ইংল্যান্ডে খেলা আর্জেন্টিনার চার খেলোয়াড় ইংল্যান্ড থেকে ব্রাজিলে ঢোকার পথে করোনাবিষয়ক বিধিনিষেধ মানেননি, এই অভিযোগে গত সেপ্টেম্বরে ম্যাচে ঢুকে পড়েন আনভিসার কর্মকর্তারা। সে সময়ে করোনা পরিস্থিতি আরও বেশি জটিল ছিল, ইংল্যান্ড ব্রাজিল থেকে কারও তাদের দেশে ঢোকায় কড়াকড়ি আরোপ করার পর ব্রাজিলও পাল্টা দিয়েছে, ইংল্যান্ড থেকে যাওয়া কারও তাদের দেশে ঢোকার ক্ষেত্রে নিয়ম কড়া বানিয়ে দেয়। সেই নিয়মই আর্জেন্টিনার চার খেলোয়াড় ভেঙেছেন বলে অভিযোগ ছিল আনভিসার।

শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি মাঠে গড়ালেও ৭ মিনিটেই আনভিসার কর্মকর্তারা মাঠে ঢোকায় ম্যাচ বন্ধ হয়ে যায়। পরে স্থগিত করা হয়। প্রথমে ফিফার ভাবনা ছিল, যেহেতু ব্রাজিলের মাটিতে হতে যাওয়া ম্যাচটিই পন্ড হয়েছে, তাই ব্রাজিলেই হবে এবারের ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচ। কিন্তু গত সেপ্টেম্বরে যখন ম্যাচটি হওয়ার কথা ছিল, তখন তো ম্যাচটি কোথায় হচ্ছে, এখানে কে জিতল কে হারল সেটির গুরুত্ব অনেক বেশি ছিল। এখন বিশ্বকাপ বাছাইপর্বই শেষ, ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার ভাগ্যও এই ম্যাচের ওপর নির্ভর করছে না, সে কারণেই কি না, ব্রাজিলের বদলে অন্য কোথাও ম্যাচটা নিয়ে যাওয়ার ভাবনাও শোনা যাচ্ছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি বা দুবাইয়ে অথবা বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ কাতারে ম্যাচটি হতে পারে বলে গুঞ্জনের কথা লিখেছে আর্জেন্টাইন দৈনিক টিওয়াইসি স্পোর্ত। আরেকটি বিকল্প হতে পারে অস্ট্রেলিয়া, যেখানে ১১ জুন ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার প্রীতি ম্যাচের টিকিটও বিক্রি শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু ঝামেলাটা হলো, আর্জেন্টিনা ব্রাজিলের সঙ্গে এভাবে পরপর দুটি ম্যাচ খেলতে চাইছে না।

default-image

প্রীতি ম্যাচও তো চাইলেই বাদ দিয়ে দেওয়া যায় না। ফিফার অনুমতি নিয়েই ম্যাচটি আয়োজিত হচ্ছে, সেখানে বিজ্ঞাপন-সম্প্রচারক সংস্থাসহ কোটি টাকার বিনিয়োগ আছে। সেই ম্যাচ বাতিল করতে যাওয়া মানে আইনি ঝামেলা ডেকে আনা। এদিকে ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের সূচি শেষ করতে বাছাইপর্বের এই ম্যাচটিও আয়োজন করতে চায়। ২২ সেপ্টেম্বরে ম্যাচ হওয়া মানে বিশ্বকাপের তখন আর মাস দুয়েকও বাকি থাকবে না। বিশ্বকাপের আগে ছয় মাসের মধ্যে নেইমারদের বিপক্ষে দুবার খেলতে চায় না মেসির আর্জেন্টিনা।

আর্জেন্টিনার যুক্তি, বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেই তারা দক্ষিণ আমেরিকান সব দলের বিপক্ষে দুবার করে খেলেছে, বিশ্বকাপের আগে এই পাঁচ-ছয় মাসে নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার পথে মূলত ইউরোপের দলের বিপক্ষেই খেলতে চায় আর্জেন্টিনা। এরই মধ্যে অনেক ম্যাচের ব্যাপারে কথা এগিয়েও গেছে।

১ জুন ইংল্যান্ডের ফুটবলতীর্থ ওয়েম্বলিতে তো ইতালির বিপক্ষে ম্যাচের দিনক্ষণ ঠিক হয়েই আছে। ইউরো ও কোপা আমেরিকাজয়ী দুই দলের ম্যাচ আয়োজনের ব্যাপারে চুক্তি হয়েছে দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবল ও ইউরোপের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক উয়েফার। ‘লা ফিনালিসিমা’ নামের সেই ম্যাচ প্রথমবার আয়োজিত হচ্ছে ২০২১ কোপা আমেরিকাজয়ী আর্জেন্টিনা আর ২০২১ ইউরোজয়ী ইতালিকে দিয়েই।

default-image

এরপর কাতার বিশ্বকাপের আগ পর্যন্ত আর কোন কোন দলের সঙ্গে খেলবে আর্জেন্টিনা? আর্জেন্টাইন ফুটবলবিষয়ক ওয়েবসাইট মুন্দো আলবিসেলেস্তে জানাচ্ছে, ৬ জুন ইসরায়েলের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলার ব্যাপারে কথাবার্তা অনেকটুকু এগিয়েছে আর্জেন্টিনা।

অস্ট্রেলিয়ায় ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচটি ১১ জুন, কিন্তু বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব আর এই ম্যাচ মিলিয়ে ব্রাজিলের বিপক্ষে বিশ্বকাপের আগে এভাবে দুই ম্যাচে খেলতে আগ্রহী নয় আর্জেন্টিনা। তাছাড়া জুনে মৌসুমের মাঝের বিরতির সময়ে খেলোয়াড়দের যখন ছুটিতে থাকার কথা, তখন ইউরোপ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে ওই ম্যাচ খেলাটা বাড়তি ধকল হবে বলেই মনে হচ্ছে আর্জেন্টিনার দল সংশ্লিষ্টদের।

বিশ্বকাপের আগে মেক্সিকোর সঙ্গে একটা প্রীতি ম্যাচে খেলার কথা ছিল আর্জেন্টিনার, কিন্তু বিশ্বকাপে দুই দলই একই গ্রুপে পড়ার পর সেই ম্যাচ বাতিল করা হয়েছে। সে জায়গায় অন্য কোনো দলের সঙ্গে খেলতে পারে লিওনেল স্কালোনির দল। এর বাইরে আরব ভাষাভাষী একটি দেশের জাতীয় দলের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার খেলার গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে। সেটি সৌদি আরব হবে না, তা নিশ্চিত। বিশ্বকাপে যে সৌদি আরবও আর্জেন্টিনার গ্রুপে!

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন