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ফেরা এখনো ‘পাকাপাকি’ নয়। তবে স্বাস্থ্যপরীক্ষায় কোনো বড় ত্রুটি দেখা না দিলে রোনালদোর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ফেরা নিয়ে সংশয়েরও কিছু নেই। শুধুই সময়ের ব্যাপার সেটি।

সে সময়ে ফুটবলবিশ্ব তো আর বসে নেই! বরং রোনালদোর ইউনাইটেডে ফেরায় কার লাভ হলো, কার ক্ষতি হলো, রোনালদো কেমন করবেন, রোনালদোকে নিয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কেমন করবে...কত বিশ্লেষণই না চলছে! এর মধ্যে রোনালদোর ৩৬ বছর বয়সটা অনেকের চোখে এই দলবদলে একটা বড় সমস্যা। ৩৬ বছর বয়স মানে তো ফুটবল ক্যারিয়ারের হিসেবে ‘বুড়ো’ই। ক্যারিয়ারের অস্তাচলে এসে রোনালদো ক্লাব বদলে কতটা কী করতে পারবেন, সে নিয়ে সংশয় আছে অনেকের।

তবে ম্যান ইউনাইটেড কোচ উলে গুনার সুলশার বলছেন, এভাবে বুড়ো বলায় রোনালদো বরং খুশিই হচ্ছেন!

রোনালদো এখন ইউনাইটেডের
ছবি: রয়টার্স

কেন, সেটা বুঝতে রোনালদোর ক্যারিয়ারে তাকাতে হবে। সব সময়ই তাঁকে ঘিরে থাকা সব প্রশ্ন, সংশয়কে ভুল প্রমাণ করা রোনালদোর জন্য বড় অনুপ্রেরণা হিসেবেই কাজ করেছে। এবারও তা-ই হবে?

জুভেন্টাস ছেড়ে গত পরশু রোনালদোর ‘ঘরে ফেরা’ নিশ্চিত করেছে ম্যান ইউনাইটেড। দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের এই গল্পে ফুটবলবিশ্ব বুঁদ। প্রশংসা, উচ্ছ্বাসের কমতি নেই! কিন্তু এর পাশাপাশি প্রশ্নও উঠছে, এই ৩৬ বছর বয়সে এসে রোনালদো ইউনাইটেডের তরুণ এই দলের সঙ্গে কতটা খাপ খাইয়ে নিতে পারবেন?

যে প্রিমিয়ার লিগে ইউনাইটেডের জার্সিতে খেলেই তারকা হয়েছিলেন রোনালদো, ২০০৯ সালে রোনালদোর ইউনাইটেড ছেড়ে রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়া আর এবার ইউনাইটেডে ফেরার মধ্যে এই এতগুলো বছর প্রিমিয়ার লিগ তো আরও গতিময় হয়েছে। রোনালদো এই বয়সে এসে সেটির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিতে পারবেন কি না, প্রশ্ন উঠছে।

তবে ইউনাইটেড কোচ সুলশার বরং এসব সংশয়-প্রশ্ন দেখে মজাই পাচ্ছেন। তাঁর চোখে, রোনালদোও এসব দেখে খুশি হবেন।

গতকাল প্রিমিয়ার লিগে উলভারহ্যাম্পটনের বিপক্ষে ১-০ গোলে জিতেছে ইউনাইটেড। ম্যাচের পর স্কাই স্পোর্টসে সুলশার বললেন, ‘আশা করি ক্রিস্টিয়ানো দলে এসে ক্যারিয়ারজুড়ে যেটা করে গেছে, সেটা করে দেখাতে পারবে। এখানে (ইউনাইটেড) সর্বশেষ বার যখন ছিল, তার চেয়ে এখন ও আরও অনেক বেশি অভিজ্ঞ। খেলোয়াড় হিসেবে আরও অনেক কিছু বুঝতে শিখেছে। অবিশ্বাস্য ক্যারিয়ার ওর। আমি নিশ্চিত ওর বুড়ো হয়ে যাওয়া নিয়ে যত কথা হচ্ছে, সেটাতে ও আরও বেশি মজা পাচ্ছে। এসবকে ও গায়ে মাখাবে, এরপর ঠিকই দেখাবে ও কী করতে পারে!'

রোনালদো দলবদলের বাকি আনুষ্ঠানিকতা সারতে সুলশারেরও তর সইছে না, ‘আশা করি আমরা কাগজপত্রের বাকি কাজগুলো শিগগিরই শেষ করতে পারব, এরপর ওর ইউনাইটেডে ফেরার চূড়ান্ত ঘোষণা দিতে পারব। ও অসাধারণ একজন খেলোয়াড়, অসাধারণ একজন মানুষ। এই দলটাকে ঘষেমেজে তৈরি করতে আমার অনেক ভালো লাগে, ও এই দলে সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছু যোগ করবে। আমার মনে হয় দলের সবাই-ই কাগজপত্রের কাজ শেষ করে ওকে দলে পেতে, ওর সঙ্গে কাজ করতে উন্মুখ।’

প্রতিপক্ষের গোলপোস্টের সামনে রোনালদোর মতো ভয়ংকর খুব কম খেলোয়াড়ই আছেন
ছবি: এএফপি

ইউনাইটেডে প্রথম দফায় সব টুর্নামেন্ট মিলিয়ে ২৯২ ম্যাচে ১১৮ গোল করা রোনালদো ২০০৯ সালে রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার পর থেকে প্রতিপক্ষের গোলমুখে আরও ভয়ংকর। ইউনাইটেডে তিনটি লিগ ও একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা রোনালদো রিয়ালে চারটি চ্যাম্পিয়নস লিগের পাশাপাশি জিতেছেন দুটি লিগ শিরোপাও। মাঝে জুভেন্টাস অধ্যায়ে দুটি লিগ জেতা শেষে আবার ইউনাইটেডে ফিরছেন। তবে ইউনাইটেডের জার্সিতে আরেকবার নামতে তাঁকে অপেক্ষায় থাকতেই হচ্ছে।

গতকাল লিগগুলোর খেলা শেষ হতেই খেলোয়াড়েরা চলে গেছেন নিজ নিজ জাতীয় দলে খেলতে। আন্তর্জাতিক বিরতি শেষে ফেরার পর ১১ সেপ্টেম্বর ইউনাইটেডের ম্যাচ নিউক্যাসলের বিপক্ষে। ওল্ড ট্রাফোর্ডে সে ম্যাচেই হতে পারে রোনালদোর ইউনাইটেড পুনরাভিষেক।