default-image

অর্থকড়ি নিয়ে ম্যানচেস্টার সিটির অনিয়ম নতুন কিছু নয়। দলের শক্তি বাড়াতে এর আগে আর্থিক সংগতি নীতি ভেঙেছে সিটি। এবার নতুন অভিযোগ উঠল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবটির বিরুদ্ধে।

এক কিশোর প্রতিভাকে দলে পেতে তাঁর বাবাকে ক্লাবে ‘ভুয়া’ চাকরি দিয়েছিল সিটি। শুধু তা-ই নয়, সেই খেলোয়াড়ের পরিবারের জন্য একটি অ্যাকাউন্ট খুলে টাকাও পাঠিয়েছে পেট্রো-ডলারসমৃদ্ধ ক্লাবটি।

গ্যাব্রিয়েল ফার্নান্দো আলমেইদাকে মনে আছে? ব্রাজিলিয়ান অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারকে নিয়ে ২০১১ সালে শোরগোল পড়েছিল। অমিত প্রতিভাবান মনে করা হচ্ছিল তাঁকে। সে বছর সিটির বয়সভিত্তিক দলে যোগ দিয়েছিলেন ১৪ বছর বয়সী আলমেইদা।

বয়স কম হওয়ায় সিটি তখন তাঁর সঙ্গে পেশাদার চুক্তি করতে পারেনি। ১৬তম জন্মদিনের পর অন্য যেকোনো ক্লাবের সঙ্গে কথা বলতে পারতেন বর্তমানে ২৪ বছর বয়সী এ ফুটবলার।

কিন্তু সিটি তাঁকে ধরে রাখতে মরিয়া ছিল। আর এই মরিয়া মনোভাব থেকেই আইনের মারপ্যাঁচ গলে কৌশল বের করে ফেলে ক্লাবটি।

বিজ্ঞাপন

খেলোয়াড় ধরে রাখতে হলে তো টাকা দিতে হবে। কিন্তু সে মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের নিয়ম ছিল, ‘বয়সভিত্তিক পর্যায়ে খেলোয়াড়কে নিবন্ধনে প্রলুব্ধ করতে কোনো ক্লাব সেই খেলোয়াড় কিংবা তার ঘনিষ্ঠ কাউকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে টাকাপয়সা বা সুবিধা প্রদান করতে পারবে না।’

অর্থাৎ অপ্রাপ্তবয়স্ক খেলোয়াড়কে ধরে রাখতে তাঁকে কিংবা তাঁর পরিবারকে অর্থ দিয়ে প্রলুব্ধ করা আইনবহির্ভূত। এ নিয়মকে পাশ কাটিয়ে আলমেইদাকে ধরে রাখতে সিটি চমকপ্রদ এক পথ বের করে।

আলমেইদার বাবা আলমেইদা সিনিয়রকে ক্লাবের স্কাউটিং বিভাগে (প্রতিভা অন্বেষণ) ভুয়া চাকরিতে নিয়োগ দেয় তারা। সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাথলেটিক’ জানিয়েছে, ক্লাবে আলমেইদা সিনিয়রের কোনো কাজ ছিল না। ওদিকে আলমেইদার পরিবারকে টাকাও পাঠিয়েছে সিটি।

খেলোয়াড়টিকে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে থাকতে প্রলুব্ধ করতে এই টাকা পাঠানো। আর আলমেইদা সিনিয়রের কথিত চাকরিটা ছিল আইনসিদ্ধ পথে চলাটা দেখানোর কৌশল।

সংবাদমাধ্যমকে আলমেইদা সিনিয়র জানিয়েছেন, ক্লাবের হয়ে তিনি তেমন কোনো কাজই করেননি। কিন্তু ২০১১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১২ জুন পর্যন্ত প্রতি মাসে প্রায় এক হাজার পাউন্ড করে পেয়েছে তাঁর পরিবার।

প্রতিভা অন্বেষণে সিটির স্কাউটিং বিভাগের দুটি অনুশীলন সেশনে অংশ নিয়েছিলেন আলমেইদা সিনিয়র। কিন্তু সেই সেশনগুলো পুরো ইংরেজি ভাষায় হওয়ায় এক বর্ণও বুঝতে পারেননি এই ব্রাজিলিয়ান।

অ্যাথলেটিককে আলমেইদা সিনিয়র বলেন, ‘সত্যটা হলো, তারা (সিটি) আমাকে টাকা দিয়েছে কিন্তু আমি কোনো কাজ করিনি। তারা আমার সঙ্গে কৌশল খাটিয়েছে। কারণ, আমি ইংরেজি বুঝতাম না। তারা আমার জন্য দুটি সেশনের ব্যবস্থা করেছিল ম্যানচেস্টার সিটির ভেতরে।’

সংবাদমাধ্যম আলমেইদার পরিবারে টাকা পাঠানোর রসিদও বের করেছে। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে আলমেইদার পরিবারকে সর্বোচ্চ ১৩১৩.২৫ পাউন্ড পাঠিয়েছে সিটি।

এদিকে ইংলিশ ক্লাবটির পক্ষ থেকে নিয়ম লঙ্ঘনের এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়েছে, ক্লাব ‘এমন কোনো নিয়মবহির্ভূত কাজ করার দাবি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করছে।’

সিটির পর করিন্থিয়ান্স, ইন্টারন্যাসিওনালের বয়সভিত্তিক দল ঘুরে আলমেইদা এখন স্ট্রেটফোর্ড প্যাডকে খেলছেন, সেই ইংলিশ ফুটবলেই।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন