ভিনিসিয়ুসের কড়া সমালোচনা করেছেন করিম বেনজেমা।
ভিনিসিয়ুসের কড়া সমালোচনা করেছেন করিম বেনজেমা। ফাইল ছবি রয়টার্স

ঘটনাটা বিশ্বাস করা কঠিন ছিল। চ্যাম্পিয়নস লিগে শুরুটা ভালো হয়নি। শাখতার দোনেৎস্কের কাছে প্রথম ম্যাচে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও জয় পায়নি রিয়াল মাদ্রিদ। বরুসিয়া মনশেনগ্লাডবাখের সঙ্গে ড্র করে গ্রুপে শেষে অবস্থান করছে প্রতিযোগিতার সবচেয়ে সফল দলটি। কিন্তু দলের এ অবস্থাও ভুলে যাওয়ার দশা। সবাই মেতেছেন করিম বেনজেমার এক মন্তব্যে। রিয়ালের ফরাসি স্ট্রাইকার ম্যাচের বিরতিতে স্বদেশি ফারলাঁ মেন্দিকে বলেছেন, আরেক সতীর্থ ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে পাস না দিতে।

এমন কিছু শুনলে গুজব বলে উড়িয়ে দিতে ইচ্ছে হতে পারে। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে এই ঘটনাটা ভিডিওতেই ধারণ করা হয়েছে। মাঝ বিরতিতে এ ঘটনার পর ম্যাচেও প্রতিফলন দেখা গেছে। দ্বিতীয়ার্ধে রিয়ালের খেলায় বলতে গেলে কোনো প্রভাব রাখতে পারেননি ব্রাজিলের এই তরুণ। সতীর্থদের কাছ থেকে বলের কোনো জোগান না পেয়ে হতাশ ভিনিসিয়ুসকে ৬৯ মিনিটে মাঠ থেকে তুলে নিয়েছেন কোচ জিনেদিন জিদান। তরুণ ব্রাজিলিয়ানের সঙ্গে এমন আচরণে বেনজেমার ওপর ক্ষিপ্ত  ব্রাজিলিয়ানরা, দেশটির সংবাদমাধ্যম ও টিভি মিডিয়া বেনজেমার সমালোচনায় মেতেছে পুরোদমে।

বিজ্ঞাপন

মনশেনগ্লাডবাখ ম্যাচে বিরতির সময় মাঠে নামার অপেক্ষায় ছিল রিয়াল। এ সময় মেন্দির সঙ্গে কথা বলছিলেন বেনজেমা। তাদের এ কথোপকথন ধরা পড়েছে টেলিফুট টিভির ক্যামেরায়। বেনজেমা মেন্দিকে বলছিলেন ভিনিসিয়ুসকে পাস না দিতে, ‘ওর যা মনে হয় তাই করে। ওকে বল দিয়ো না। সে তো আমাদের বিপক্ষে খেলছে।’ এই কথোপকথনেই থামেনি। দ্বিতীয়ার্ধে ২৫ মিনিট মাঠে ছিলেন ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার। এ সময়ে মাঠের বাঁ প্রান্তে প্রায় এক সঙ্গে থাকার পরও মেন্দি মাত্র তিনবার তাঁকে পাস দিয়েছেন। আর বেনজেমা তো একবারও বল পাঠাননি ভিনিসিয়ুসের দিকে।

মাত্র ২০ বছর বয়সী এক ফুটবলারের সঙ্গে এমন আচরণ অবাক করেছে ব্রাজিলিয়ানদের। সাধারণত বেনজেমার সঙ্গে দলের তরুণদের সম্পর্ক বেশ ভালো। দুই ব্রাজিলিয়ান ভিনিসিয়ুস ও রদ্রিগো আদর্শ মানেন তাঁকে। সুযোগ পেলেই বেনজেমার প্রভাবের কথা স্বীকার করেন দুজন। ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে ফ্রেঞ্চ ফরোয়ার্ডের সম্পর্ক এত দিন বেশ ভালো বলেই জানতেন সবাই। ম্যাচের উত্তেজনার মুহূর্তে এমন হতাশার কথা জানিয়েই এখন বিপদে পড়ে গেছেন বেনজেমা।

default-image

ব্রাজিলিয়ান সমর্থক ও সাংবাদিকেরা স্বদেশির অপমানকে মেনে নিতে পারেননি। শুধু সাংবাদিক কেন, জাতীয় দল সতীর্থ রিচার্লিসনও এতে যোগ দিয়েছেন। ইনস্টাগ্রামে করিম বেনজেমা ম্যাচের পর একটা ছবি দিয়েছিলেন। লিখেছেন, ‘শেষ পর্যন্ত লড়েছি।’ শেষ মুহূর্তের গোলে সেদিন হার এড়ানোর পর এমন পোস্ট স্বাভাবিক। কিন্তু সেখানে গিয়ে এভারটন ফরোয়ার্ড রিচার্লিসন মন্তব্য করেছেন, ‘ভিনির দল সহজে ভুলবে না।’ সাধারণত বেনজেমার পোস্টে দুই থেকে তিন হাজার মন্তব্য থাকে। কিন্তু এই পোস্টে ৯০ হাজারের বেশি মন্তব্য এসেছে। সবাই এসেছেন ভিনিসিয়ুসকে সম্মান না দেখানোর ক্ষোভ জানাতে।

ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে ভিনিসিয়ুসকে অন্য চোখে দেখা হয়। পেশাদার ফুটবলেও এখনো নির্মল আনন্দ নিয়ে ফুটবল খেলেন, সব সময় দর্শকের মাঝে সেটা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। আর বরাবরই বেনজেমার প্রশংসা করে বেড়ানো এই ফুটবলারের এমন কিছু প্রাপ্য ছিল না বলেই মনে করছেন ব্রাজিলিয়ানরা। এক রেডিও অনুষ্ঠানে ক্যামিলা ক্যারেলি নামের এক সাংবাদিক বলেছেন, ‘বেনজেমার আচরণ খুবই খুবই বিশ্রী ছিল কারণ সে এটা ভিনির সামনেই করেছে। এমন এক ভাষা ব্যবহার করেছে যা ব্রাজিলিয়ান বোঝে না। এটা খুবই নিচু মানসিকতা এবং কাপুরুষ আচরণ।’

বিজ্ঞাপন

মারসিও সিমপোলো নামের আরেক সাংবাদিক জানিয়েছেন, ‘বেনজেমা যা করেছেন সেটা অনৈতিক ও কাপুরুষতা। সে যা করছে তা হাস্যকর ও অনুশোচনীয়।’ আরেক সাংবাদিক তো বেনজেমার অতীতই টেনে এনেছেন। ফ্রেঞ্চ সতীর্থ ভালবুয়েনার অপ্রীতিকর ভিডিওর ঘটনায় জড়িত থাকার ঘটনায় ফ্রান্স দলে জায়গা হারিয়েছিলেন বেনজেমা। রিয়াল স্ট্রাইকারের সে অতীত টেনে এনেছেন কসমে রিমোলি নামের একজন, ‘এটা হচ্ছে বিশ্বাসঘাতকতা। তাও এমন এক ফুটবলার করল যার অতীতে ভালবুয়েনাকে ব্ল্যাকমেল করার দাগ লেগে আছে। বেনজেমা ভিনি এবং জিদানকে অসম্মান করল। কারণ জিদান এ দল কীভাবে খেলবে সেটা ঠিক করে, সেই ভালো বুঝে (দলে কে কাকে পাস দেবে)। যা ঘটেছে তা লজ্জাদায়ক।’

সেদিন প্রথমার্ধে ভিনিসিয়ুসের খেলা ভালো ছিল না। বেনজেমাকে মাত্র দুইবার পাস দিয়েছিলেন। অবশ্য বেনজেমা নিজেও মাত্র তিনবার পাস দিয়েছেন ভিনিসিয়ুসকে। দ্বিতীয়ার্ধে তো কোনো পাসই দেননি। পুরো ম্যাচে ৩০বারের চেষ্টা ১৯টি পাস দিতে পেরেছেন ভিনিসিয়ুস। তিনবার শট নিয়েছেন কিন্তু একটাও গোলমুখে ছিল না। সব মিলিয়ে ভুলে যাওয়ার মতোই এক ম্যাচ। কিন্তু বিতর্ক সেটা এত দ্রুত ভুলতে দিচ্ছে না।

মন্তব্য পড়ুন 0