এর আগে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন, আর্সেন ওয়েঙ্গার, জোসে মরিনিওর মতো কোচরা ইংলিশ লিগে সূচি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন অনেকবার। গত কয়েক বছরে লিভারপুলের ইয়ুর্গেন ক্লপ আর সিটির গার্দিওলাই এ নিয়ে বেশি সোচ্চার ছিলেন। সম্প্রচার সংস্থার লাভের কথা বিবেচনায় নিয়ে ক্লাবগুলোর খেলা যখন-তখন দেওয়া হচ্ছে, খেলোয়াড়দের বিশ্রাম কিংবা ক্লাবের প্রয়োজনের কথা সেভাবে মাথায় রাখা হচ্ছে না—ক্লপ ও গার্দিওলার এ-ই ছিল আপত্তি। কিন্তু কিছুতেই কোনো লাভ হয়নি। সূচির এখন যা অবস্থা সেটি পছন্দ হচ্ছে ক্লপ কিংবা গার্দিওলার কারওই।

গার্দিওলা যেন তাতে ক্লান্ত হয়ে উঠেছেন। ক্লপ এখনো এ নিয়ে মাঝেমধ্যে তবু কথা বলেন। বুধবার রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচের পর আজ শনিবার বিকেলেই আবার লিভারপুল নামছে লিগে, সেটিকে ‘অমানবিক’ জানিয়ে ক্লপ চেয়েছিলেন ম্যাচটা যেন পিছিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু লিভারপুলের অনুরোধ আমলে নেয়নি লিগ কর্তৃপক্ষ। এরপর কাল সংবাদ সম্মেলনে সূচিজট নিয়ে প্রশ্নে গার্দিওলা অনেক হতাশা নিয়েই বললেন, তিনি আর কোনো অভিযোগই করবেন না।

তবে যা বলেছেন, তাতেই অনেক কিছু বলা হয়ে গেছে গার্দিওলার, ‘বলে লাভ নেই, কিছুই বদলাবে না। কারণ সম্প্রচারকেরা শুধু দর্শক আরও বাড়ানোর জন্য কী করা দরকার সেটিই ভাবেন। খেলোয়াড়দের কী দরকার, দলগুলোর কী দরকার, সেসব তাঁরা ভাবেন না। অবশ্যই আমি সবকিছু বুঝতে পারি, কিন্তু কী-ই বা আর বলতে পারি? আমরা তো আর সমাধান এনে দিতে পারব না। আমি অনেকবার বলেছি, স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন ইংলিশ ফুটবলের সবচেয়ে বড় আইকন, তিনিও তরুণ বয়সে এ নিয়ে অনেকবার কথা বলেছেন।’

default-image

লিভারপুল আজ বাংলাদেশ সময় সাড়ে পাঁচটায় নামছে, অথচ নিজেদের চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচটা মঙ্গলবার খেলে ফেলা সিটি নামছে রাত সাড়ে দশটায়। লিভারপুলের চেয়ে প্রায় ৩০ ঘন্টা বেশি বিশ্রাম পাচ্ছে সিটি। শিরোপাদৌড়ে লিভারপুলের চেয়ে ১ পয়েন্ট এগিয়ে শীর্ষে থাকা সিটির এতে সুবিধাই হলো। কিন্তু এখানে ব্যাপারটা তো আর তা নয়। আজ লিভারপুল ভুগছে, অন্যদিন তো সিটিও ভুগতে পারে। সেটি বিবেচনায় নিয়ে ক্লপ বা গার্দিওলার কেউই ব্যাপারটিকে ভালোভাবে নিচ্ছেন না।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে অবশ্য বারবার লিভারপুল আর ক্লপের প্রসঙ্গে কিছুটা বিরক্ত গার্দিওলা একবার ক্লপের চুক্তি নবায়নের সঙ্গে তাঁর চুক্তি নবায়নের প্রশ্নে বলেছেন, ক্লপের চুক্তি নবায়নের সঙ্গে তাঁর সিটিতে থাকা-না থাকার কোনো সম্পর্ক নেই। এরপর সূচিজট নিয়ে প্রশ্নেও কিছুটা বিরক্ত গার্দিওলা বলে দিলেন, তিনি যেমন ব্যাপারটা মেনে নিয়েছেন, তেমনি এসব মেনে নিয়েই একজন কোচকে খেলতে হবে।

‘(চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে) মাদ্রিদে আতলেতিকোর বিপক্ষে খেলার তিন দিন পর আমরা ওয়েম্বলিতে লিভারপুলের বিপক্ষে এফএ কাপের সেমিফাইনাল খেলেছি। চেলসি মঙ্গলবার খেলেছিল তখন, সে সময় তাদের ম্যাচ শনিবার রাখা যেত, কিন্তু রাখা হয়েছে রোববার। আপনার মনে হয় ওরা এসব নিয়ে ভাবে? না, কারণ এর পরের মঙ্গলবার লিভারপুল আর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ম্যাচ ছিল’—গার্দিওলার বিরক্তি প্রকাশ।

অভিযোগে লাভ হবে না দেখে সবাইকে মানিয়ে নিতেই বললেন গার্দিওলা, ‘সবাই-ই নিজের দিকটা দেখে। এক্ষেত্রে আমাদের মানিয়ে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। ওরা (সম্প্রচারক) যদি আমাদের শনিবার খেলতে বলে, আমরা শনিবারই খেলব। মঙ্গলবার বললে মঙ্গলবার। বৃহস্পতিবার? তাহলে বৃহস্পতিবারই খেলব। ওরা যা-ই চাইবে, কোনো সমস্যা নেই।’

সমস্যা হলে কী হবে, সেটির ধারণা দিতে গিয়েই কিছুটা শ্লেষাত্মক সুরে গার্দিওলার জবাব, ‘আমি এসবে খুশি না হলে বাড়ি চলে যাব, ম্যান সিটির কোচ আর থাকব না। অন্য কোনো লিগে চলে যাব। মালদ্বীপের লিগে চলে যাব। সেখানে এক সপ্তাহে একটি করে ম্যাচ খেলব, (সৈকতে) নারকেল গাছের নিচে আরাম করে বসব। একেবারে নিখুঁত হবে সবকিছু। কিন্তু এখানে তো আর তা হচ্ছে না!’

শেষে লিভারপুলকে একটা খোঁচাও দিয়েছেন গার্দিওলা, ‘আপনারা (ইংল্যান্ডের সময় দুপুর) সাড়ে ১২টায় খেলছেন, কিন্তু দুঃখিত লিভারপুল, এই সূচির সঙ্গে আমি জড়িত নই।’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন