বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ফেরার সময় ফুটবলারদের মুখে হাসি থাকবে তো? নাকি গোমড়া মুখে ফিরবেন? এখনি বলা কঠিন। তবে আজ দোহা যাত্রার আগে ফুটবলাররা বলে গেছেন ফেরাটা যাতে আনন্দময় হয়, সেই চেষ্টাই তাঁরা করবেন। ডিফেন্ডার তপু বর্মণ যেমন হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফোনে বললেন, ‘জানি, প্রতিপক্ষ দলগুলো শক্তিশালী। তবে আমাদের অবশ্যই লক্ষ্য থাকবে পয়েন্ট নিয়ে ফেরা। সেই লক্ষ্য নিয়েই যাচ্ছি। আশা করি, দলগতভাবে ভালো কিছু করেই দেশে ফিরতে পারব।’

‘ভালো কিছু’ মানে ভারত ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়? মুখ ফুটে ফুটবলারা ‘জয়’ শব্দটি উচ্চারণ করেননি। সবাই ‘ভালো খেলব’, ‘ভালো কিছু করতে চাই’, ‘পয়েন্ট পেতে চাই’ জাতীয় কথাই বলেছেন বেশি।

তবে গ্রুপিং হওয়ার পরপরই ভারত ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। বিশেষ করে ঘরের মাঠে এ দুটি ম্যাচে জয় সম্ভব বলেছিলেন তিনি। এমনকি ম্যাচগুলো কাতারে চলে যাওয়ার পরও একই কথা বলেছেন অধিনায়ক। তবে ঘরের মাঠে খেলার সুবিধাটা পাচ্ছে না বাংলাদেশ। কাতারের ভিন্ন পরিবেশ এবং দ্রুতগতির মাঠ অনেক বেশি কঠিন হতে পারে জামালদের জন্য।

এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশের পয়েন্ট ১। ভারতের সঙ্গে কলকাতায় ১-১ ড্রয়ে আসে একমাত্র পয়েন্ট। আফগানিস্তানের সঙ্গে প্রথম লেগে ১-০ গোলে হার। আশা ছিল, দেশের মাটিতে এই দুই দলকে হারিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেবে বাংলাদেশ। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে সব ম্যাচই এক ভেন্যুতে নিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা কমেছে।

‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব এবং আশা করি, দেশকে গর্বিত করতে পারব এ সফরে।
জামাল ভূঁইয়া, বাংলাদেশ ফুটবল দলের অধিনায়ক

তারপরও আজ দোহা–যাত্রার আগে আফগানিস্তান আর ভারত ম্যাচকেই পাখির চোখ করেছে বাংলাদেশ। ফুটবলাররা এই ম্যাচ দুটি সম্ভাব্য সেরা ফলই পেতে চান। বিমানে ওঠার ঠিক আগে অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া বলেছেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব এবং আশা করি, দেশকে গর্বিত করতে পারব এ সফরে। আমাদের লক্ষ্য থাকবে এমন কিছু করা, যাতে মাথা উঁচু করে দেশে ফিরতে পারি। তবে সফরটা অবশ্যই কঠিন হবে। কারণ, সব কটি দলই শক্তিশালী।’

সফরটা যে অনেক বড় পরীক্ষার হবে, তা বরাবরই বলে এসেছেন কোচ জেমি ডে। তার ওপর দেশের বাইরে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলা যায়নি। একটু বেশি সময় নিয়ে কাতারে ক্যাম্পও করতে পারেনি বাংলাদেশ। সৌদি আরবে গিয়ে কয়েক দিন ক্যাম্প করার পরিকল্পনাও গেছে ভেস্তে। গতকাল শেখ জামালের সঙ্গে ঢাকায় একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে জাতীয় দল ( ২-২ গোলে ড্র)। প্রস্তুতি ম্যাচ হলেও শেখ জামালকে হারাতে না পারা জেমির বাংলাদেশের জন্য হতাশারই।

default-image

সবকিছু মিলিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সফরের আগে লাল–সবুজের প্রস্তুতি ভালো হয়নি। সেটা একপাশে রেখেই আজ বিমানে ওঠার আগে জেমি ডে আশার কথাই শোনালেন, ‘আমাদের লক্ষ্য অবশ্যই ভালো কিছু করা। আগামী কয়েক দিন আমরা দোহায় প্রস্তুতি নেব এবং প্রথম ম্যাচের জন্য তৈরি হব। আমরা চাইব সন্তোষজনক ফল নিয়েই ঢাকায় ফিরতে।’

এই প্রথম দলের সঙ্গে বিশ্বকাপ বাছাই খেলতে যাওয়া ডিফেন্ডার মেহেদি হাসানের মুখেও ‘সন্তোষজনক ফলের’ আশা। দল লক্ষ্য কী জানতে চাইলে বিমানবন্দর থেকে তিনি বললেন, ‘কাতারে আমরা তিনটি ম্যাচ খেলব। অবশ্যই আমরা চেষ্টা করব ভালো কিছু করতে।’ ভালো কিছু হতে পারে ড্র। আর জয় পেলও তো সোনায় সোহাগা। ওমানের সঙ্গে লড়াই করা প্রায় অসম্ভব ধরে নিয়েই বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য থাকবে আফগানিস্তান ও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দুটিই।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন