প্রতিপক্ষের মাঠে স্বাগতিক সমর্থকদের রোষের শিকার হওয়া ফুটবলে নতুন কিছু নয়। এই তো কিছুদিন আগে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে মিসর-সেনেগাল ম্যাচে মোহাম্মাদ সালাহদের ওপর লেজার মেরে তাঁদের অসুবিধার সৃষ্টি করেছিলেন সেনেগালের সমর্থকেরা।

বেনফিকার মাঠেও সালাহদের ঠিক লেজার দিয়ে উত্ত্যক্ত করা না হলেও সেখানে ছিল অনেক কিছুই। এমনকি বেনফিকার সমর্থকেরা সালাহ-মানে-দিয়াজ-রাবাটসনদের দিকে ছুড়েছেন লাইটারও।

তাতে লিভারপুলের জয় অবশ্য আটকানো যায়নি। কোয়ার্টার ফাইনাল প্রথম লেগ ৩-১ গোলে জিতে সেমিফাইনালের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেছে ইংলিশ ক্লাবটি।

বেনফিকার সমর্থকদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়া থেকে অল্পের জন্য বেঁচে যান লুইস দিয়াজ। ম্যাচের ৮৭ মিনিটে লিভারপুলের এই কলম্বিয়ান উইঙ্গার গোল করার পর তাঁকে নিশানা করেছিলেন স্বাগতিক সমর্থকেরা।

ম্যাচ শেষে রবার্টসন জানালেন, কর্নার নিতে গিয়ে তিনিও আরেকটু হলে আঘাত পেতে পারতেন। লাইটার ছুড়ে মারা হয় তাঁর দিকে। রসিক রবার্টসন বিষয়টিকে হালকা করতে মজাই করলেন, ‘(কর্নার নিতে গিয়ে) আমার প্রতি বেশ কয়েকটি লাইটার ছুড়ে মারা হয়। এটা তাদের ধূমপান ছাড়তে সাহায্য করবে—আমি ইতিবাচক দৃষ্টিতেই দেখছি। তবে মাঠে কোনো কিছু ছুড়ে মারা উচিত নয়, যে কেউ তাতে আঘাত পেতে পারেন।’

পোর্তোর সাবেক উইঙ্গার সাদিও মানেকে দিয়ে গোল করানোর পাশাপাশি নিজেও গোল করেন লুইস দিয়াজ। পর্তুগালের ঘরোয়া ফুটবলে পোর্তো-বেনফিকা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী, তাই খুব স্বাভাবিকভাবেই দিয়াজের ওপর রোষ মিটিয়েছেন বেনফিকার সমর্থকেরা।

কিন্তু দিয়াজ যেভাবে পরিস্থিতি সামলেছেন, গোল করেছেন, সেসব নিয়েও মজা করলেন রবার্টসন, ‘শুরুতে সে বেশ ভালো অভ্যর্থনা পেয়েছে। ভালো একটা গোল করেছে, আমরাও দুই গোল ব্যবধানে এগিয়ে আছি। আশা করি, কাজটা শেষ করতে পারব।’

ফিরতি লেগ এখনো বাকি। ১৪ এপ্রিল লিভারপুলের মাঠে নামবে বেনফিকা। সেদিন পর্তুগিজ ক্লাবটির খেলোয়াড়দের জন্য লিভারপুলের সমর্থকেরা কী কী প্রস্তুতি নিয়ে রাখবেন, সেটাই হবে দেখার বিষয়।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন