বিজ্ঞাপন

স্কোরলাইনের এ হিসাব তো সবাই জানেন। কিন্তু সেই হিসাবের ভেতরে পর্দার আড়ালে কিছু একটা যে ঘটেছিল, তা নিয়ে গুঞ্জন চলে এখনো। ফাইনালে উঠে আসার আগপর্যন্ত ৬ ম্যাচে ১৪ গোল করেছিল ব্রাজিল। শুধু গোলের হিসাবে নয়, কাফু, রবার্তো কার্লোস, লিওনার্দো, বেবেতো, এদমুন্দো, ক্লদিও তাফারেল, দেনিলসন, রিভালদো, রোনালদোদের ‘তারার হাট’ নিয়ে বিশ্বসেরা ব্রাজিল টুর্নামেন্টের প্রায় সব ম্যাচেই উপহার দিয়েছিল ‘জোগো বনিতো’—সুন্দর ফুটবল। অথচ বিশ্বসেরা দল এবং বিশ্বসেরা ফুটবলার নিয়েও ব্রাজিল কিনা ফাইনালে স্বাগতিক ফ্রান্সের কাছে স্রেফ উড়ে গেল!

ফাইনালে জোড়া গোল করা জিনেদিন জিদান সে ফাইনালের আগে বিশ্বজুড়ে সেভাবে তারকা ইমেজ পাননি। বিশ্বকাপের এক বছর আগে ইতালি, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও ব্রাজিলকে নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে (আসলে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি) তৃতীয় হয়েছিলেন জিদানরা। স্বয়ং ফরাসিরাই তখন জাতীয় দলকে দুয়ো দিয়েছে। ওদিকে ২২ বছর বয়সী রোনালদো বিশ্বকাপের আগেই দুবার ভেঙেছেন বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলারের রেকর্ড। কিন্তু ফাইনালের আগের রাতে রহস্যজনক কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন রোনালদো, এমন খবরই শোনা যায়। ফাইনালে খেললেও মাঠে ছিলেন তাঁর ছায়া হয়ে। তাই প্রশ্নটা এখনো ওঠে, কী হয়েছিল ব্রাজিলের, কী হয়েছিল রোনালদোর?

default-image

ফুটবল লেখক করণ তেজওয়ানি সে প্রশ্নেরই জবাব খোঁজার চেষ্টা করেছেন। ‘গার্ডিয়ান’ ও ‘দিজ ফুটবল টাইমস’-এ নিয়মিত লেখা তেজওয়ানির ফুটবলে এনার্জি ড্রিংক নিয়ে ‘উইংস অব চেঞ্জ’ বইও প্রশংসা কুড়িয়েছে। তেজওয়ানি ’৯৮ বিশ্বকাপ ফাইনালে ব্রাজিলের সেই হার এবং রোনালদোর রহস্যজনক পারফরম্যান্সের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছেন এক নিবন্ধে।

দিদিয়ের দেশম, লঁরা ব্লা (ফাইনালে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন), ইউরি দিওরকায়েফ, থিয়েরি অঁরি, জিদান, ফাবিয়েন বার্থেজ, এমানুয়েল পেতিতদের নিয়ে ফ্রান্সের দলটা যথেষ্ট ভারসাম্যপূর্ণ ছিল। ব্রাজিল অন্য পাশে ছিল ইতিহাস গড়ার সন্ধিক্ষণে। ইতিহাসের প্রথম দল হিসেবে টানা দুবার (১৯৫৮, ১৯৬২ এরপর ১৯৯৪) বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার পথে ছিল মারিও জাগালোর দল। ফাইনালের আগে রোনালদো ৪ গোল করে ’৯৮ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা। আর বড় মঞ্চেও তত দিনে তিনি ব্রাজিলের ভরসা। ’৯৮ বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে ক্লাব ও দেশের জার্সি মিলিয়ে চার ফাইনালে চার গোল করেছিলেন।

default-image

সে যা–ই হোক, ফিফার কাছে ব্রাজিল কোচের দেওয়া অফিশিয়াল একাদশের তালিকা ছিল এমন—গোলকিপার: তাফারেল, ডিফেন্স: কাফু, আলদাইর, জুনিয়র, রবার্তো কার্লোস। মিডফিল্ড: সিজার সাম্পাই, দুঙ্গা, রিভালদো ও লিওনার্দো, ফরোয়ার্ড: বেবেতো ও এদমুন্দো। এদমুন্দো? রোনালদো নেই! তিরিক্ষি মেজাজের কারণে ‘অ্যানিমেল’খ্যাত স্ট্রাইকার এদমুন্দো খেলবেন বিশ্বকাপ ফাইনালে। অথচ গোটা বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতা রোনালদো নেই!

তোলপাড় সৃষ্টি হতে সময় লাগেনি। ব্রাজিলের এই একাদশে ধাক্কা খেয়েছিল ফুটবল–বিশ্ব। করণ তেজওয়ানির ভাষায়, ‘যেকোনো খেলায় অন্যতম বড় ধাক্কা লাগার মতো ঘটনাগুলোর একটি, সেটাও খেলা শুরুর আগেই।’ পরে খবর বেরোয়, রোনালদো একাদশের হয়েই মাঠে নামবেন। ভুলে তাঁর নামটা বাদ পড়ে গেছে। এরপর ১২ জুলাই ১৯৯৮, খেলা শুরু হলো। ব্রাজিল হারল। আসলে খেলা শুরুর আগেই তারা হেরে বসেছিল, অন্তত শরীরী ভাষায় সেটাই ফুটে উঠেছিল। কেন?

default-image

ঘটনাটিকে দুটি ভাগে ভাগ করেছেন করণ তেজওয়ানি। ১. ফাইনালের আগের পরিস্থিতি। ২. ফাইনাল চলাকালের পরিস্থিতি। দ্বিতীয়টি নিয়ে তেজওয়ানির ব্যাখ্যাটা সহজ—ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ড যেভাবে রক্ষণ সাজিয়েছিল, ফ্রান্স কোচ আইমে জ্যাকে সেভাবে রক্ষণনির্ভর দল সাজান। ব্রাজিল সেট পিসে দুর্বল ছিল আর কর্নার থেকে জিদান যে দুটি গোল করেছিলেন, দুটিতেই ‘আনমার্কড’ ছিলেন। ফ্রান্সের সেই জয় আরও বেশি বাহবা পেত, যদি রোনালদোকে নিয়ে রহস্য সৃষ্টি না হতো; শুরু হলো ময়নাতদন্ত। ফাইনালের আগে দুপুরবেলা খাওয়ার সময় কী ঘটেছিল?

বিশ্রামের আগে রোনালদো তাঁর সতীর্থদের সঙ্গে হোটেলে দুপুরের খাবার খান। রোনালদো ও রবার্তো কার্লোস হোটেলে একই কক্ষে ছিলেন। রবার্তো কার্লোসই প্রথম রোনালদোকে অজ্ঞান হিসেবে আবিষ্কার করেন। কিছুটা ভীত হয়ে তিনি অন্য সব সতীর্থকে ডাক দেন। এদমুন্দো, সিজার সাম্পাইরা ছুটে আসেন। কোচ জাগালো তখনো এ নিয়ে কিছু জানতেন না আর সেই কক্ষে তখন নরক গুলজার পরিস্থিতি—নিবন্ধে লেখেন করণ তেজওয়ানি।

বিকেল পাঁচটার দিকে রোনালদোকে লিঁলাস ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। ব্রাজিল দল যে হোটেলে ছিল, সেখানকার ম্যানেজার পল শ্যাভেলে অবাক করা এক তথ্য দেন। ফাইনাল খেলতে স্তাদে দি ফ্রান্সে ব্রাজিল দল যাওয়ার আগের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি জানান, ‘ব্রাজিল দল সাধারণত কোনো ম্যাচ খেলতে যাওয়ার আগে হোটেল থেকে বেরোনোর সময় পার্টির আমেজে থাকে। কেউ গান গাইছে কিংবা গান শুনছে...। কিন্তু সেদিন (ফাইনাল) ছিল এর উল্টো—পিনপতন নীরবতা সবার মধ্যে, এমনকি বাসেও। খেলোয়াড়দের আমরা যারা ব্যক্তিগতভাবে চিনতাম, তখনই বুঝে যাই ব্রাজিল হেরে গেছে।’

default-image

ফাইনালের কয়েক ঘণ্টা আগে ব্রাজিল কোচ জাগালো রোনালদোকে একাদশের বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি রোনালদোকে বাইরে রেখেই একাদশ জমা দেন। এদিকে ক্লিনিক থেকে খবর আসে, রোনালদো খেলার জন্য শারীরিকভাবে ফিট। সেই ক্লিনিকের চিকিৎসক লিদিও তোলেদো ‘রোনালদো: দ্য জার্নি অব আ জিনিয়াস’ বইয়ের লেখক জেমস মোজলিকে বলেছিলেন, ‘পরীক্ষায় কিছুই ধরা পড়েনি। নিউরোলজিস্ট, কার্ডিওলজিস্ট এবং পরিপূর্ণ ইলেকট্রোগ্রাম ছাড়াও আরও অনেক পরীক্ষা করানো হয়। কিন্তু কিছুই ধরা পড়েনি। রোনালদো ফাইনালে খেলতে চেয়েছিল। আমরা তাকে অপেক্ষা করতে বলে ব্রাজিল দলের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলি। কিন্তু সে (রোনালদো) অনুরোধ করে বলেছিল, “লিদিও, আমি ঠিক আছি। আমাকে প্রয়োজন ব্রাজিলিয়ানদের। এই ম্যাচটা আমার ও সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমাকে খেলতেই হবে।” এরপর সে জাগালোকে বলে, “কোচ, যদি ১২ জন নিয়েও নামতে হয়, তবু খেলব। যা-ই হোক না কেন মাঠে নামব।” তাকে ঠিকঠাকই মনে হচ্ছিল। এরপর আমরা রাজি হই এবং তখন তাকে একাদশে রাখা হয়।’

বাকিটা সবারই জানা। কিন্তু যে প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা, কেন এমন হয়েছিল?

করণ তেজওয়ানির ভাষায়, একটি ধারণা হলো—আগামী বিশ্বকাপে (২০০২) সহজ গ্রুপে পড়া এবং ভবিষ্যতে বিশ্বকাপের আয়োজক হতে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে ব্রাজিলকে ফাইনালটা ছেড়ে দিতে বলা হয়েছিল। মানে ইচ্ছা করে ফাইনালে হেরে যাওয়া আরকি। এ জন্য ব্রাজিল দলকে নাকি দুই মিলিয়ন ডলারও সাধা হয়েছিল। রোনালদো নাকি তা মেনে নিতে পারেননি। এ কারণে একাদশ থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেন। কিন্তু এমন সময় হস্তক্ষেপ করে বসে রোনালদোর স্পনসর ক্রীড়া সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান নাইকি। রোনালদোকে তারা স্পনসর তুলে নেওয়ার হুমকি দেয়, যদিও এসব তথ্য ও দাবি অস্বীকার করা হয়েছে।

default-image

আরেকটি ধারণা করেছেন করণ তেজওয়ানি। রোনালদোর সম্ভবত কোনো গোপন শারীরিক সমস্যা ছিল। সেটি তিনি কখনো প্রকাশ করেননি। ব্রাজিল দলের চিকিৎসকেরাও তা জানতেন না। তাঁদের যুক্তি ছিল, ব্যথানাশক ওষুধে সমস্যা আরও বাড়বে। ফাইনালে ‘জাইলোকেইন’ নামে ব্যথানাশক ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল রোনালদোকে। দুর্ঘটনাক্রমে তা ভুল করে শিরায় প্রয়োগ করা হয়। শুধু তা–ই নয়, ব্রাজিলের ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘ল্যান্স!’ জানিয়েছিল, গোটা টুর্নামেন্টে রোনালদোকে আটটি জাইলোকেইন ইনজেকশন দেওয়া হয়। অথচ এই ইনজেকশন কোনো ক্রীড়াবিদকে ক্যারিয়ারে পাঁচটির বেশি নিতে দেওয়া হয় না। পরে অবশ্যই এ অভিযোগ অস্বীকার করে ব্রাজিল দলের মেডিকেল স্টাফ।

করণ তেজওয়ানি মনে করেন, সম্ভবত সবচেয়ে চমকজাগানিয়া এবং পরিস্থিতি পাল্টে দেওয়ার মতো ধারণাটি হলো, নাইকির হস্তক্ষেপ। ১৯৯৮ বিশ্বকাপ সে সময় ছিল সবচেয়ে প্রচারণা পাওয়া ক্রীড়া ইভেন্ট। দুটি বড় স্পনসর প্রতিষ্ঠান নাইকি ও অ্যাডিডাস প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করেছিল সে সময়। নাইকি তো বহুদিন ধরেই ব্রাজিল দলের সঙ্গে ছিল। রোনালদো ছিলেন তাদের চোখের মণি।

সেই বিশ্বকাপের আগে নাইকির একটি বিজ্ঞাপন ভীষণ জনপ্রিয় হয়েছিল। একটি বিমানবন্দরে রোনালদো, রবার্তো কার্লোস, দেনিলসনদের ফ্রি-স্টাইল ফুটবল খেলা এবং শেষে রোনালদোর গোল করা। সন্দেহাতীতভাবে রোনালদো তখন নাইকির সবচেয়ে বিপণনযোগ্য ক্রীড়া তারকা। কিন্তু ফাইনালের এক দিন পর হুট করেই একটি বিবৃতি দেয় নাইকি, ‘রোনালদোকে খেলাতে ব্রাজিল দলের ওপর নাইকির চাপ দেওয়া নিয়ে যে গুঞ্জন চলছে, তা পুরোপুরি মিথ্যা। রোনালদো ও জাগালো মিলে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিলেন এবং রোনালদো এর যোগ্যও। নাইকি কোনো অবস্থাতেই হস্তক্ষেপ করেনি আর করবেই-বা কেন?’

কিন্তু তদন্ত এখানেই থামেনি। ব্রাজিল জাতীয় দলের সঙ্গে ১৯৯৬ সালে ১০ বছর মেয়াদি ১৬০ মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের স্পনসর চুক্তি সই করেছিল নাইকি। পরে জানা যায়, সেই চুক্তিপত্রে অদ্ভুত কিছু শর্ত ছিল। যেমন ধরুন, প্রীতি ম্যাচেও নিয়মিত একাদশের অন্তত আট খেলোয়াড়কে মাঠে নামাতে হবে। ১৯৯৯ সালে ব্রাজিলের কংগ্রেস সদস্য আলদো রেবেলো এই চুক্তিপত্রের বিশদ শর্ত তদন্তের অনুরোধ করে একটি পিটিশন দাখিল করেন। এক বছর পর তা আদালতে ওঠে। এরপর ১৯৯৮ বিশ্বকাপ ফাইনালে কী ঘটেছিল, তা নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ব্যাখ্যা করতে ডাকা হয় জাগালো, রোনালদো ও এদমুন্দোকে।

default-image

ব্রিটিশ লেখক অ্যালেক্স বেলোজের ‘ফুতবল: ব্রাজিলিয়ান ওয়ে অব লাইফ’ বই অনুযায়ী, রোনালদোর অজ্ঞান হওয়া এবং তাঁর সেই ঘটনা জানার মাঝে তিন ঘণ্টা কী হয়েছিল, সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল জাগালোর কাছে। ব্রাজিল কোচ বলেছিলেন, ‘সবাই মিলে দুপুরের খাবার খেয়ে আমরা নিজ নিজ কক্ষে চলে যাই...। বিকেল পাঁচটায় ঘুম থেকে ওঠার পর রোনালদোর জ্ঞান হারানো সম্পর্কে জানতে পারি।’ জাগালো আরও জানান, রোনালদোকে ক্লিনিকে নেওয়া হয় এবং তিনি স্তাদে দি ফ্রান্সে চলে যান। ম্যাচের ৪০ মিনিট আগে রোনালদো তাঁকে জানান, তিনি খেলতে পারবেন। এরপর তাঁকে একাদশে নেওয়া হয়। হারের কারণ হিসেবে জাগালোর যুক্তি ছিল, রোনালদোর অসুস্থতায় দলীয়ভাবে যে ভীতির সঞ্চার হয়েছিল, সেটাই মূল কারণ। ম্যাচের বিরতিতেও নাকি তিনি রোনালদোর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছেন।

রোনালদোকেও শুনানিতে নাইকির হস্তক্ষেপ সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করে কোনো সদুত্তর মেলেনি। ফাইনালে হারের কারণ হিসেবে রোনালদো বলেছিলেন ওই কথাই, ‘আমরা হেরেছি কারণ, তিন গোল গোল হজম করেছি।’ নাইকি এরপর ছাড়া পেয়ে যায়। এদিকে তাদের দেওয়া অর্থের জোগানে দুর্নীতি শুরু হয় দেশটির ফুটবল ফেডারেশনে (সিবিএফ) রিকার্ডো তিসেইরার শুরুর দিকে। সিবিএফের রাজস্ব বাড়ল, পরিচালকদের বেতনও, কিন্তু ব্রাজিলের তৃণমূল ফুটবলে বাজেট ৫৫ শতাংশ থেকে ৩৭ শতাংশে নেমে এল।

এদিকে রোনালদোও ভীষণ চাপে ছিলেন তখন। সংবাদমাধ্যম ও ফটোগ্রাফারদের চাপে তাঁর স্বাভাবিক জীবনযাপনের উপায় ছিল না। মায়ের বাসাতেও একা যেতে পারতেন না। নানা পদের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হতো। বাধ্য হয়েই রোনালদো বলেছিলেন, ‘আমি কোনো অপরাধী নই। দয়া করে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে দিন।’

বাকি ঘটনাও সবার জানা। অসুস্থতা নিয়েই রোনালদোকে সেই ফাইনালে খেলানোয় ব্রাজিল ফেডারেশনের চরম সমালোচনা করেছিল ইন্টার মিলান। পরে চোটে পড়লেন রোনালদো। চলে এল ২০০২ বিশ্বকাপ। ব্রাজিল আবারও ফাইনালে। আবারও রোনালদো এবং তাঁকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হলো ’৯৮-এর দুঃস্বপ্ন।

কিন্তু এবার দুঃস্বপ্ন পরিণত হলো সুখস্বপ্নে। ফাইনালে জোড়া গোল করলেন রোনালদো। ব্রাজিল চ্যাম্পিয়ন! তবু কি ’৯৮-এর সেই দুঃস্বপ্ন মাটিচাপা পড়ল?

না, সে সময়ের রোনালদোকে যে আর কখনো দেখা যায়নি। সেই প্রশ্নেরও সঠিক জবাব মেলেনি।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন