বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

আজ দুপুরে বাফুফের পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় জাতীয় দল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও বাফুফে সহসভাপতি কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়া থেকে জানানো হয়েছে, খেলোয়াড় ও দলীয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দুই ডোজ টিকা দেওয়া থাকতে হবে। বর্তমানে যে খেলোয়াড় তালিকা করা হয়েছে, সেখানে ১৫ জনের দুই ডোজ টিকা দেওয়া আছে। সাতজনের এক ডোজ দেওয়া আছে ও ছয়জনের কোনো টিকা দেওয়া নেই। এ কারণে ম্যাচ দুটি খেলা সম্ভব হচ্ছে না।’

এখন যেকোনো দেশেই প্রবেশে দুই ডোজ টিকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আগে বিশেষ কিছু ছাড় পাওয়া গেলেও সব সময় সেটা পাওয়া যাবে, এমন তো আর নয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেনি বাফুফে। টিকা বাধ্যতামূলক, এ বিষয়টি গত মঙ্গলবার জানতে পারে বাফুফে। বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম বলেন, ‘গত পরশু ইন্দোনেশিয়া ফুটবল ফেডারেশন থেকে জানানো হয়, দুই ডোজ টিকা ছাড়া ইন্দোনেশিয়া ভ্রমণ করা যাবে না। এরপরে চেষ্টা করা হলেও সমস্যার সমাধান করা যায়নি।’

default-image

টিকা দেওয়ার প্রসঙ্গে আরও নানা সমস্যার কথা বলেছেন আবু নাইম, ‘যাদের এক ডোজ দেওয়া আছে, তাদের কালই দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু অনেকের দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার সময় হয়নি। আবার যারা এখনো নেয়নি এদের মধ্যে কারও এনআইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র) নেই, আবার কারও পাসপোর্টের সঙ্গে এনআইডির নাম–ঠিকানার পার্থক্য আছে। ফলে সে খেলোয়াড়েরা বিমানবন্দরে আটকে যাবে।’

বাফুফে দাবি করেছে ইন্দোনেশিয়া সফরের জন্য চূড়ান্ত না হওয়া ২৮ খেলোয়াড়ের মধ্যে ১৫ জনের দুই ডোজ টিকা নেওয়া আছে। সাতজন নিয়েছেন একটি করে। এক ডোজ করে নেওয়া সে সাতজনের মধ্যে আবার বেশ কয়েকজনের দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার সময় হয়েছে। সে সঙ্গে আরও কিছু খেলোয়াড় যোগ করে ম্যাচ দুটি খেলার চেষ্টা করতে পারত বাংলাদেশ।

শুধু নিজেদের ঘরোয়া লিগের খেলোয়াড়দের নিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ দুটি খেলতে চেয়েছিল ইন্দোনেশিয়া। সে সুযোগ না নিয়ে উল্টো টিকার অজুহাত দেখিয়ে ম্যাচ দুটোই বাতিল করে দিল বাফুফে। বিকল্প পথে না হাঁটার ব্যাখ্যা দিলেন আবু নাইম, ‘টিকা না নেওয়া খেলোয়াড়দের নামগুলো বড় বড়। তাই তাদের ছাড়া খেলতে চাই না আমরা।’

‘জাতীয় দলের খেলোয়াড়েরা টিকা নেয় না, এটা ভাবাই যায় না। বিষয়টি ব্যক্তিগত হলেও এটা কোনো ভালো বার্তা হতে পারে না।’
গোলাম সারোয়ার টিপু, জাতীয় দলের সাবেক কোচ

ইন্দোনেশিয়া সফরের জন্য দল ঘোষণা করেনি বাফুফে। আলাদাভাবে খেলোয়াড়দের নামও প্রকাশ করতে চায় না তারা। খেলোয়াড়দের নিজ জেলায় গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টের মধ্যে অসামঞ্জস্য দূর করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ৫০ জন খেলোয়াড়ের একটি তালিকা তৈরি করে দ্রুত দুই ডোজ টিকার আওতায় আনতে চায় বাফুফে।

বাংলাদেশে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে করোনার টিকা কার্যক্রম চলছে। যেকোনো খেলার জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের অগ্রাধিকার দিয়ে টিকা নেওয়ার ব্যবস্থা করেছিল সরকার। এরই মধ্যে শুরুতে টিকা নেওয়া নাগরিকদের বুস্টার তৃতীয় ডোজ টিকা দেওয়া শুরু হয়ে গেছে। এই পর্যায়ে এসে কোনো ফুটবলারের একবারও টিকা না নেওয়ার বিষয়টি মানতে পারছেন না জাতীয় দলের সাবেক কোচ গোলাম সারোয়ার টিপু। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘জাতীয় দলের খেলোয়াড়েরা টিকা নেয় না, এটা ভাবাই যায় না। বিষয়টি ব্যক্তিগত হলেও এটা কোনো ভালো বার্তা হতে পারে না।’

আর কয়েকজন খেলোয়াড়ের জন্য ম্যাচ খেলার সুযোগ হাতছাড়া করা ঠিক হয়নি বলে মনে করেন গোলাম সারোয়ার, ‘যারা খেলার জন্য তৈরি ছিল, তাদের সঙ্গে নতুন কিছু খেলোয়াড় যোগ করে দুটি ম্যাচ খেলা উচিত ছিল। এতে দলের সঙ্গে নতুন কিছু খেলোয়াড় সম্পর্কেও ধারণা পেতেন নতুন কোচ। এতে তাঁর জন্য ভবিষ্যতে দল গঠন করা সুবিধা হতো।’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন