দলকে সাফল্য এনে দিতে যা দরকার সব করবেন টুখেল।
দলকে সাফল্য এনে দিতে যা দরকার সব করবেন টুখেল।ছবি: এএফপি

গত জানুয়ারির শেষের দিকেই চেলসির কোচের দায়িত্ব নিয়েছেন টমাস টুখেল। ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের চেয়ারে বসে এখন পর্যন্ত দলটিকে দারুণভাবে সামলাচ্ছেন কয়েক দিন আগেও পিএসজিতে নেইমার-এমবাপ্পেদের কোচিং করানো জার্মান এই কোচ। টুখেলের অধীনে পাঁচ ম্যাচ খেলে এখন পর্যন্ত চারটিতে জিতেছে চেলসি, একটিতে করেছে ড্র।

উঠে এসেছে লিগের পয়েন্ট তালিকার পঞ্চম স্থানে। বাংলাদেশ সময় আজ রাতে নিউক্যাসলকে হারালে লিভারপুলকে টপকে ৪ নম্বরেও উঠে যাবে টুখেলের দল।
ড্রেসিংরুমে ব্যক্তিত্ব ধরে রাখার কারণে এই সাফল্য পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন টুখেল। যখন খেলোয়াড়দের বন্ধু হওয়া প্রয়োজন, হচ্ছেন। আবার যখন খেলোয়াড়দের শাসন করা প্রয়োজন, সেটিও করছেন। ড্রেসিংরুমে কারও ভালোবাসা পাবেন, এমন আশায় কাজ করেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।

একেকজন কোচের খেলোয়াড়দের পরিচালনা করার কৌশল একেক রকম। খেলোয়াড়দের সঙ্গে কারও সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ, আবার কারও ক্ষেত্রে দেখা যায় খেলোয়াড়েরা তাঁকে ভয় পাচ্ছেন। টুখেলও প্রয়োজনে দুটিই হতে পারেন বলে জানাচ্ছেন। তাঁর অধীনে চেলসির খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে পাওয়া যাচ্ছে ধারাবাহিকতার ছাপ। ড্রেসিংরুমে তাঁর কঠোর ভূমিকার জন্যই সেটা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন টুখেল।

বিজ্ঞাপন
default-image

নিউক্যাসলের বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে খেলোয়াড়দের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বিষয়ে স্কাই স্পোর্টসকে টুখেল বলেন, ‘আমি আপনাদের সঙ্গে (সংবাদমাধ্যম) ভালো ব্যবহার করছি। এর অর্থ এই নয় যে আমি ড্রেসিংরুমেও এমন ব্যবহার করি, যেন সবাই আমাকে ভালোবাসে। কোচিং এভাবে হয় না।’

খেলোয়াড় ও দলের প্রয়োজন অনুযায়ী চরিত্রের বদল আনেন টুখেল। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমি কি চিৎকার করি? অবশ্যই, যখন সেটির প্রয়োজন হয়। আমি ঠান্ডা থাকতে পারি, আবার যখন প্রয়োজন চিৎকার-চেঁচামেচিও করতে পারি। কিন্তু আপনি যদি সব সময় (চিৎকার-চেঁচামেচি) করেন, তাহলে কেউ শুনবে না। কারণ, এতে অভ্যস্ত হয়ে যাবে।’

কোচিং ম্যানুয়েল থেকে একটু যেন তাত্ত্বিক শিক্ষাও হয়ে এল টুখেলের কথাগুলো, ‘এখানে মূল ব্যাপারটা হচ্ছে অভ্যস্ত হতে দেওয়া যাবে না, চমক জাগিয়ে রাখতে হবে। বেশির ভাগ সময়ে রেগে যাওয়ার যুক্তিসংগত কারণও থাকতে হবে। খেলোয়াড়দের বিশ্বস্ত হওয়া, ভরসা করার মতো একটা সম্পর্ক গড়াও গুরুত্বপূর্ণ।’

default-image

খেলোয়াড়দের চরিত্র অনুযায়ী তাঁদের সঙ্গে ব্যবহার করা হয় বলে জানান টুখেল, ‘দলের সামনে খেলোয়াড়দের শাস্তি, চিৎকার বা অপমান করা যাবে না। এটি গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু যদি এমন হয় যে (গ্রুপের সামনেই) কোনো কিছু খোলাসা করতে হবে, তখন সেটা করার পক্ষপাতী আমি। যদি কারও আচরণ দলের ক্ষতি করে, মাঠে সমস্যার সৃষ্টি করে, তাহলে তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে বলতে হবে। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি সবারই গ্রুপের সমালোচনা সহ্য করার ব্যক্তিত্ব থাকা উচিত।’

সবার সামনে সমালোচনা তাঁকে দলের অনেকের কাছে প্রিয় করে রাখবে না, তা জানেন টুখেল। কিন্তু এতটুকু ছাড় দিতে তাঁর আপত্তি নেই, ‘এভাবে সমালোচনায় কোনো ক্ষতি নেই, কারণ, তখন লুকোছাপার কিছু থাকে না। সত্যি বলতে এটা কখনো বদলাব না আমি। ড্রেসিংরুমে সবাই আমাকে ভালোবাসবে, এমনটা ভেবে কাজ করি না আমি। এভাবে কাজ করা সম্ভবও নয়।’

বিজ্ঞাপন
ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন