বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

গত ছয় মাসে ইউরোপিয়ান ফুটবলে যাঁর উন্নতি সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে, তিনি ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তিন মৌসুম ধরে যে ফুটবলার ডি-বক্সে ঢুকলেই ঘাবড়ে যেতেন, উল্টোপাল্টা শট নিয়ে বা ভুল পাস দিয়ে আগের সব ভালো কাজ (রক্ষণকে ত্রস্ত করা, গতিতে ডিফেন্ডারদের ছিটকে ফেলা) ভুলিয়ে দিতেন, সেই ভিনিসিয়ুস এবার মৌসুমের প্রথমার্ধেই ১২টি গোল করেছেন। সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৯টি গোল।

ট্রান্সফারমার্কেটের হিসাবে তাই একলাফে দাম পাঁচ কোটি বেড়ে তাঁর দাম হয়েছে ১০ কোটি। কিন্তু সিআইইএস বলছে, ভিনিসিয়ুসের দাম আরও অনেক অনেক বেশি।
সিআইইএসের গবেষণা বলছে, আনুমানিক ১৬ কোটি ৬৪ লাখ ইউরো মূল্য নিয়ে এ মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলার ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। দুই নম্বরে আছেন ম্যানচেস্টার সিটির ইংলিশ ফরোয়ার্ড ফিল ফোডেন (১৫ কোটি ২৬ লাখ), তিনে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের নরওয়েজিয়ান ফরোয়ার্ড আর্লিং হরলান্ড (১৪ কোটি ২৫ লাখ)।

আর যে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে পিএসজি নেইমার ও মেসির চেয়েও বেশি বেতন দিয়ে হলেও ক্লাবে রাখতে চায়, তাঁর মূল্য সিআইইএস বলছে মাত্র ৭ কোটি ১৫ লাখ ইউরো।
এমবাপ্পের এত কম মূল্য দেখে ভ্রু কুঁচকে যেতে পারে। কিন্তু সিআইইএস একজন খেলোয়াড়ের মূল্য বের করতে যে মানদণ্ডগুলো ব্যবহার করে, সেগুলো মাথায় নিলে এটাই বাস্তবতা বলে মেনে নিতে হবে। প্রতিষ্ঠানটি একজন খেলোয়াড়ের বর্তমান মূল্য বের করার জন্য খেলোয়াড়দের মাঠের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনা করে। কিন্তু সেটাই একমাত্র নির্ণায়ক নয়।

পারফরম্যান্সের পাশাপাশি খেলোয়াড়ের বয়স বিবেচনা করা হয়। খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ারে অগ্রগতির ধরন, খেলোয়াড়ের বৈশ্বিক খ্যাতি বিবেচনা করা হয়। দেখা হয় ক্লাবের সঙ্গে ওই খেলোয়াড়ের বর্তমান চুক্তিতে আর কত দিন বাকি। এ ছাড়া কোন ক্লাবে খেলছেন, সেই ক্লাবের আর্থিক অবস্থা কী, নিজ জাতীয় দলে তাঁর অবস্থান দেখা হয়। এমনকি বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতিও হিসাব করা হয়।

default-image

পিএসজির সঙ্গে এমবাপ্পের চুক্তির মাত্র ছয় মাস বাকি আছে। এ কারণেই বিশ্বের ভয়ংকরতম ফরোয়ার্ডদের একজন হয়েও এমবাপ্পে আছেন ৪৮ নম্বরে! সর্বকালের সেরাদের সারিতে নিজেদের নাম উঠিয়ে নেওয়া মেসি-রোনালদো বয়সের কারণে চলে গেছেন ১০০-এর বাইরে। সিআইইএস তালিকাই প্রকাশ করেছে ১০০ জনের। গত কয়েক বছরের ফর্ম ও বয়স হিসাবে নিয়ে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড নেইমারের দাম বলছে মাত্র ৫ কোটি ৬১ লাখ ইউরো, তিনি আছেন তালিকার ৮৩ নম্বরে।

শুধু খেলোয়াড়ের নিজের দিক নয়, তাঁর ক্লাবের অবস্থানও খেলোয়াড়ের দাম ঠিক করে দেয়। যেমন, বয়সের দিক থেকে এবং চুক্তির মেয়াদের দিক থেকে হরলান্ড ও ভিনিসিয়ুসের মধ্যে পার্থক্য করার উপায় নেই। যদিও এ মৌসুমে ম্যাচপ্রতি গোলে বেশ এগিয়ে হরলান্ড। তবু সিআইইএসের চোখে ভিনিসিয়ুস এগিয়ে, কারণ হরলান্ডের ক্লাব ডর্টমুন্ডকে প্রায় প্রতি মৌসুমেই বড় তারকা বিক্রি করতে হয় টিকে থাকার স্বার্থে। ওদিকে ভিনিসিয়ুসের ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ বড় তারকাদের প্রার্থিত ঠিকানা, রিয়ালের তারকা বিক্রির রেকর্ডও নেই। দুইয়ে থাকা ফিল ফোডেনের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটিও যেমন তাঁকে কোনোভাবেই বিক্রি করতে আগ্রহী নয়।

সিআইইএসের তালিকায় ত্রিশোর্ধ্ব মাত্র একজন খেলোয়াড়ই জায়গা পেয়েছেন, তিনি সিটির কেভিন ডি ব্রুইনা। ৫ কোটি ৪৬ লাখ ইউরো দাম নিয়ে এই মিডফিল্ডার নতুন গবেষণায় বিশ্বের ৯১তম দামি ফুটবলার।

অবস্থান অনুযায়ী সবচেয়ে দামি ফুটবলার

ফরোয়ার্ড
ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (রিয়াল মাদ্রিদ) ১৬ কোটি ৬৪ লাখ ইউরো

মিডফিল্ডার
ফ্লোরিয়ান ভিরৎজ (লেভারকুসেন) ১৩ কোটি ৩০ লাখ ইউরো

সেন্টারব্যাক
রুবেন দিয়াজ (ম্যানচেস্টার সিটি) ১২ কোটি ৫ লাখ ইউরো

ফুলব্যাক
আলফনসো ডেভিস (বায়ার্ন মিউনিখ) ১২ কোটি ২৩ লাখ ইউরো

গোলকিপার
জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা (পিএসজি) ৮ কোটি ২০ লাখ ইউরো

চুক্তি শেষ হচ্ছে এমন খেলোয়াড়
কিলিয়ান এমবাপ্পে (পিএসজি) ৭ কোটি ১৫ লাখ ইউরো

৩০ বছরের বেশি এমন খেলোয়াড়
কেভিন ডি ব্রুইনা (ম্যানচেস্টার সিটি) ৫ কোটি ৪৬ লাখ ইউরো

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন