ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার নিক্সনের গোলের উচ্ছ্বাস।
ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার নিক্সনের গোলের উচ্ছ্বাস। ছবি: প্রথম আলো

৬ জানুয়ারি, ফেডারেশন কাপের সেমিফাইনাল। সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব ৩-০ চট্টগ্রাম আবাহনী।

২৪ জানুয়ারি, প্রিমিয়ার লিগ। সাইফ স্পোর্টিং ০-১ চট্টগ্রাম আবাহনী।

প্রায় তিন সপ্তাহের ব্যবধানে দুই দলের মধ্যকার ম্যাচের ফলাফল। মাসের প্রথম সপ্তাহে যে সাইফ স্পোর্টিং ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল চট্টগ্রাম আবাহনীকে, আজ তারা গোল তো দূরের কথা, কোনো সুযোগই তৈরি করতে পারেনি। উল্টো হেরেছে ১-০ গোলে।

ফুটবলে এ রকম অহরহ হয়। তবে ১৮ দিনের ব্যবধানে দুটি ম্যাচের মধ্যে আজ সম্ভবত সবচেয়ে বড় পার্থক্য এই যে আজ পূর্ণশক্তি নিয়ে মাঠে নামতে পেরেছিলেন চট্টগ্রাম আবাহনীর কোচ মারুফুল হক। কথাটি এভাবেও বলা যায়, আজ মারুফুলের হাতে নিক্সন ছিলেন।

নিক্সন, মানে নিক্সন গিয়াহামে। চট্টগ্রাম আবাহনীর ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার। তিন সপ্তাহ আগের ম্যাচটিতে চোটের কারণে চট্টগ্রাম আবাহনীর একাদশে ছিলেন না নিক্সন। এ ছাড়া নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড চিনেদু ম্যাথিউ সবে ফিরেছিলেন করোনা থেকে সুস্থ হয়ে। আজ নিক্সনের সঙ্গে করোনা ধকল কাটিয়ে ফিরেছেন ম্যাথিউও। এতেই বদলে গেছে দল, বদল ফলাফলেও। ম্যাচের মীমাংসা করে দিয়েছেন নিক্সনই। টানা দুই ম্যাচে দুই গোল করলেন এই ব্রাজিলিয়ান।

বিজ্ঞাপন

আগের ম্যাচে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের বিপক্ষে ১-০ গোলে জয়ের ম্যাচে নিক্সন দেখিয়েছিলেন বলের ওপর ব্রাজিলিয়ানসুলভ নিয়ন্ত্রণ ও দুর্দান্ত সাইড ভলি। আজ দেখালেন হেডেও গোল করতে জুড়ি নেই তাঁর। ২৪ মিনিটে রাকিব হোসেনের কর্নার থেকে বক্সের মধ্যে লাফিয়ে উঠে হেডে গোলটি করেন নিক্সন।

default-image

ম্যাচ শেষে দুই ম্যাচের পার্থক্য তুলে ধরতে গিয়ে পুরো ফিট একাদশ পাওয়ার দিকটিই তুলে ধরলেন চট্টগ্রামের ক্লাবটির কোচ মারুফুল, ‘সেদিন ফেডারেশন কাপে নিক্সনকে আমরা পাইনি। ম্যাথিউও ফিট ছিল না। আজ ওরা ফেরায় দলের শক্তি বেড়েছে। ওদের দুজনের মধ্যে বোঝাপড়াটা ভালো। পুরোপুরি ফিট হলে আগের মৌসুমের মতোই দল ভালো অবস্থানে চলে আসবে।’ সর্বশেষ লিগ বাতিল হওয়ার আগে ৬ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে যৌথভাবে টেবিলের শীর্ষে ছিল মারুফুলের দল।

ফেডারেশন কাপের ম্যাচে সাইফের তিন গোলের বাইরেও দুই দলই বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করেছিল। আজ একটি গোল ছাড়া নোটবুকে তোলার মতো কোনো মুভই নেই। প্রথমার্ধে ম্যাচ পুরোপুরি আবাহনীর দখলে। মাঝমাঠে মানিক হোসেন ও চার্লস দিদিয়েরের রাজত্ব। সাইফের ত্রাস নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার ইকেচুকু কেনেথকে ফণা তোলার কোনো সুযোগই দেননি চট্টগ্রাম আবাহনীর দুই সেন্টারব্যাক মনজুরুর রহমান ও পুলাতুভ শুকুর আলি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কেনেথকে তো মাঠ থেকে উঠিয়ে নিতেই বাধ্য হন সাইফের বেলজিয়ান কোচ পল পুট।

কেনেথের নিষ্প্রভ থাকার ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে প্লান ‘বি’-তে গিয়েছিলেন সাইফের কোচ। ম্যাচের ৬২ মিনিটে লেফট উইঙ্গার ফয়সাল আহমেদ ফাহিমকে তুলে মাঠে পাঠানো হয় লেফটব্যাক আবিদ হোসেনকে। এতে লেফটব্যাক হিসেবে খেলতে থাকা ইয়াছিন আরাফাতকে দেওয়া লেফট উইংয়ে খেলার দায়িত্ব। যেহেতু ভালো আক্রমণ করার খ্যাতির সঙ্গে গোল করার ক্যারিশমা আছে ইয়াছিনের। কিন্তু আজ দাঁতে দাঁত চেপে রক্ষণ সামলেছে চট্টগ্রাম আবাহনী। সেই ফাঁক গলে গোলপোস্টের কাছে যাওয়াই দুরূহ হয়ে পড়ে সাইফের জন্য। দলীয় রসায়ন বা ব্যক্তিগত ক্যারিশমা—কোনোটিই দেখাতে পারেননি সাইফের খেলোয়াড়েরা।

ম্যাচের যোগ করা সময়ে ফ্রি-কিক পেয়েছিল সাইফ। কিন্তু পেনাল্টি আর্কের ওপর থেকে নেওয়া ইয়াছিনের শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে বাইরে। দ্বিতীয়ার্ধের শেষের দিকে চট্টগ্রাম আবাহনীর তুলনায় ভালো খেলেছে, সাইফের সান্ত্বনা বলতে এই যা। তিন ম্যাচ খেলে টানা দুই জয়ে চট্টগ্রাম আবাহনীর পয়েন্ট ৬। সমানসংখ্যক ম্যাচে সাইফের পয়েন্ট ৪।

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন