মেসির জন্য আলাদা কোনো প্রস্তাব দেবে না বার্সেলোনা।
মেসির জন্য আলাদা কোনো প্রস্তাব দেবে না বার্সেলোনা। ছবি: রয়টার্স

মহাবিপাকে পড়েছে বার্সেলোনা। ক্লাবের মূল দলের অধিকাংশ খেলোয়াড়ের সঙ্গে সম্পর্ক করে ফেলেছিল সদ্য বিদায়ী সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউ ও তাঁর পরিচালকেরা। এমন অবস্থায় খেলোয়াড়দের বেতন স্থগিতের প্রস্তাব পাঠানোয় সেটা প্রত্যাখ্যান করেছেন অধিকাংশ ফুটবলার। এখন বেতন কমানোর চেষ্টা চালাচ্ছে বার্সেলোনা। কিন্তু সে চেষ্টা এখনো সাফল্যের মুখ দেখেনি। মাত্র তিনজন খেলোয়াড় বেতন কমাতে রাজি হয়েছেন।

লিওনেল মেসি-আঁতোয়ান গ্রিজমানরা যদি বেতন কমাতে রাজি না হন, তাহলে জানুয়ারিতে দেউলিয়া হওয়ার শঙ্কায় থাকবে বার্সেলোনা। মাঠে দর্শক ফেরাতে না পারায় ক্লাবকে যেকোনোভাবেই হোক ৩০ কোটি ইউরো খরচ কমিয়ে আনতে হবে। বার্সেলোনার খরচের অধিকাংশ যেহেতু খেলোয়াড়দের বেতনেই ব্যয় হয়, এ খাতেই খরচ কমানোর সর্বোচ্চ সুযোগ তাদের। বেতন কমানো নিয়ে মেসির ক্ষেত্রে কোনো ব্যতিক্রম নিয়ম করার পক্ষে নয় ক্লাব।

বিজ্ঞাপন

এমন নয় যে ক্লাবের প্রয়োজনে এর আগে সাড়া দেননি মেসিরা। করোনার সংক্রমণ শুরু হওয়ার পরই নিজেদের বেতন ৭০ শতাংশ কমিয়ে নিয়েছিলেন মেসিরা। কিন্তু সে সময়ও তাঁদের খেপিয়ে দিয়েছিল ক্লাব। বেতন কতটুকু কমালে ক্লাবের সঙ্গে জড়িত সবার চাকরি বাঁচানো সম্ভব, সেটা বের করার জন্য সময় নিচ্ছিলেন মূল দলে থাকা খেলোয়াড়েরা। কিন্তু কাতালান কিছু পত্রিকার মাধ্যমে ক্লাবের অভ্যন্তরীণ কিছু সূত্র খবর ছড়িয়ে দেয়, করোনাতেও বেতন কমাতে রাজি নন মেসিরা! এভাবে অপপ্রচার করে খেলোয়াড়দের সম্মান নষ্ট করায় এর কড়া জবাব দিয়েছিলেন মেসি ও লুইস সুয়ারেজ।

সময় যত এগিয়েছে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। বার্তোমেউদের বিদায়ের আগে মেসি ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে ছাড়েনি ক্লাব। ওদিকে অনিচ্ছা সত্ত্বেও বার্সা ক্যারিয়ারে যতি টানতে হয়েছে তাঁর প্রিয় দুই বন্ধু সুয়ারেজ ও আর্তুরো ভিদালকে। বার্সেলোনার সঙ্গে মেসির চুক্তির আর মাত্র ৮ মাস বাকি। এমন অবস্থায় মেসিকে বেতন কমানোয় রাজি করানোটা বেশ কঠিন। এই বৃহস্পতিবারের মধ্যে স্কোয়াডের সবার বেতন কমানোর চেষ্টা করতে হবে বার্সেলোনাকে। এত কম সময়ের মধ্যে মেসিদের রাজি করানোর জন্য বিভিন্ন উপায় খুঁজে দেখছে ক্লাব।

মেসির ক্ষেত্রে অন্য কোনো প্রস্তাব দেওয়া হবে—এমন কিছুই ভাবছিল স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম। কিন্তু ক্লাবের পরিচালনা কমিটির প্রধানের দায়িত্বে থাকা কার্লেস তুসকেতস জানিয়ে দিয়েছেন, মেসিকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার ভাবনা নেই তাঁদের, ‘আমার ধারণা, আমরা ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারব। আমার মনে হচ্ছে, সবার মধ্যে সে ইচ্ছা দেখা যাচ্ছে। আমরা কারও কাছ থেকে টাকা কেড়ে নিতে চাইছি না; শুধু চাইছি আপাতত বেতনটা একটু সমন্বয় করে নিতে। যাতে যখন সম্ভব হয়, তখন সেটা ফিরিয়ে দিতে পারি। বর্তমান পরিস্থিতিতে এটাই সেরা সমাধান। কিন্তু শুধু মেসির জন্য ভিন্ন একটা প্রস্তাব দিতে পারি না। একই ধরনের চুক্তির ক্ষেত্রে হয়তো ভিন্ন গঠনের প্রস্তাব করা যেতে পারে। কিন্তু প্রত্যেক খেলোয়াড়ের জন্য ভিন্ন প্রস্তাব বানাব না আমরা।’

তুসকেতস অবশ্য বার্সেলোনা–সমর্থকদের আশার কথা শুনিয়েছেন। এ মৌসুমে সম্ভাব্য ক্ষতির মুখে পড়া বার্সেলোনাকে আবার উদ্ধার করতে নাকি রাজি হতেও পারেন মেসি, ‘আমরা সব স্টাফ ও কর্মকর্তার সমস্যার সমাধান করতে চাই। আশা করি, সবাইকে সন্তুষ্ট করার মতো কিছু করতে পারব। আমরা জানি, ক্লাবের আয় এবার ৩০ কোটি ইউরো কম হবে, যদি স্টেডিয়াম খুলতে না পারি। স্টেডিয়াম খোলা গেলেও তো সেটা পুরোপুরি পূর্ণ করা সম্ভব নয়। আমি বিস্তারিত কিছু বলতে চাই না মেসির ব্যাপারে। কারণ, আমাদের আগে দর-কষাকষি শেষ করতে হবে। তবে এটুকু বলতে পারি যে মেসি ও তাঁর প্রতিনিধির পক্ষ থেকে আগ্রহ দেখতে পেয়েছি।’

বিজ্ঞাপন
default-image

ইউরোপে বেতনের পেছনে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করে বার্সেলোনা। ক্লাবকে এ বিষয় নিয়ে নতুন করে ভাবতে বলেছেন তুসকেতস। ভবিষ্যতে দল গঠনের সময় এ দিকটা মাথায় থাকবে বলেই জানিয়েছেন, ‘ইউরোপে বার্সেলোনাই বেতনে সবচেয়ে বেশি খরচ করে, এটা লুকানোর কিছু নয়। কিন্তু আমি এখন ভবিষ্যতে নজর দিতে চাই। আজ আমি টেকনিক্যাল পরিচালক রামোন প্লেনেস, কোচ কোমান ও প্রধান নির্বাহী অস্কার গ্রাউর সঙ্গে দেখা করেছি। দলে তরুণ খেলোয়াড়দের ওপর বিশ্বাস রাখায় আমি তাদের অভিনন্দন জানিয়েছি। সবার এ সাহস থাকে না। বেতনের দিক থেকে আমরা সবার ওপরে আছি। ক্লাবের বাজেটের ৭০ ভাগ এখানেই ব্যয় হয়। এটা অনেক বেশি, কিন্তু আমরা এ নিয়ে কাজ করছি।’

মন্তব্য পড়ুন 0