ওয়েলশ জাতীয় দলের অনুশীলনে গ্যারেথ বেল
ওয়েলশ জাতীয় দলের অনুশীলনে গ্যারেথ বেল ছবি: এএফপি

রিয়াল মাদ্রিদে গত এক মৌসুম ধরে প্রায় ব্রাত্য হয়ে আছেন গ্যারেথ বেল। নিয়মিত মাঠে নামার সুযোগ পাননি তবে রিয়ালে নিয়মিত হওয়ার ইচ্ছাটা এখনো আছে ওয়েলশ ফরোয়ার্ডের।

তবে রিয়াল কোচ জিনেদিন জিদান তাঁকে ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন গত মৌসুমেই। কিন্তু রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ তাঁকে বিনা পয়সায় ছাড়তে রাজি হননি। হাজার হোক, এক সময় তো বেলকে রেকর্ড গড়েই মাদ্রিদে এনেছিলেন পেরেজ। এই পরিস্থিতিতে দলবদলের ভারটা রিয়ালের ওপরই ছেড়ে দিয়েছিলেন বেল। আর রিয়াল এদিকে ভাবছে বেলকে কী করে ছাড়া যায়।

বিজ্ঞাপন

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘দেপোর্তোস কুয়াত্রো’ সান্তিয়াগো বার্নাব্যু অফিস থেকে একটি খবর বের করেছে। বেলকে বার্নাব্যু থেকে ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে সাহায্য করতে চায় রিয়াল। ক্লাবটিতে তাঁর চুক্তির মেয়াদ ফুরোতে এখনো দুই বছর বাকি। ২০২২ সালে মেয়াদ ফুরোবে রিয়ালের সঙ্গে বেলের চুক্তির।

এদিকে ওয়েলশ তারকা গো ধরে আছেন দরকার হলে দুই মৌসুম বসে থাকবেন তবু স্বেচ্ছায় রিয়াল ছাড়বেন না। কারণ তাঁর চোখে, ক্লাব ছাড়ার ব্যাপারে রিয়ালই পরিস্থিতি জটিল করেছে। এর আগে চাইনিজ ক্লাব থেকে বেলের জন্য আসা প্রস্তাব রিয়ালই নাকচ করেছে। এখন বেল বেঁকে বসায় বাধ্য হয়ে তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক কাটাকাটি করার পথ খুঁজতে হচ্ছে লা লিগা চ্যাম্পিয়নদের। দেপোর্তোস কুয়াত্রো জানিয়েছে, বেলের চুক্তির বাকি দুই বছরের বেতনটা আগেভাগেই দিয়ে দিতে চায় রিয়াল। তাতে ফ্রি এজেন্ট হিসেবে ক্লাবের সঙ্গে সম্পর্ক চুকিয়ে অন্য পথ ধরতে পারবেন বেল।

বিজ্ঞাপন
default-image

বেলের এজেন্ট জোনাথন বার্নেট বেশ আগেই জানিয়ে দিয়েছেন, দরকার হলে দুই মৌসুম বসে থাকবেন তবু রিয়াল ছাড়বেন না তাঁর খেলোয়াড়। এদিকে রিয়াল চাচ্ছে বার্নেটের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসতে। দুই বছরে বেলের যে বেতন তা কথা বলে কমাতে চায় রিয়াল। এমনিতে বেলকে দুই বছরের অগ্রিম বেতন দিতে চাইলে রিয়ালের খরচ হবে প্রায় ৩ কোটি ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা)।

এদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘টেলিগ্রাফ’ অবশ্য অন্য তথ্য দিয়েছে। বেলের মোট পারিশ্রমিকের অর্ধেক আগাম দিয়ে তাঁকে ছাড়তে চায় রিয়াল। সে যাই হোক, রিয়াল বেলকে ছাড়ার ব্যবস্থা করলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও টটেনহাম হটস্পারের খুশি হওয়ার কথা। ৩১ বছর বয়সী এ উইঙ্গারকে কিনতে আগ্রহী এ দুটি দল। টটেনহামে খেলেই ইউরোপে নিজের জাত চিনিয়েছিলেন বেল।

বিজ্ঞাপন

গত মৌসুমে চীনের ক্লাব জিয়াংসু সুনিং কিনতে চেয়েছিল বেলকে ফ্রি-তে। রাজি হননি রিয়াল সভাপতি পেরেজ। গত মৌসুমের প্রায় বেশির ভাগ সময়ই বেঞ্চে বসে কাটিয়েছেন বেল। এবারও তেমন কিছু ঘটতে পারে যদি মাদ্রিদ ছাড়তে না পারেন বেল। নেশনস কাপে দেশের হয়ে খেলার পর কাল রিয়ালের অনুশীলনে ছিলেন না তিনি। করোনা বিরতির পর ১২ ম্যাচে মোটে ১০০ মিনিট মাঠে ছিলেন বেল। লিগের শেষ সাত ম্যাচে তো নামাই হয়নি তাঁর। বেল নিজে বেতন কমাতে রাজি নন, সে জন্য রিয়ালে আগামী দুই মৌসুম বসে কাটাতেও খুব একটা আপত্তি দেখাচ্ছেন না তিনি।

মন্তব্য পড়ুন 0