ম্যারাডোনার ফেরার অপেক্ষায় হাসপাতালের সামনে দাঁড়ানো তাঁর ভক্তদের একজন।
ম্যারাডোনার ফেরার অপেক্ষায় হাসপাতালের সামনে দাঁড়ানো তাঁর ভক্তদের একজন।ছবি: রয়টার্স

সেদিন হয়তো একটু বেশি পান করে ফেলেছিলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। ফল? আরও খারাপ শরীর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারও হয়েছে তাঁর। মস্তিষ্কে রক্ত জমাট (ক্লট) বেঁধে ছিল। সফল অস্ত্রোপচারের পর বিপদমুক্ত ম্যারাডোনা। কিন্তু শিগগিরই হাসপাতাল ছাড়তে পারছেন না।

সব সময় যেটিকে ‘বন্ধু’ বানিয়ে কাছে টেনে নিয়েছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি, তাঁর শরীরে সেই অ্যালকোহলের স্বেচ্ছাচারিতার প্রভাব যে এখন স্পষ্ট। মদ্যপানের অভ্যাস থেকে বিরতি থাকার পর শরীরে যেসব উপসর্গ ও প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, সেসব কারণেই আরও কিছুদিন হাসপাতালে থাকতে হবে ১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন কিংবদন্তিকে।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ম্যারাডোনার অ্যালকোহলের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে চিকিৎসক দল। বহু দিন ধরে অ্যালকোহল পানের অভ্যাস থেকে সরে এলে শরীর কিছু উপসর্গে ভোগে। ম্যারাডোনা যেন এসব উপসর্গে ভুগে অসুস্থ হয়ে না পড়েন, সে জন্য ওষুধের মাধ্যমে তাঁকে শান্ত রাখছেন চিকিৎসকেরা।

বিজ্ঞাপন

তাঁর চিকিৎসক দলের সদস্য আলফ্রেদো কাহে জানিয়েছেন, মদ্যপান থেকে দূরে থাকার প্রতিক্রিয়া হিসেবে চৈতন্য হারানোর মতো সমস্যায় ভুগছেন ম্যারাডোনা। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসকে কাহে বলেন, ‘মদপান বন্ধ করতে তাঁকে চিকিৎসা নিতেই হবে। তাঁর পরিবারের সবাই একমত যে ডিয়েগো এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে। আমাদের এখন সাহস ও প্রতিজ্ঞা নিয়েই (ম্যারাডোনার মদপানের অভ্যাসের বিপক্ষে) মুখোমুখি লড়াইয়ে নামতে হবে।’

default-image

আলফ্রেদো কাহে আরও জানান, তাঁর (ম্যারাডোনা) যকৃতে সমস্যা আছে। হৃৎপিণ্ডজনিত সমস্যাও আছে। শুধু মস্তিষ্ক নয়, যকৃৎ ও পাকস্থলীও ভুগছে। সমস্যাটা তাই মিশ্র ও জটিল। আগে ডিয়েগোকে এসব থেকে মুক্ত করতে হবে, তারপর দেখা যাবে কী ঘটে। তাঁর অবস্থা এখনো জটিল।

ম্যারাডোনা আর্জেন্টাইন ফুটবলের কিংবদন্তি। অনেকের চোখে সর্বকালের সেরা ফুটবলার। ১৯৮৬ বিশ্বকাপ প্রায় একাই জিতিয়েছেন আর্জেন্টিনাকে। কিন্তু তাঁর জীবনযাপনের ধরন সব সময়ই বিতর্ক কুড়িয়েছে। নিষিদ্ধ ড্রাগ নেওয়ায় তাঁর ক্যারিয়ারের শেষটা মোটেও ভালো হয়নি। কোকেন সেবনের অভিযোগও রয়েছে ম্যারাডোনার বিরুদ্ধে। মোটকথা, এমন জীবনযাপনের কারণে এর আগে বেশ কয়েকবার হাসপাতালে যেতে হয়েছে ম্যারাডোনাকে।

default-image

৬০ বছর বয়সী সাবেক এ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার বুয়েনস এইরেসের হাসপাতালে অস্ত্রোপচারে পর থেকেই বাসায় ফেরার জন্য পীড়াপীড়ি শুরু করেছেন। কিন্তু কাহে জানান, ম্যারাডোনাকে এ মুহূর্তে কোনোভাবেই একা ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।

বিজ্ঞাপন

এক দশকের বেশি সময় ধরে ম্যারাডোনার নানা স্বাস্থ্যগত সমস্যার চিকিৎসা করছেন কাহে। এ কারণে ম্যারাডোনার শরীর এখন কেমন সাড়া দিচ্ছে, সে বিষয়ে আলফ্রেদো কাহের খুব ভালো জানাশোনা থাকাই স্বাভাবিক।

কাহে বলেন, ‘ডিয়েগোর সামনের দিনগুলোয় কী ঘটবে, সেটা একটা রহস্য। এটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। তিনি এভাবে বাসায় ফিরতে পারেন না।’ কাহে মনে করেন, ম্যারাডোনার ‘এমন জায়গায় থাকা উচিত, যেখানে তিনি স্থায়ীভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া লোক পাবেন।’ আর্জেন্টিনার ক্লাব জিমনাসিয়ার কোচের দায়িত্বে আছেন ম্যারাডোনা। অসুস্থ হওয়ার আগে গত ৩০ অক্টোবর তাঁর ৬০তম জন্মদিনে সর্বশেষবার ম্যারাডোনা যখন প্রকাশ্যে এসেছিলেন, তখন তাঁকে বেশ দুর্বলই লেগেছে সবার।

এবারের জন্মদিনটা যে ম্যারাডোনার ভালো কাটল না, সে কথা বলাই বাহুল্য।

মন্তব্য পড়ুন 0