কাতারের মুখোমুখি হতে কাল সকালে ঢাকা ছাড়বে বাংলাদেশ ফুটবল দল
কাতারের মুখোমুখি হতে কাল সকালে ঢাকা ছাড়বে বাংলাদেশ ফুটবল দলছবি: প্রথম আলো

গত বছর ১০ সেপ্টেম্বর প্রায় এক অসম্ভবকেই সম্ভব করেছিল ভারত। বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের যৌথ বাছাইয়ে দোহায় স্বাগতিক কাতারের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছিল তারা। এবারের বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে ৪ জয়ের বিপরীতে একটিমাত্র ড্র কাতারের, সেই ড্রটাই ভারতের সঙ্গে।

ভারত এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন কাতারের বিপক্ষে ড্র করতে পারলে বাংলাদেশ কেন পারবে না, আজ বিকেলে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এমন দৃঢ়তায় কথা বলেছেন বাংলাদেশ দলের গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

বাছাইপর্বে কাতারের বিপক্ষে হোম ম্যাচে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে লড়াই করেও ২-০ গোলে হেরেছিলেন জামাল ভূঁইয়ারা। ফিরতি ম্যাচ ৪ ডিসেম্বর দোহায়। এশিয়ান চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে খেলতে আগামীকাল সকালে ঢাকা ছাড়বে বাংলাদেশ দল।

তার আগে আজ আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে আশরাফুলের কণ্ঠে আশাবাদ, ‘ভারত যদি কাতারের সঙ্গে ড্র করতে পারে, আমরা কেন পারব না। আমরা জানি, ওরা আমাদের চেপে ধরবে। আমাদের একটাই লক্ষ্য, কঠিন লড়াই করা।’

এই বাছাইপর্বেই গত বছর অক্টোবরে কলকাতায় ভারতের সঙ্গে জিততে জিততে ১-১ গোলে ড্র করে মাঠে ছাড়তে হয়েছে আশরাফুলদের।

default-image

ভারত-কাতার ম্যাচে নায়ক ছিলেন ভারতের গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিং সান্ধুর। সেদিন এশিয়ান চ্যাম্পিয়নদের সামনে যেন চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন গুরপ্রীত।

পুরো ম্যাচে ভারতের পোস্টে কাতারের শট ছিল ২৭টি। কিন্তু একটিবারও গুরপ্রীতকে হারাতে পারেনি কাতার। গুরপ্রীত যা করেছিলেন, সেটা পারবেন আশরাফুল? প্রশ্নটি করা হয়েছিল আশরাফুলকেই।

বাংলাদেশ গোলরক্ষকের আত্মবিশ্বাসী উত্তর, ‘আমরা যারা গোলরক্ষক আছি, সবাই জানি কাতারের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলা কত বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষকের ওপর অনেক চাপ আসবে। এটাই স্বাভাবিক। গুরপ্রীত সিং খুবই ভালো খেলেছে। মানসিকভাবে আমরাও প্রস্তুত আছি।’

বিজ্ঞাপন

নেপালের বিপক্ষে ম্যাচ দুটিকে কাতার ম্যাচের প্রস্তুতি হিসেবে নিয়েছিলেন বাংলাদেশ কোচ জেমি ডে। এক জয় ও এক ড্রয়ে সিরিজ নিশ্চিত করে জামাল ভূঁইয়াদের সে প্রস্তুতি ভালোই হয়েছে বলা যায়।

এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন কাতারের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে সেখানে আরও দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছেন জামালরা। প্রতিপক্ষ এখনো চূড়ান্ত না হলেও ম্যাচ দুটি হওয়ার কথা ২৫ ও ২৮ নভেম্বর। এর আগে তিন দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে বাংলাদেশকে। ২২ নভেম্বর শুরু করতে পারবে অনুশীলন।

default-image

করোনা-শঙ্কা মাথায় রেখে মোট ৩৭ সদস্যের কাতারগামী দলে খেলোয়াড় ২৭ জন। হাতে চোট থাকা সত্ত্বেও দলে আছেন মিডফিল্ডার মামুনুল ইসলাম। করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় আপাতত দলের সঙ্গী হচ্ছেন না জেমি।

করোনা ‘নেগেটিভ’ হলে পরবর্তী সময়ে দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা তাঁর। এর আগে প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করবেন স্টুয়ার্ট ওয়াটকিস। জেমিকে শেষ পর্যন্ত না পাওয়া গেলে কাতারের বিপক্ষে তিনিই ডাগআউটে দাঁড়াবেন।

২০১৮ সালে প্রধান কোচ জেমি ডের সঙ্গে সহকারী হিসেবে বাংলাদেশের দায়িত্ব নেন ওয়াটকিস। দোহায় কাতারের বিপক্ষে ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা বলে মনে করেন ইংলিশ এই কোচ, ‘আমরা এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন কাতারের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছি। তারা অনেক শক্তিশালী দল। আমরা সবাই জানি ম্যাচটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সেরা খেলাটা খেলতে হবে।’

বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে এশিয়া অঞ্চলে গ্রুপ ‘ই’তে ৫ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে কাতার। এক ম্যাচ কম খেলে ১ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের তলানিতে বাংলাদেশ।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0