শেষ ষোলোতে পিএসজির মাঠে গোল পাননি। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে চেলসির মাঠে হ্যাটট্রিক করেছেন বেনজেমা, এরপর কাল সিটির মাঠে তাঁর দুই গোলই রিয়ালের ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে। রিয়াল হেরেছে, তবে হারের ব্যবধানটা ৪-৩ গোলের। প্রতিপক্ষ যতই গার্দিওলার সিটি হোক, নিজেদের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে এই ফলটা পাল্টে রিয়াল ফাইনালে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে না, এমন দাবি করতে যে কারওই বুক কাঁপবে! টুর্নামেন্টটা যে চ্যাম্পিয়নস লিগ, আর দলটা যে রিয়াল মাদ্রিদ।

বেনজেমার মতো বড় মঞ্চে জ্বলে ওঠার কীর্তি এই মুহূর্তে আর কারও নেই, তাঁর মতো আত্মবিশ্বাসও সম্ভবত এই মুহূর্তে খুঁজে পাওয়া যাবে না। কাল সিটির বিপক্ষে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলেই যে আত্মবিশ্বাসটা ফুটে উঠেছে।

তা-ও আত্মবিশ্বাসের স্বাক্ষর রেখেছেন কোন অবস্থায়! গত এক মাসে তিনটি পেনাল্টি মিস করেছেন, তার মধ্যে দুটি রিয়ালের সর্বশেষ ম্যাচে—লিগে ওসাসুনার বিপক্ষে। এমন অবস্থায় চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে ম্যানচেস্টার সিটির মতো দলের বিপক্ষে পেনাল্টিতে দায়িত্বটা তাঁর উপরই পড়েছে। আগের রেকর্ড মনে রেখে কী করা উচিত ছিল বেনজেমার?

default-image

অন্য অনেকে হয়তো পেনাল্টিটা নিতেনই না! যাঁরা নিতেন, তাঁরা হয়তো মৌলিক কাজটা ঠিক রেখে ঝুঁকিহীন শটই নেওয়ার চেষ্টা করতেন। কিন্তু এই মৌসুমের বেনজেমা যে অন্য ধাতুতে গড়া! পেনাল্টিটা যখন নিতে যাচ্ছেন, নিজেদের মাঠ ইতিহাদে ম্যানচেস্টার সিটি ৪-২ গোলে এগিয়ে। এবারও পেনাল্টি মিস হলে দ্বিতীয় লেগের আগে বেকায়দায়ই থাকত রিয়াল। কিন্তু চরম এই চাপের মুখেই বেনজেমা নিলেন পানেনকা পেনাল্টি!

আলতো চিপে গোলকিপারকে ফাঁকি দিয়ে বল জালে। দেখে ২০০৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে ইতালির বিপক্ষে জিনেদিন জিদানের পেনাল্টির কথাই হয়তো মনে পড়েছে অনেকের। কীভাবে ওই পেনাল্টি নেওয়ার কথা মাথায় এল? আগের ম্যাচের মিসের কথা ভয় হয়ে মনে কাজ করেনি?

বেনজেমার উত্তরে আত্মবিশ্বাসের স্ফুরণ, ‘আমার মাথায় সব সময় এটা থাকে যে, আপনি পেনাল্টি নিলে পেনাল্টি মিস করতেই পারেন। এটা আত্মবিশ্বাসের ব্যাপার, আর কিছু না। নিজের ওপর আমার বিশ্বাস অনেক। সেই আত্মবিশ্বাসের জোরেই ওটা করেছি (পানেনকা পেনাল্টি নেওয়া), শেষ পর্যন্ত তো ভালোই হলো।’

এই মৌসুমে বেনজেমার সবকিছুই যেন ভালো হওয়ার পণই নিয়েছে। কালকের ম্যাচটিতে একটা মাইলফলকও ছোঁয়া হয়ে গেছে ফরাসি স্ট্রাইকারের। ম্যাচটি ছিল রিয়ালের জার্সিতে বেনজেমার ৬০০তম। মাদ্রিদের তো বটেই, ইউরোপেরই কূলীনতম ক্লাবটির জার্সিতে ৬০০ বা তার বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড এর আগে ছিল মাত্র ৬ জনের। শীর্ষে থাকা রাউলের ৭৪১ ম্যাচের রেকর্ড পেরোনো অবশ্য একটু কঠিনই হবে বেনজেমার জন্য। বয়স যে ৩৪ চলছে!

তাঁর ফর্ম অবশ্য বয়সের ভারের কথা মনেই হতে দিচ্ছে না। দুরন্ত গতিতে ছুটে চলা বেনজেমা আরেকটা রেকর্ডে রিয়াল কিংবদন্তি রাউলকে পেরোনোর আরও কাছে চলে এসেছেন। কালকের দুই গোলে রিয়ালের জার্সিতে তাঁর গোল হয়েছে ৩২০টি, রাউলের গোল ৩২৩টি। রাউলকে পেরোলেও রিয়ালের জার্সিতে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড অবশ্য গড়া হবে না বেনজেমার, রাউলকে পেরিয়ে শুধু তালিকার দুই নম্বরেই আসতে পারবেন। শীর্ষে কে? কে আবার, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তাঁর গোল ৪৫০টি!

তবে সে তালিকায় শীর্ষে না যাওয়া হোক, কাল দুই গোল করে এই মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকার শীর্ষে চলে গেছেন বেনজেমা। মৌসুমে তাঁর গোল হলো ১৪টি, পেরিয়ে গেছেন রবার্ট লেভানডফস্কিকে (১৩ গোল)। লেভার বায়ার্ন এরই মধ্যে চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বাদ পড়েছে। তা বেনজেমার শীর্ষে থাকা ঝুঁকির মধ্যে তো ফেলতে পারেন এমন কেউ, যাঁর দল চ্যাম্পিয়নস লিগে আছে। সে হিসেবে শুধু লিভারপুলের মো সালাহর নামই আসতে পারে, কিন্তু তাঁর গোলও মাত্র ৮টি!

অবিশ্বাস্য ছন্দে ছুটে চলা বেনজেমার কালকের দুই গোল নিয়ে মৌসুমে গোল হলো ৪১ ম্যাচে ৪১টি। এতেও ক্লাবের কিংবদন্তিদের ছোট্ট একটা তালিকায় ঢুকে গেছেন বেনজেমা। রিয়ালের ইতিহাসে এক মৌসুমে ৪০ বা তার বেশি গোলের রেকর্ড এর আগে ছিল শুধু ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, ফেরেঙ্ক পুসকাস, আলফ্রেডো ডি স্টেফানো ও উগো সানচেজের।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন