মূল একাদশে না থাকতেই পারেন, তাই বলে মাঠে নামাই হতো না, এমন দাবি করাটা বাড়াবাড়ি মনে হতে পারে। কিন্তু কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাঁর পরিচিত ছন্দে রিয়ালকে সামলাচ্ছেন। নিজের পছন্দের একাদশকেই টানা খেলিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে তাঁর বিরুদ্ধে যে সমালোচনা, সে দোষে এবারও দুষ্ট তিনি। ত্রিশের ভুল দিকে থাকা লুকা মদরিচ আর করিম বেনজেমাকে টানা খেলিয়ে যাচ্ছেন। মাঝমাঠে নিষেধাজ্ঞার সীমায় থাকা কাসেমিরো কিংবা রক্ষণে ডেভিড আলাবারও কোনো বিশ্রাম মিলছে না। তিন দিন পরপরই মাঠে নামার খেসারত বেনজেমা কাল দিয়েছেন। সোসিয়েদাদের মাঠে মাত্র ১৭ মিনিটে মাংসপেশির টানে মাঠ ছেড়েছেন লিগে এখন পর্যন্ত ১২ গোল করা বেনজেমা।

যে ফর্ম দেখে ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে ২০১৯ সালে ইয়োভিচকে কিনে এনেছিল রিয়াল, তার ছিটেফোঁটাও দেখাতে পারেননি গত আড়াই মৌসুমে। গতকালের আগে লিগে ১৫ ম্যাচে খেলেছেন মাত্র ৭১ মিনিট। গত ৬ ম্যাচের পাঁচটিতেই বেঞ্চে ছিলেন। অন্য যে ম্যাচে বদলি নেমেছিলেন, তাতে খেলার সুযোগ মিলেছিল মাত্র ১১ মিনিট। এ মৌসুম শেষে রিয়াল রীতিমতো ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে সেল’ দিয়ে যে খেলোয়াড়দের ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, তাঁদের একজন ইয়োভিচ।

কাল ১৮ মিনিটে তাই ইয়োভিচের মাঠে নামায় চোখ কপালে উঠে গিয়েছিল অনেকের। এ মৌসুমে এর আগেও এক ম্যাচে চোটের কারণে খেলেননি বেনজেমা। এলচের বিপক্ষে সে ম্যাচে একাদশে জায়গা হয়নি তাঁর। ক্লাবের ইচ্ছার বিরুদ্ধে থেকে যাওয়া মারিয়ানো খেলেছেন সে ম্যাচে। ইয়োভিচকে এমনকি বদলি হিসেবেও নামানো হয়নি। কালও আনচেলত্তি মারিয়ানোকে বেছে নিলে কেউ অবাক হতেন না।

কিন্তু আনচেলত্তি ইয়োভিচকেই সুযোগ দিয়েছেন। কারণ, তাঁর মনে হয়েছে, ‘ইয়োভিচ একজন ভালো স্ট্রাইকার, মারিয়ানোও ভালো স্ট্রাইকার। করিমের সঙ্গে ওদের খেলার ধরন ভিন্ন। কিন্তু ইয়োভিচ শক্তিশালী স্ট্রাইকার এবং বল ধরে রাখতে জানে। ওয়ান-টু খেলতে জানে।’

কাল প্রথম গোলে ইয়োভিচ নিজের সে দক্ষতাই দেখিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে ওয়ান-টু করেই ৪৭ মিনিটে গোল করেছেন ভিনিসিয়ুস। কিন্তু রিয়াল তো তাঁকে কিনেছে আরেকটি কারণে। বক্সের মধ্যে নিখুঁত শিকারির মতো গোল খুঁজে নিতে পারতেন ফ্রাঙ্কফুর্টে। গোলের সময় ঠিকই নিজেকে আদর্শ জায়গায় নিয়ে যাওয়ার সে ক্ষমতাটা কাল আবার দেখাতে পেরেছেন ৫৭ মিনিটে। টনি ক্রুসের কর্নার যেখানে এসেছিল সেখানে ছিলেন না ইয়োভিচ। হেড নিতে লাফিয়ে ওঠা কাসেমিরো বলটা লক্ষ্যে রাখলেও তাতে গোল হওয়ার মতো জোর ছিল না।

হেড থেকে বলটা পড়েছিল সোসিয়েদাদ গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডারদের মাঝের ‘নো ম্যানস ল্যান্ডে’। কিন্তু পাকা শিকারির মতো ইয়োভিচ ঠিকই ঝাঁপিয়ে পড়লেন। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের বাড়িয়ে দেওয়া পায়ের সামনে ঝাঁপিয়ে হেড করে বল জালে পাঠালেন। আনচেলত্তি তাই ইয়োভিচকে নামানোর কারণ দেখাতে পারছেন, ‘ভিনিসিয়ুস গোলটা ছিল ইয়োভিচের সত্যিকারের (ওয়ান-টু দক্ষতার) উদাহরণ। চমৎকার একটা গোলে সহায়তা ছিল এটা। এরপর তো নিজের গোলও পেল। সত্যিকারের পেনাল্টি বক্স স্ট্রাইকারের গোল। ওকে অভিনন্দন জানাই কারণ নিয়মিত না খেলার পর হঠাৎ এমন সুযোগ পেলে কাজটা করা কঠিন।’

রিয়াল স্কোয়াডে ইয়োভিচের সঙ্গে সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক লুকা মদরিচের। ম্যাচের দুই দিন আগে নিজের ‘মিতা’র সঙ্গে সার্বিয়া ও ক্রোয়েশিয়ার মধ্যকার ডেভিস কাপের ম্যাচও দেখতে গিয়েছিলেন ইয়োভিচ। কাল সার্বিয়ান স্ট্রাইকারের গোল পাওয়ায় তাই খুবই খুশি রিয়াল মিডফিল্ডার। তাঁর ধারণা কালকের পারফরম্যান্সে নিজের দক্ষতার কথা মনে করিয়ে দিতে পেরেছেন ইয়োভিচ, ‘সে খুবই ভালো পারফরম্যান্স করেছে। অনেক দিন না খেলার পরও একটা গোল বানিয়ে দিয়েছে এবং গোল করেছে। সে দেখিয়ে দিয়েছে তার ওপর আস্থা রাখতে পারি। ওর পারফরম্যান্স ও গোলে খুবই খুশি আমরা।’

চোটে পড়ায় আগামী মঙ্গলবার ইন্টার মিলানের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে থাকবেন না বেনজেমা। সেদিনও আস্থার প্রতিদান রাখতে পারলেই মাদ্রিদ ক্যারিয়ারটা হয়তো বাঁচাতে পারবেন ২৩ বছর বয়সী স্ট্রাইকার। তাহলে হয়তো পরের সপ্তাহে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে বেনজেমাকে পেতে এত উদ্‌গ্রীব শোনাবে না আনচেলত্তিকে।